Monday, 10 April 2023

ছন্দ রশ্মি তত্ব।

 সৃষ্টিনির্মানে ছন্দরশ্মির ভূমিকাঃ


নিরুক্তে এবং ব্রাহ্মণগ্রন্থে "ছন্দ" শব্দটির অনেক প্রকার নিচর্বাচন বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সৃষ্টির প্রারম্ভে ঋষিগন বেদ মন্ত্র হিল্লোল/স্পন্দন #ছন্দ রূপে প্রহণ করেছিলেন। বেদে সাতটি মুখ্য ছন্দ আছে, গায়ত্রী, উষ্ণিক, অনুষ্টুপ, বৃহতী, পংক্তি, ত্রিষ্টুপ ও জগতী। এই গায়ত্রীই সকল ছন্দের মূল, গায়ত্রী ত্রিপদা, অষ্টাক্ষরা। এর তিন চরণে ২৪টী অক্ষর থাকে। 


গায়েত্রী ছন্দ রশ্মি অন্য ছন্দ রশ্মিগুলোর তুলনায় সূক্ষ্মতম কিন্তু সর্বাধিক তেজস্বিনী হয়ে থাকে আর এই সাতটি ছন্দতে এর গতিই সবচেয়ে বেশি [শতপথ ব্রাহ্মণ ৮/২/৩/৯]। মনস্তত্বতে যখন সূক্ষ্ম প্রকাশ হবে এরূপ মুহূর্তে অর্থাৎ ওম রশ্মি যখন মনস্তত্বকে অনুপ্রাণিত করা শুরু করে তখন যে সর্বপ্রথম স্পন্দন মনস্তত্বতে হয় তাকে গায়েত্রী ছন্দ বলে। অর্থাৎ এই সৃষ্টিতে সর্বপ্রথম উৎপন্ন কম্পনই (স্পন্দন) হলো গায়েত্রী ছন্দ আর সর্বপ্রথম উৎপন্ন কম্পন যেটি হলো ওম সেটিই গায়েত্রী। গায়েত্রী ছন্দ দ্বারাই সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরা ওম রূপ গায়েত্রীই মনস্তত্বকে সামনের অন্য স্পন্দনগুলোকে উৎপন্ন করার জন্য প্রেরিত করতে থাকে আর মনস্তত্বতে যে পশ্যন্তী ওম রশ্মি স্পন্দন করে সেটিও সর্বপ্রথম গায়েত্রী ছন্দ রশ্মিকেই উৎপন্ন করে [ নিরুক্ত ৭/১২]। সৃষ্টি প্রক্রিয়াতে সর্বপ্রথম যে রশ্মিগুলো উৎপন্ন হয় ওসবগুলোই গায়েত্রী ছন্দ রশ্মি এবং সংযোগ বিয়োগের যে ক্রিয়া হয় তা অকস্মাৎ দ্রুত এর মধ্যেই ঘটে থাকে। সৃষ্টি প্রক্রিয়ার প্রথম চরণে গায়েত্রী ছন্দ রশ্মির সংখ্যা অন্যান্য রশ্মির চেয়ে সর্বাধিক থাকে [জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ২/১০১]। 

সৃষ্টিতে প্রকাশ, বিদ্যুৎ, অগ্নি, উষ্মা, আবেশ ইত্যাদির উৎপত্তি যেখানেই হয় সেখানে অন্য রশ্মির তুলনায় গায়েত্রী ছন্দ রশ্মির প্রধানতা সর্বাধিক থাকে। অর্থাৎ প্রকাশ, বিদ্যুৎ, অগ্নি, উষ্মা, ফোটনে সর্বাধিক মাত্রা গায়েত্রী ছন্দ রশ্মির থাকে। এই সব উৎপন্ন করতে প্রথম ভূমিকা হলো গায়েত্রী ছন্দ রশ্মি। সৃষ্টিতে যেখানেই কোনো কণার মাঝে সংযোগ বিয়োগ ক্রিয়া হয় আর তাতে যে সৃষ্টিতে প্রকাশ, বিদ্যুৎ, অগ্নি, উষ্মা, আবেশ হয় সেখানে গায়েত্রী ছন্দ রশ্মি হয়। সৃষ্টিতে যত প্রকাশিত অপ্রকাশিত লোক, পৃথ্বিয়াদি, গ্রহ, উপগ্রহ, তারা, উল্কা-পিন্ড, ধূমকেতু, মহাকাশ আদিতে গায়েত্রী ছন্দ রশ্মি সর্বত্র সর্বদা এই সম্পূর্ণ ব্রহ্মান্ডে বিদ্যমান থাকে [তাণ্ড্য ব্রাহ্মণ ১৩/৭/২]।

ঐতরেয় আরণ্যক ২/১/৬____  গায়েত্রী ছন্দ রশ্মি প্রাণ রশ্মিকে ত্বকের নেয় আবৃত করে। অর্থাৎ গায়েত্রী ছন্দ রশ্মি প্রাণ রশ্মিকে সর্বদা ঢেকে (আচ্ছাদিত) করে রাখে। তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ ৭/৩/৭ ___ গায়েত্রী ছন্দ রশ্মি হলো অন্য ছন্দ রশ্মি মুখ। অর্থাৎ এটি ছন্দ রশ্মিকে বিভিন্ন ক্রিয়ার জন্য প্রেরিত করে। গায়েত্রী ছন্দ রশ্মি প্রাণ রশ্মিকে চারিদিকে আচ্ছাদিত করে ঢেকে রাখে অর্থাৎ প্রাণ রশ্মি আর ছন্দ রশ্মির (গায়েত্রী আদি) মিথুন (যুক্ত) না হলে সৃষ্টিও হবে না [শতপথ ব্রাহ্মণ ১/৪/১/২]। গায়েত্রী ছন্দ রশ্মিগুলো এই সৃষ্টির বীর্য রূপ কারণ সৃষ্টি তৈরী হতে মনস্তত্বতে এই ছন্দ রশ্মিগুলো অন্য ছন্দ রশ্মিগুলোকে বীজ বোনার ক্রিয়া করে থাকে [শতপথ ব্রাহ্মণ ১/৩/৫/৪]। গায়েত্রী ছন্দ রশ্মিতে প্রকাশ থাকে আর অন্য ছন্দ রশ্মিকেও প্রকাশিত করে [শতপথ ব্রাহ্মণ ১/৩/৪/৬]।


🎯উষ্ণিক ছন্দ রশ্মি গায়েত্রী ছন্দ রশ্মিকে আবৃত করে আর অন্য ছন্দ রশ্মিতে পারস্পরিক আকর্ষণীয় ভাব সমৃদ্ধ করে এবং অধিক কান্তিযুক্ত (প্রকাশময়) বানায় [নিরুক্ত ৭/১২, দৈবৎ ব্রাহ্মণ ৩/৪ ]। ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ১/৫, কৌষীতকি ব্রাহ্মণ ১৭/২___ উষ্ণিক ছন্দ রশ্মি বিভিন্ন ছন্দ রশ্মিতে সংযোজকতার গুণ বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ যৌগিক কণা যাই হোক না কেন তাদের ক্রিয়াকে সমৃদ্ধ করে।

শতপথ ব্রাহ্মণ ৮/৬/২/১১___উষ্ণিক ছন্দ রশ্মিগুলো অন্য ছন্দ রশ্মি থেকে নির্গত যে সকল সূক্ষ্ম ছন্দ রশ্মিগুলো আছে তাদের শোষণ করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন ছন্দ রশ্মি যেমন গায়েত্রী ছন্দ রশ্মি রয়েছে যে সকল ছন্দরশ্মিকে ঢেকে রাখার কাজ করে তো এই উষ্ণিক ছন্দ রশ্মি সেই ঢেকে থাকা রশ্মির ওপর লোমের মতো সেই সকল ছন্দ রশ্মিকে নিরাপত্তা প্রদান করতে তাদের আবরণের কাজ করে [ঐতরেয় আরণ্যক ২/১/৬]। উষ্ণিক ছন্দ রশ্মি বিভিন্ন ছন্দ রশ্মিকে প্রকাশশীল বানায় [শতপথ ব্রাহ্মণ ১০/৩/১/১]।  নিরুক্ত ৭/১২, দৈবৎ ব্রাহ্মণ ৩/৭ – অনুষ্টুপ ছন্দ রশ্মি অন্য ছন্দ রশ্মিকে অনুকূলতা পূর্বক থামায় অর্থাৎ ব্রহ্মাণ্ডে বিভিন্ন ছন্দ রশ্মিগুলো নিজের কাজ করে আর যদি এমন সময় আসে যেখানে সেই রশ্মিগুলোতে শীতলতা আসে বা তাদের বল ক্ষীণ হতে থাকে এরূপ সময়ে অনুষ্টুপ ছন্দ রশ্মিগুলো তাদের সমর্থন করে, তারা তাদের কাজ করতে সাফল্য প্রদান করে। উষ্ণিক ছন্দ রশ্মি বজ্র স্বরূপ হয় এটি অন্য ছন্দ রশ্মিকে তীক্ষ্ণ বানাতে সাহায্য করে [জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ১/২০৯]।


👉অনুষ্টুপ ছন্দ রশ্মিগুলো সকল ছন্দ রশ্মিগুলোর যোনি অর্থাৎ সকল ছন্দ রশ্মিগুলোর এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি সকল ছন্দ রশ্মি উৎপত্তি হওয়ার মার্গ [তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ ১১/৫/১৭]। অনুষ্টুপ ছন্দ রশ্মির কোনো পদার্থকে ছেদন করার ক্ষমতা অন্য ছন্দ রশ্মির থেকে অনেক বেশি [ঐতরেয় আরণ্যক ২/১/৬, ১/১/৩]। অনুষ্টুপ ছন্দ রশ্মিগুলোর দ্বারা অগ্নি তত্বকে ধারণ করা হয় ও অগ্নি তত্ব এর মধ্যে বিদ্যমান থাকে। সৃষ্টিতে যেখানেই উষ্ণতা তাপমান আছে সেখানে অনুষ্টুপ ছন্দ রশ্মিগুলোর প্রমুখ ভূমিকা থাকে [কাঠক সংহিতা ১৯/৫]। কাঠক সংহিতা ১৯/৩___ অনুষ্টুপ ছন্দ রশ্মি যজ্ঞ রূপ হয়। অর্থাৎ সমস্ত সৃষ্টির সংগতিকরণ, সংযোগীকরণ ও সংঘনাতে এর মূখ্য ভূমিকা থাকে।


📌বৃহতী ছন্দ রশ্মিগুলো অন্য সকল রশ্মিকে, বিভিন্ন জগৎকে, সূক্ষ্ম কণাকে, ফোটনসকে ঘিরে ধরে নিজের বৃদ্ধি করতে থাকে; অর্থাৎ ব্রহ্মাণ্ডে যখন এই পদার্থগুলোর নির্মাণ হতে শুরু করে তো প্রাণ আর ছন্দ রশ্মিগুলো ঘনীভূত হতে থাকে তো তাকে সংযোজিত করতে সূত্রাত্মা বায়ুর মুখ্য ভূমিকা থাকে তখন বৃহতী ছন্দ রশ্মি তার মধ্যে সংযোজিত আর ঘনীভূত হয়ে পিন্ডের আকার নির্মাণ করে [নিরুক্ত ৭/১২]। বিভিন্ন রশ্মির যখন সঙ্কোচন ও সংঘাত হয় তো সেই সঙ্কোচনে বৃহতী ছন্দ রশ্মিগুলোর প্রমুখ ভূমিকা থাকে [তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ ৭/৪/৩]। মহাকাশে (আকাশ মহাভূত) বৃহতী ছন্দ রশ্মির প্রমুখ ভূমিকা থাকে। বৃহতী ছন্দ রশ্মিগুলোর কারণেই মহাকাশ যেকোনো পদার্থকে সংকুচিত করে {তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ ৭/৩/৯]। জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ১/২৯০, ২/৭ শতপথ ব্রাহ্মণ ১০/৫/৪/৬__ ব্রহ্মান্ডে সকল নক্ষত্রের (সূর্যের) ঘনত্বের নির্মাণে বৃহতী ছন্দ রশ্মিগুলোর মুখ্য ভূমিকা থাকে। জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ১/৩১৬, ১/২৫৪___সকল ছন্দ রশ্মির বৃহতী ছন্দ রশ্মিগুলোর কারণেই একত্রিত হয়ে থাকে, ওই সকল ছন্দ রশ্মিকে বেঁধে রাখার কাজ বৃহতী ছন্দ রশ্মিগুলো করে।


🔰পঙ্কতি ছন্দ রশ্মি পাঁচ প্রকারের গতিতে যুক্ত থাকে [ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৫/১৮, ৬/২০]। মহর্ষি দয়ানন্দ যজুর্বেদ ভাষ্য ২৩/৩৩, গোপথ ব্রাহ্মণ পূর্বার্দ্ধ ৫/৪, শতপথ ব্রাহ্মণ ১২/২/৪/৬ - পঙ্কতি ছন্দ রশ্মিগুলো ছড়িয়ে উৎপন্ন হয়। এটি নানান প্রকারের ক্রিয়াগুলোকে বিস্তৃত করে। বিভিন্ন রশ্মির ক্রিয়াগুলোকে এটি বিস্তার প্রদান করে তাকে ছড়িয়ে দেয়। পঙ্কতি ছন্দ রশ্মি যজ্ঞমান স্বরূপ হয়। অর্থাৎ এই রশ্মি পদার্থের মধ্যে সংযোগ বিয়োগ ক্রিয়াকে সম্পন্ন করে [ মৈত্রায়ণী সংহিতা ৩/৩/৯]। পঙ্কতি ছন্দ রশ্মি মজ্জার মতো ব্রহ্মান্ডে কার্য করে [ঐতরেয় আরণ্যক ২/১/৬]। শতপথ ব্রাহ্মণ ১০/৩/১/১, কাঠক সংহিতা ৩৯/৮__পঙ্কতি ছন্দ রশ্মি অন্য ছন্দ রশ্মিগুলোকে বিস্তার প্রদান করে সংযোগ বিয়োগ আদির ক্রিয়াকে বিস্তৃত করে।


🔥ত্রিষ্টুপ ছন্দ রশ্মি অন্য সকল রশ্মির নাভি তুল্য। ত্রিষ্টুপ ছন্দ রশ্মি বৃহতী ছন্দ রশ্মির সাথে মিলে সম্পূর্ণ পদার্থ, ব্রহ্মান্ডকে বেঁধে রাখে [জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ১/২৫৪]।  ত্রিষ্টুপ ছন্দ রশ্মি উৎপাদক ক্ষমতায় বিশেষ যুক্ত হয়ে থাকে। ব্রহ্মান্ডে সকল কণা, পদার্থ, লোক লোকান্ত্রের নির্মাণে অন্য রশ্মির যে নিজ নিজ ভূমিকা থাকে সেসব রশ্মিকে ত্রিষ্টুপ রশ্মি বল শক্তি প্রদান করে আর তাদের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয় [ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৬/১২]। তারার কেন্দ্র ভাগে যে একীকরণ ক্রিয়া হয় ওখানে ত্রিষ্টুপ ছন্দ রশ্মির ভূমিকা মুখ্য থাকে [তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ ৭/৩/৯]। জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ১/১৩২, ৩/২০৬ - ব্রহ্মান্ডে যে তীক্ষ্ণ বিদ্যুৎ তরঙ্গ (তড়িৎ) হয় ওই বিদ্যুতের বজ্র ও দীপ্তিতে ত্রিষ্টুপ ছন্দ রশ্মির ভূমিকা থাকে [শতপথ ব্রাহ্মণ ৬/৬/২/৭]। যতগুলো ছন্দ রশ্মি আছে তাদের মধ্যে দুটি ছন্দ রশ্মি (ত্রিষ্টুপ ও গায়েত্রী) সব থেকে অধিক বীর্যবান, তেজস্বিনী, ভেদক ক্ষমতা অত্যাধিক আর প্রেরক ক্ষমতা সর্বাধিক আছে [ তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ ২০/১৬/৮]। তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ১/১/৯/৬____ব্রহ্মান্ডে যেখানেই যত ত্রিষ্টুপ ছন্দ রশ্মি হবে সেখানে ততই প্রকাশ, তেজ, বল, ভেদন শক্তি হবে। দৈবৎ ব্রাহ্মণ ৩/১৪, ৩/১৫ হতে জানা যায় ব্রহ্মান্ডে সকল ছন্দ রশ্মি যারা নিজের নিজের কার্য করে তাদের মধ্যে কিছু ছন্দ রশ্মি দুর্বল হতে থাকে তো তাদের ত্রিষ্টুপ ছন্দ রশ্মি সাহায্য করে বল এবং শক্তি প্রদান করে। ত্রিষ্টুপ ছন্দ রশ্মি বিভিন্ন কণা, রশ্মি আর তরঙ্গকে তিন প্রকারে থামিয়ে রাখে [নিরুক্ত ৭/১২]। ত্রিষ্টুপ ছন্দ রশ্মি বজ্র রূপ হয় ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ২/১৬। ত্রিষ্টুপ ছন্দ রশ্মি মহাকাশে প্রচুর মাত্রায় থাকে। এই রশ্মিগুলো মহাকাশকে আবদ্ধ করে রাখে [জৈমিনীওপনিষদ ব্রাহ্মণ ১/১৭/৩/৩]। মহাকাশে ত্রিষ্টুপ ছন্দ রশ্মির প্রধানতা থাকে [শতপথ ব্রাহ্মণ ৮/৩/৪/১১]।


🌀জগতী ছন্দ রশ্মি সর্বাধিক দূর গতি কারক হয়ে থাকে আর এর গতি জলের ঢেউ এর মতো হয়। এই রশ্মিগুলি সবার শেষে উৎপন্ন হয়ে থাকে। অর্থাৎ জগতী ছন্দ রশ্মিগুলির কম্পন দূরগামী হয় কিন্তু এর কম্পন করার গতি অন্য ছন্দ রশ্মির তুলনায় ধীরগতির হয়ে থাকে। অর্থাৎ ব্যাপক কিন্তু ধীর [নিরুক্ত ৭/১৩]। সম্পূর্ণ জগৎ এই জগতী ছন্দ রশ্মিগুলিতে প্রতিষ্ঠিত [শতপথ ব্রাহ্মণ ১/৮/২/১১]। জগতী ছন্দ রশ্মি বিভিন্ন কণা ও কোয়ান্টজকে আবদ্ধ করে আর সংযোগ ক্রিয়া হেতু তাকে প্রেরিত করে [ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৩/৪৭]। জগতী ছন্দ রশ্মি বিভিন্ন পদার্থকে শক্তিশালী করে তোলে। এই রশ্মিগুলি পদার্থের যে সংযোগ ও বিয়োগ করে এটা তাকে অবশোষিত করে তাকে শক্তিশালী করে [তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ ২১/১০/৯]।

জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ১/৯৩, ষদ্বিংশ ব্রাহ্মণ ২/৩__জগতী ছন্দ রশ্মি বিভিন্ন প্রকারের পদার্থের উৎপত্তিতে সহায়ক হয়। নক্ষত্র আদি (সূর্য) লোকে যে শোষণ-নির্গমনের ক্রিয়া হয় তাতে জগতী ছন্দ রশ্মিগুলির প্রমুখ ভূমিকা থাকে [গোপথ ব্রাহ্মণ উত্তরার্দ্ধ ২/৯]। সকল প্রকারের কণা ও কোয়ান্টজকে নিয়ে যেতে, তাদের গতি প্রদান করতে জগতী ছন্দ রশ্মির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে [শতপথ ব্রাহ্মণ ৮/৬/২/৩, ঐতরেয় আরণ্যক ২/১/৬, মৈত্রায়ণী সংহিতা ৩/১৩/১৭]।


বৈদিক শব্দ কখনো ছিন্ন (নষ্ট) হয় না। বৈদিক শব্দ (মন্ত্র/ঋচা/ছন্দ) দ্বারা সম্পূর্ণ ব্রহ্মান্ড তৈরি হয়। আর সেই অক্ষরগুলো দিয়ে উৎপন্ন বিভিন্ন রশ্মির দ্বারা এই সম্পূর্ণ ব্রহ্মান্ড তৈরী হয়েছে।

সৃষ্টির প্রলয়ের পশ্চাতেও যখন কোনো কিছু থাকে না তখনও এই অক্ষর অব্যাক্ত রূপে মূল পদার্থ (প্রকৃতি) তে বিদ্যমান থাকে। অক্ষররের নিবাস বাণীতে হয়। অক্ষর রূপ রশ্মিগুলি সম্পূর্ণ ব্রহ্মান্ডের (অক্ষ)আধার হয়ে থাকে। অর্থাৎ এই সম্পূর্ণ ব্রহ্মান্ডে উপস্থিত পদার্থ (সূর্য, চাঁদ, আকাশ, মহাকাশ, উল্কা, ধূমকেতু, গ্রহ, উপগ্রহ, তারা, সৌরজগত) এই বৈদিক অক্ষর (বেদ মন্ত্র)গুলো দ্বারা নির্মিত। তথা এই সমস্ত পদার্থগুলোতে এই বৈদিক অক্ষর সর্বত্র বিদ্যমান রয়েছে [ নিরুক্ত ১৩/১২]।


আমরা জানি যে এই সৃষ্টির মধ্যে যেসব ক্রিয়াই হচ্ছে, তার পিছনে চেতন তত্ত্ব ঈশ্বরের ভূমিকা আছে। তাছাড়া প্রাণীদের শরীরের মধ্যে জীবাত্মা রূপী চেতন তত্ত্বেরও ভূমিকা আছে। আমরা এখানে ঈশ্বর তত্ত্বের ভূমিকার চর্চা করবো। ঈশ্বর কি সূক্ষ্ম-সূক্ষ্ম কণা, কোয়ান্টা আদির থেকে শুরু করে বড়-বড় লোক লোকান্তরের ঘূর্ণন ও পরিক্রমণ, তাদের ধারণ, আকর্ষণ, প্রতিকর্ষণ বলের প্রত্যক্ষ কারণ? না, ঈশ্বর সূর্যাদি লোক ও ইলেকট্রন্স আদি কণাগুলোকে ধরে ঘোড়ায় না বা চালায় না, বরং এইসব পদার্থ সেই বিভিন্ন বল, যাকে বর্তমান বিজ্ঞান জানে বা জানার চেষ্টা করছে, তাদের দ্বারা নিজ-নিজ কাজ করছে। তবে হ্যাঁ, এইসব বলের উৎপত্তি যেসব প্রাণ ও ছন্দাদি পদার্থ দ্বারা হয়েছে, বর্তমান বিজ্ঞান তাদের এতটুকুও জানে না। এই কারণে বর্তমান বিজ্ঞান দ্বারা মান্যতা এমন মূলবলের উৎপত্তি এবং ক্রিয়াবিধির সমুচিত ব্যাখ্যা করতে এই বিজ্ঞান অক্ষম। এই মূলবলের উৎপত্তি এবং নিয়ন্ত্রণ এই বিবিধ প্রকারেরই প্রাণ ও ছন্দাদি রশ্মির দ্বারা হয়। কথা এখানেই শেষ নয়, এই প্রাণ ও ছন্দাদি রশ্মিগুলোও মন এবং সূক্ষ্ম বাক্ তত্ত্বের মিথুন দ্বারা উৎপন্ন ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এই কারণে মন এবং সূক্ষ্ম বাক্ তত্ত্বের স্বরূপ ও ব্যবহারকে না জেনে প্রাণ ও ছন্দাদি রশ্মিগুলোর এবং তারথেকে উৎপন্ন বিভিন্ন কথিত মূলবলগুলোর (গুরুত্ব, বিদ্যুৎ চুম্বকীয়, নাভিকীয় বল এবং দুর্বল বল) স্বরূপ ও ক্রিয়াবিজ্ঞানের যথাযত বোধ হওয়া সম্ভব নয়।


ধ্যাতব্য হল যে, মন ও বাক্ তত্ত্বও জড় হওয়ার কারণে স্বয়ং কোনো কাজের মধ্যে প্রবৃত্ত হওয়ার সামর্থ্য রাখে না। এদের প্রবৃত্তকারী সকলের মূল তত্ত্ব হল চেতন ঈশ্বর। তিনিই এই মন এবং সূক্ষ্ম বাক্ তত্ত্বকে প্রেরিত করেন। এদের মাঝে একটা কাল তত্ত্বও থাকে কিন্তু সেটাও জড় হওয়ায় ঈশ্বর তত্ত্বের দ্বারা প্রেরিত হয়ে কাজ করে। এইভাবে কাজ করতে কিংবা প্রেরক এবং প্রেরিত পদার্থ, নিয়ামক ও নিয়ম্য তত্ত্বের শৃঙ্খলা হচ্ছে এই রকম -


চেতন ঈশ্বর তত্ত্ব কাল তত্ত্বকে প্রেরিত করে। কাল তত্ত্ব মন-বাক্ তত্ত্বকে প্রেরিত করে, পুনঃ মন এবং বাক্ তত্ত্ব প্রাণ ও ছন্দাদি রশ্মিগুলোকে প্রেরিত করে। তারপর সেই প্রাণ ও ছন্দাদি রশ্মি আধুনিক কথিত চার প্রকারের মূলবলকে উৎপন্ন ও প্রেরিত করে, তার পশ্চাৎ সেই চারটা বল (বস্তুতঃ বলের সংখ্যা অনেক অধিক আছে, যা সকল প্রাণাদি রশ্মির কারণেই উৎপন্ন হয়) সমস্ত সৃষ্টিকে উৎপন্ন ও সঞ্চালিত করতে সহায়ক হয়।


এইভাবে ঈশ্বর তত্ত্ব প্রত্যেক ক্রিয়ার সময় কেবল কাল বা ওম্ ছন্দ রশ্মিকেই প্রেরিত করে, সেটা অগ্রিম প্রক্রিয়াকে আগে বাড়িয়ে দেয়। এই তত্ত্ব এতই সূক্ষ্ম যে মানুষ কখনও এটাকে কোনোরূপ প্রয়োগ পর্যবেক্ষণ দ্বারা জানতে পারবে না। কেবলমাত্র উচ্চ কোটির য়োগীই এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে জানতে ও বুঝতে পারবে।

* collected*

Friday, 7 April 2023

জরুরী

 *আজ তামিলনাড়ু ব্রেকিং নিউজ*


 *হার্টের জন্য ডিজিটাল ওষুধ*

 (কার্ডিয়াক ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়াই হার্ট রিসাইকেল করা যায়)


 ছুরি ও রক্ত ​​ছাড়া অতি আধুনিক ইংরেজি ওষুধ।


 *১) কোন এনজিওগ্রাম নেই*


 *২) কোন বাইপাস সার্জারি নেই*


 *৩) অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বা স্টেন্ট নেই*


 দুটি সুপার আধুনিক মেশিন আবিষ্কৃত হয়েছে

 *1)CT-700*

 *2)EECP*


 *1) CT-700 নামের সবচেয়ে আধুনিক মেশিনটি আবিষ্কৃত হয়েছে যা এনজিওগ্রাম ছাড়াই হার্টের ব্লকেজ শনাক্ত করতে পারে*..


 এর জন্য দুই মিনিটই যথেষ্ট।

 এর জন্য হাসপাতালে থাকতে হবে না


 এই খরচও কম

 এটি শুধুমাত্র চেন্নাইতে দুটি জায়গায় করা হয়।


 প্রাথমিক পর্যায়ে হার্ট ব্লকেজ সনাক্তকরণ

 বড়ির মাধ্যমে নিরাময়ের একটি বড় সুযোগ আছে..


 এবং যে এখন

 *2) EECP* নামক অত্যাধুনিক মেশিনের মাধ্যমে বাইপাস সার্জারি এবং স্টেন্ট ছাড়াই হার্ট নিরাময় এবং পুনর্ব্যবহার করা যেতে পারে।


 সরকার অনুমোদিত চিকিৎসা ব্যবস্থা


 সত্য জানার জন্য

 *শ্রী বিবেকানন্দ হাসপাতাল*

 চেন্নাই

 08925015666

 08778463371

 09500037040

 04443192129


 *ডিআরজি  বিবেকানন্দন* ডক্টরস কনফারেন্স ইন্টারভিউতে

 এই খবর প্রকাশিত হয়েছে


 এতে উপকৃত হয়েছেন লাখ লাখ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগী।

T.S. কনকা আর্মি নিউরো সার্জেন

 সাল ১৯৬২। ভারত-চীন যুদ্ধ চলছে। সীমান্তে আহত জওয়ানদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আছে। সেই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরে যোগ দিলেন ...