Tuesday, 22 March 2022
Friday, 4 March 2022
পুঁথি দাদু
'পুঁথিদাদু' ....
হ্যাঁ বন্ধুরা, ইনি পুরুলিয়ার এক মহান মানুষ!
আড়ালেই রয়ে গেছেন, কেউ খোঁজ রাখেন না ...
প্রায় বছর সাতেক আগে এমন এক মহান মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় -- যাকে আশপাশের গ্রামের মানুষের কাছে তিনি 'পুঁথি দাদু' নামে পরিচিত! গ্রামের আট থেকে আশি , সবার কাছে তিনি এই নামেই পরিচিত। হয়ত আজও তিনি একইভাবে চারপাশের গ্রামের গরিব শিক্ষার্থীদের কাছে নয়নের মণি হয়েই আছেন। কাদের যেন 'বাংলার রত্ন' দেওয়া হয় ? কিন্তু আসল 'রত্ন ' যে গ্রামের কোন গভীরে লুকিয়ে থাকে, ক 'জন সে খবর রাখে ? আজ সেই 'পুঁথিদাদু' - র গল্প শোনাই!
নিজে স্কুলের গণ্ডিও পার হননি ৷ অথচ পড়ান কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের। ভাবা যায়! পেশায় কৃষক এই 'পুঁথিদাদু'র কাছে পড়তে আসেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ছাত্রছাত্রীরা৷ এহেন মানুষটির পড়াশোনা কিন্তু সপ্তম শ্রেণি অবধি৷ ছাত্রছাত্রীদের অনায়াস দক্ষতায় যখন সাহায্য করেন, তখন কে বলবে প্রথাগত ডিগ্রি নেই তাঁর ?
'জ্ঞান' যে প্রথাগত শিক্ষার ধার ধারে না, বোধহয় তিনি যেন এক জলজ্যান্ত উদাহরণ!
কেউ তাঁকে বলেন 'পুঁথিদাদু' আবার কেউ বলেন, তিনি হলেন -
'চলমান এনসাইক্লোপিডিয়া'৷ নিন্দুকেরা তো আবার তাঁকে ' 'বইপাগল ' - ও বলেন! তাঁর আসল নাম -- গুরুচরণ গড়াই ! তবে সেই নামে খোঁজ করলে অবশ্য ৭৭ বছরের এই বৃদ্ধকে চিনতে পারবেন না প্রায় কেউই ৷
পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি থানার 'বুড়দা' গ্রামের এই মানুষটাকে স্রেফ 'পুঁথিদাদু' নামে এক ডাকে চেনেন ব্লকের প্রায় সকলেই৷ আর চিনবে না-ই বা কেন ? সাহিত্য হোক বা ব্যাকরণ, দর্শন হোক অথবা সাধারণ জ্ঞান - এসব বিষয় নিয়ে পড়ুয়াদের মুশকিল আসান 'পুঁথিদাদু ও তাঁর গ্রন্থাগার'!
প্রায় ১৬-১৭ বছর বয়সে পুরুলিয়ার বাগমুন্ডির 'বুড়দা' গ্রামের 'পুঁথিদাদু' ধরলো বইয়ের নেশায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি নতুন বইয়ের গন্ধে পাগল হয়ে যেতেন। কিন্তু বেশি বই কেনার পয়সা ছিল না। স্কুলে পড়ার সময় গ্রামে কারেও নতুন বই এসেছে শুনলেই ছুটে যেতেন। মাত্র এগারো বয়সেই পিতৃহারা হন। অল্প বয়সেই সংসারের জোয়াল এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। মাঠে লাঙল দিতে গিয়েও মন পড়ে থাকতো সেই গল্পের পাতায়। ধান বিক্রি করে তিনি নতুন বই কিনতেন।
জন্মের পর কোনদিন ঠাকুরদাকে দেখেননি। কিন্তু তাঁর লেখা পড়েই সাহিত্য ও পড়াশুনার প্রবল আগ্রহ জন্মায় 'পুঁথিদাদু'র। তাঁর দাদু ছিলেন গদাধর গরাঁই। তিনিও ছোট গল্প লিখতেন। যদিও সেই লেখাগুলো ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হয়নি কোনোদিনও। তবু এই বইগুলো ছিল তাঁর প্রেরণা। ঠিক করেন বিভিন্ন বই জোগাড় করে গ্রামের মানুষদের জন্য লাইব্রেরি বানাবেন। সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ‘চৈতন্য গ্রন্থাগার’৷ শুরু করলেন ১০০ টি বই নিয়ে , তারপর বইয়ের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি হয়ে দাঁড়ালো বেশ কয়েক বছরেই! কিন্তু বই রাখার কোনো জায়গা ছিল না, তাই জ্যেঠুর কাপড়ের দোকান থেকে আলমারি কিনে বই রাখতে শুরু করেন।
সেখানে গেলেই বই পড়তে পাওয়া যায় সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে৷ পড়াশোনায় সাহায্যের জন্য 'পুঁথিদাদু' প্রস্তুত সবসময়৷ কোন বইয়ের কোন পাতায় কী লেখা রয়েছে -- সবই নখদর্পণে তাঁর! টিউশনের পয়সা পুরোটাই প্রায় খরচ হয়ে যায় সেই গ্রন্থাগারের পিছনেই৷ নিজেই জানালেন তাঁর নিজের ছোটবেলার কথা৷ মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবা মারা গিয়েছিলেন৷ সংগ্রামের সেই শুরু। কিন্তু ভাঁটা পড়েনি বইপ্রীতিতে৷ অভাবে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। চেয়ে চিন্তে বই আনতেন গুরুচরণ। মা ফুটিবালা নিরক্ষর হলেও বইয়ের কদর জানতেন৷ হতদরিদ্র পরিবারে ধান বিক্রির টাকায় কেনা হত বই৷ ১৯৫০ সালে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হওয়ার বছর তিনেক পর ১৯৫৩ সালে নিজের বাড়িতে গ্রন্থাগার গড়ে তোলেন গুরুচরণ , তিনি নিজেই -- যার নাম দেন 'চৈতন্য গ্রন্থাগার' ! চাষের কাজের পাশাপাশি চলতে থাকে বই সংগ্রহের কাজ৷ সেই সঙ্গে পড়াশোনা৷ একটু স্বাচ্ছন্দ্যের আশায় ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে শুরু করেন৷ লোকমুখে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি৷ এখানেই শেষ নয়, সাহিত্যচর্চাও করেন গুরুচরণ৷ ‘কোরক’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর৷
গুরুচরণের দুই ছেলেও চাষবাস করেই সংসার চালান৷ সংসারে টানাটানি থাকলে কি হবে, বাবাকে উত্সাহ জোগান তাঁরা৷ 'পুঁথিদাদু'র বড় ছেলে শিবরাম গড়াই জানালেন, যতই দারিদ্র থাকুক, বাবাকে বাধা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই৷ একমুখ খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি। পরনে আধময়লা সাদা ধুতি৷ নিতান্তই সাধারণ চেহারার মানুষটা যে এমন অসাধারণ সাধনায় মেতে রয়েছেন, তা নিয়ে গর্বিত প্রতিবেশীরাও৷ 'বুড়দা' গ্রামের বাসিন্দা প্রাক্তন বিধায়ক তথা ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য কমিটির সদস্য নিশিকান্ত মেহেতা বলেছিলেন , 'পুঁথিদাদু ও তাঁর লাইব্রেরি না থাকলে এলাকায় এত দ্রুত শিক্ষার প্রসার ঘটত না৷ এখানে এমন কেউ নেই, যিনি পড়াশোনায় পুঁথিদাদুর সাহায্য নেননি।' অথচ কেন যে এমন একটি মানুষ কেন সরকারি সহায়তা পাননি, -- তার জবাব অবশ্য নেই প্রাক্তন বিধায়কের কাছে৷ 'চৈতন্য গ্রন্থাগারে' বিদ্যুত্ সংযোগ নেই৷ খরচ জোটাতে পারেননি বইপাগল গুরুচরণ৷ অন্ধকার নামলেই , লাইব্রেরিতে জ্বলে ওঠে কুপি৷ কালো অক্ষরে ডুবে যান ‘পুঁথিদাদু’৷
না -পাওয়ার ক্ষোভ নেই কোনও৷ অন্ধকার লাইব্রেরিতে বসে বললেন, "কিছু না পাই৷ জ্ঞানের আলো তো ছড়িয়ে দিতে পেরেছি৷"
'পুঁথিদাদু'র ছোট ছেলে হরেরাম বাবু দেখিয়েছিলেন , পুঁথিদাদু আর্যশাস্ত্র মহাভারত - এর চারটা পাতা ইঁদুরে কেটে দেওয়ার পরেও কীভাবে পুঁথিদাদু সেই পাতাগুলো নিজের হাতের লেখা দিয়ে মিলিয়ে দিয়েছেন। অন্য আরও বেশ কয়েকটি বইয়ের নষ্ট হয়ে যাওয়া পাতা তিনি নিজে লিখেছিলেন। 'পুঁথিদাদু'র লাইব্রেরিতে রয়েছে পুরোনো নানা দুর্লভ বই। রয়েছে রামায়ণ,মহাভারত,বাইবেল, নানা লেখকের বই। প্রায় তিরিশ রকমের গীতা রয়েছে।
এছাড়াও ইতিহাস,সংস্কৃত,বাংলা ব্যাকরণ, রবীন্দ্র সমালোচনার নানা গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর লাইব্রেরিতে সবচেয়ে পুরানো বই 'চৈতন্য চরিতামৃত'। এ ছাড়াও নানান প্রকাশকের বই রয়েছে।
যারা বইমেলা করেন , তারা কি শুধুই বইয়ের ব্যবসা করেন না কি বইপ্রেমীদের উদ্দেশ্যে কিছু বার্তা দিতে চান ? তাদের সংবর্ধনা আসরে অনেক লেখক - কবিদের তো সম্মান করতে দেখি ! তো বাংলার প্রান্তে যে এমন এক মহান বইপ্রেমী দীর্ঘদিন ধরে গরিব শিক্ষার্থীদের মনের মানুষ হয়ে আছেন -- সে খেয়াল তো কেউ রাখেন না ?
Thursday, 3 March 2022
দেবী স্বরস্বতীর পূজো ও কিছু কথা।
সরস্বতী পূজা কী ও কেনো?
কোনো হিন্দুকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, দেবী সরস্বতী কে ? বলবে, জ্ঞানের দেবী, বিদ্যার দেবী। আর ? আর কোনো তথ্য তার কাছে নেই। এরপর হয়তো দু’চার জন হিন্দু বলতে পারবে যে, সরস্বতী ব্রহ্মার স্ত্রী; কিন্তু এই জানাও যে ভুল এই লেখাটি পড়তে থাকলে তা এক সময় বুঝতে পারবেন।
আমরা যেমন- ব্যবসায়িক, বন্ধুত্ব বা বিবাহ এমনকি শিক্ষাগুরু ধরতে গেলেও তার সম্পর্কে ভালো করে জানার চেষ্টা করি এবং তারপর তার সাথে সম্পর্ক তৈরি করি; তেমনি যখন কোনো দেব-দেবীর পূজা আমরা করবো, তখনও আমাদের উচিত সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তার আরাধনা করা, তাহলেই কেবল আমাদের পূজ-প্রার্থনা সফল ও সার্থক হবে।
সরস্বতী পূজা সম্পর্কে যেহেতু এই লেখা, সেহেতু প্রথমেই যে প্রশ্নের মিমাংসা করতে হবে যে, দেবী সরস্বতী আসলে কে ? আবার আমরা সাধারণভাবে অনেকেই কোনো দেব-দেবীকে ছোট এবং কোনো দেব-দেবীকে বড় বলে মনে করি, কিন্তু কোনো দেব-দেবী ই যে ছোট বড় নয়, সকল দেব-দেবী ই যে সমান, এই লেখাটি পড়লে এই তত্ত্বেরওএকটা সংক্ষিপ্ত সমাধান পাবেন।
হিন্দুশাস্ত্র মতে, সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর হলো পরমব্রহ্ম, যাকে শুধু ব্রহ্মও বলা হয়। পরমাত্মারূপে এই ব্রহ্ম সবকিছুর মধ্যে বিরাজিত, এই জন্যই হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয়েছে,
“সর্বং খল্বিদং ব্রহ্ম”
এর অর্থ হলো- সকলের মধ্যে ব্রহ্ম বিদ্যমান। - (ছান্দোগ্য উপনিষদ, ৩/১৪/১, বেদান্ত দর্শন)
পরমব্রহ্ম, ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর, এই তিনটি রূপে তার কাজ সম্পন্ন করে থাকেন। ব্রহ্ম, যখন সৃষ্টি করেন, তখন তার নাম ব্রহ্মা; যখন তিনি পালন করেন, তখন তার নাম বিষ্ণু; যখন তিনি বিনাশ করেন, তখন তার নাম শিব বা মহেশ্বর। কিন্তু আমরা স্থূল দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করে ব্রহ্ম বা ঈশ্বরকে বিভক্ত করে- ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরে এই তিনভাগে বিভক্ত করেছি এবং এই তিনটি সত্ত্বাকে আলাদা আলাদা তিনটি রূপ দান করেছি। প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর আলাদা কোনো সত্ত্বা নয়, এগুলো জাস্ট তিনটি নাম এবং এই তিনটি নাম পরমব্রহ্ম বা ঈশ্বরের তিনটি কার্যকরী রূপের নাম মাত্র।
ব্রহ্ম এবং ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের ব্যাপারটা সহজে বোঝার জন্য একটি উদাহরণ দিচ্ছি। ধরুন, প্রধানমন্ত্রী বা মূখ্যমন্ত্রীর হাতে তিনটি পৃথক মন্ত্রণালয় রয়েছে; তো যখন প্রধানমন্ত্রী বা মূখ্যমন্ত্রী যে মন্ত্রণালয়ের হয়ে কাজ করেন বা ফাইলে সই করেন, তখন তিনি কিন্তু সেই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী বা মূখ্যমন্ত্রী। ব্রহ্মও ঠিক সেরূপ, তিনি যখন যে কাজ করেন, তখন সেই রূপের নামে কাজটি করেন, সেই তিনটি নামই হলো- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর।
এই ব্যাপারটা আর একটু পরিষ্কার করার জন্য বলছি, অনেকে বা সকলেই জানেন, বিষ্ণু পালনকর্তা। তাহলে বিষ্ণুর অবতারদের তো যুদ্ধ, ধ্বংস, বিনাশ এই সব করার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিষ্ণুর আংশিক অবতার রাম কি যুদ্ধ করে রাবনের বংশকে বিনাশ করে নি ? বিষ্ণুর পূর্ণ অবতার শ্রীকৃষ্ণ কি নিজে কংস, শিশুপালকে হত্যা করে নি ? কৃষ্ণ কি ভীমের মাধ্যমে জরাসন্ধ, দুর্যোধনকে হত্যা করায় নি ? পাণ্ডবদের মাধ্যমে কুরুবংশকে ধ্বংস করে নি ? বিষ্ণু যদি কোনো আলাদা সত্ত্বা হতো আর তার কাজ শুধু যদি পালন করা হতো, তাহলে কি সে এই যুদ্ধ, বিনাশগুলো করতো ? আসলে এগুলো করিয়েছেন ব্রহ্ম, আমাদের শাস্ত্রকারা তাদেরকে শুধু বিষ্ণুর অবতার হিসেবে কল্পনা করে ঘটনাগুলোকে ব্যাখ্যা করেছেন মাত্র। না হলে পৃথিবীতে এত বিষ্ণুর অবতার, সেই তুলনায় ব্রহ্মা ও শিবের কোনো অবতার নেই কেনো ? আসলে- ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরতো আলাদাকেউ নয়। ব্রহ্ম, যখন সৃষ্টি করেন, তখন তারই নাম ব্রহ্মা; যখন তিনি পালন করেন, তখন তারই নাম বিষ্ণু এবং যখন তিনি বিনাশ করেন, তখন তারই নাম শিব বা মহেশ্বর; যে কথা একটু আগেই বলেছি এবং যে কথা বলা আছে গীতার এই শ্লোকে-
“অবিভক্তংচ ভূতেষু বিভক্তমিব চ স্থিতম্।
ভূতভর্তৃ চ তজজ্ঞেয়ং গ্রসিষ্ণু প্রভবিষ্ণু চ।।”
অর্থ- পরমেশ্বরকে যদি যদিও সমস্ত ভূতে বিভক্তরূপে বোধ হয়, কিন্তু তিনি অবিভক্ত। যদিও তিনি সর্বভূতের পালক, তবু তাঁকে সংহার কর্তা ও সৃষ্টিকর্তা বলে জানবে।
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর আলাদা আলাদা কেউ নয়, তারা একই ব্রহ্মের বিভিন্ন রূপ; এইব্রহ্ম যখন কোনো কিছু সৃষ্টি করেন তখন তার নাম হয় ব্রহ্মা, আর যেহেতু যেকোনো কিছু সৃষ্টি করতেই লাগে জ্ঞান এবং প্রকৃতির নিয়ম হলো নারী ও পুরুষের মিলন ছাড়া কোনো কিছু সৃষ্টি হয় না, সৃষ্টি বলতে সাধারণ অর্থে এখানে মানুষকেই বোঝানো হচ্ছে, সেহেতু প্রকৃতির এই নিয়মকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই ব্রহ্মার নারীশক্তি হলো সরস্বতী, যাকে আমরা স্থূল অর্থে ব্রহ্মার স্ত্রী বলে মনে করি, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মার স্ত্রী বলে কিছু নেই, এমন কি ব্রহ্মা বলেও আলাদা কোনো সত্ত্বা নেই, লেখক কর্তৃক গল্প-উপন্যাসে, একাধিক চরিত্র সৃষ্টির মতো সবই ব্রহ্মের খেলা, এখানে ব্রহ্মই সবকিছু ।
যা হোক, কোনো কিছু তৈরি বা সৃষ্টি করতে হলে যেমন লাগে জ্ঞান, তেমনি সৃষ্টিকে নিখুঁত করার জন্য নজর রাখতে হয় চারেদিকে, এই চারিদেকে দৃষ্টি রাখার জন্যই কল্পনা করা হয়েছে ব্রহ্মার চারটি মাথা এবং তার নারীশক্তি সরস্বতীকে কল্পনা করা হয়েছে জ্ঞানের দেবী হিসেবে।
আজকের প্রধান প্রশ্ন হচ্ছে, দেবী সরস্বতী আসলে কে ? উপরের আলোচনা থেকে।
পরমব্রহ্ম বা ঈশ্বরের সৃষ্টিকারী রূপের নাম ব্রহ্মা আর ব্রহ্মার নারী শক্তির নাম সরস্বতী; এর মানে হলো সরস্বতীই ব্রহ্মা, আর ব্রহ্মা মানেই পরমব্রহ্ম বা ঈশ্বর, অর্থাৎ সরস্বতীই পরমেশ্বর বা ঈশ্বর। সরস্বতীকে ছোটো দেবী হিসেবে এতদিন মনে করে এলেও সরস্বতী মোটেই কোনো ছোটো দেবী নয়;সরস্বতী, ঈশ্বরেরই একটা রূপের নাম এবং স্ত্রীলিঙ্গে স্বয়ং ঈশ্বরীরূপে সরস্বতীই পরমব্রহ্ম বা ঈশ্বর।
এবার নজর দেওয়া যাক সরস্বতী পূজার বা সরস্বতী দেবীর সাথে থাকা অন্যান্য বিষয়গুলো দিকে–
দেবী সরস্বতীর গায়ের রং হয় সব সময় সাদা বা শ্বেত-শুভ্র জাতীয়, খেয়াল করে দেখবেন সরস্বতীর মূর্তিতে লাল কালো বা অন্য কোনো রং ব্যবহার করা হয় না। দেবী সরস্বতীর শুভ্রমূর্তি আসলে নিষ্কলুষ চরিত্রের প্রতীক; এটা এই শিক্ষা দেয় যে, প্রত্যেক ছেলে মেয়েকে হতে হবে নিষ্কলুষ নির্মল চরিত্রের অধিকারী; যে ছেলে মেয়ে বাল্যকাল থেকে নিজেকে নিষ্কলুষ রাখার চেষ্টা করবে, সে যে সারা জীবন তার সকল কর্ম ও চিন্তায় নিজেকে নিষ্কলুষ রাখতে পারবে, তাতে তো আর কোনো সন্দেহ নেই।
সরস্বতী পূজায় আর একটি অন্যতম লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে দেবী সরস্বতীর সাথে থাকা রাজহাঁস। রাজহাঁসকে প্রায় সবাই সরস্বতীর বাহন বলে মনে করে। কিন্তু দেব-দেবীর বাহন বলে কিছু হয় না। বাহন বলতে আমরা বুঝি যে বহন করে। কিন্তু দেব-দেবীরা এমনিতেই প্রত্যেকে সুপার পাওয়ারের শক্তি সম্পন্ন, কোথাও যেতে হলে তাদেরকে কারো বা কোনো কিছুর উপর ভরসা করতে হয় না। দেব-দেবীর বাহন বলা মানেই সেই দেব-দেবীর ক্ষমতাকে ছোটো করা। দেব-দেবীর বাহন তত্ত্বকে স্বীকার করলেই এই প্রশ্ন উঠবে যে, যে দেব-দেবী নিজেই কোথাও যেতে পারে না, সেই দেব-দেবীর আর কী ক্ষমতা আছে, আর তাদেরকে পূজা করেই বা কী লাভ ? তাই দেব-দেবীদের বাহন বলে কিছু নেই; তাহলে দেব-দেবীর বাহন বলতে আমরা এতদিন যা জেনে এসেছি এবং দেব-দেবীদের সাথে আর অন্য যা কিছু থাকে সেগুলো আসলে কিসের জন্য থাকে আর এগুলো থাকার কারণই বা কী ?
মূর্তি পূজা একধরণের প্রতীকী পূজা এবং প্রকৃত সত্য হচ্ছে, কোনো কিন্তু প্রতিটি মূর্তির সাথে যে বিষয়গুলো জড়িত থাকে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশেষ কিছু তথ্য বা শিক্ষা, আপনি যদি সেই বিষয়গুলোর প্রকৃত ব্যাখ্যা জানেন বা জানতে পারেন, তাহলেই কেবল সফল বা সার্থক হতে পারে আপনার পূজা এবং তা থেকে আপনি কিছু না কিছু ফল লাভ করতে পারেন।
রাজহাসেঁর মধ্যে এমন ক্ষমতা আছে যে, এক পাত্রে থাকা জলমিশ্রিত দুধের থেকে সে শুধুমাত্র দুধ শুষে নিতে পারে। সরস্বতী যেহেতু শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট পূজা, সেই প্রেক্ষাপটে এটা বলা যেতে পারে যে, রাজহাসেঁর এই তথ্য শিক্ষার্থীদেরকে এই শিক্ষা দেয় যে, সমাজে ভালো মন্দ সব কিছুই থাকবে, তার মধ্যে থেকে তোমাদেরকে শুধু ভালোটুকু শুষে নিতে হবে। অধিকাংশ হিন্দু ছেলে-মেয়েরা যে মেধাবী এবং চরিত্রবান বা চরিত্রবতী, সরস্বতী পূজা এবং তার রাজহাঁসজনিত এই শিক্ষাই তার কারণ।
সরস্বতীর হাতে থাকে বীণা; এর কারণ হচ্ছে-হিন্দু ধর্ম হলো নাচ, গান সমৃদ্ধ শিল্পকলার ধর্ম; যা সামাজিক বাস্তবতাকে সম্পূর্ণভাবে সাপোর্ট করে। কারণ, প্রত্যেক ছেলে মেয়েই কোনো না কোনো প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহন করে; সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক কারণে কেউ তার সেই প্রতিভাকে বিকাশ করতে পারে, কেউ পারে না, সেটা অন্য ব্যাপার; কিন্তু প্রকৃতির ধর্ম হিসেবে হিন্দু ধর্ম এই সামাজিক বাস্তবতাকে স্বীকার করে, এই কারণেই দেবী সরস্বতীর হাতের বীণা হচ্ছে সেই শিল্পকলার প্রতীক। আর এটা সুধীজন স্বীকৃত যে, যারা- নাচ, গান, কবিতা লেখা বা নাট্য চর্চার মতো শিল্পকলার সাথে জড়িত, তারা সাধারণত কখনো মিথ্যাও বলে না; চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ তো দূরের ব্যাপার। সাধারণ ভাবে সকল হিন্দুই যে সৎ প্রকৃতির এবং প্রত্যেক হিন্দু ছেলে মেয়েই যে শিল্পকলার কিছু না কিছু জানে, এটাই তার অন্যতম কারণ।
সরসস্বতীর হাতে থাকে পুস্তক এবং সরস্বতী পূজাতেও বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক দিতে হয়। পুস্তক যে জ্ঞানের আশ্রয়, এটা তো আর নতুন কোনো কথা নয়; একারণেই হিন্দুরা একটি জ্ঞান পিপাসু এবং জ্ঞান সমৃদ্ধ জাতি। এখনও যেকোনো স্কুলে যে কয়জন হিন্দু ছাত্র ছাত্রী পাবেন, দেখবেন তাদের মধ্যে ৯০% ই জিনিয়াস।
বর্তমানে দেবী সরস্বতীকে দুই হাত বিশিষ্ট দেখা গেলেও দেবী সরস্বতীর মূল মূর্তি আসলে চার হাত বিশিষ্ট, এরকম ছবি আপনারা অনেকে জায়গায় দেখতে পেতে পারেন, সরস্বতীর মূল থিমের সাথে এই চার হাত ই মানানসই; কারণ হলো- পড়াশুনার পাশাপাশি কেউ যদি নাচ গান বা অন্য যে কোনো শিল্পকলায় এক্সপার্ট হতে চায়, তাকে দুই হাতের শক্তি ও ব্যস্ততা নিয়ে কাজ করলে চলবে না, তাকে চার হাতের শক্তি ও ব্যস্ততা নিয়ে কাজ করত হবে; বাস্তবে পড়াশুনার পাশাপাশি যারা বিভিন্ন শিল্পকলায় দক্ষ হয়ে ওঠে, তাদের জীবন এইরকম ব্যস্ততাতেই ভরা; একটু খোঁজ নিলেই আমার এই কথার সত্যতা বুঝতে পারবেন।
অনেক কাঠামোতে দেখা যায়, সরস্বতী দেবী হাঁসের উপর বসে আছে আবার কোনো কাঠামোয় দেখা যায় পদ্মফুলের উপর; পদ্মফুলের উপ সরস্বতীর আসন ই সঠিক আসন। এর কারণ- পূর্ণ প্রস্ফুটিত পদ্মফুল হলো সফল ও সমৃদ্ধ জীবনের প্রতীক; এই কারণেই লেখা হয়েছে- “ফুলের মতো গড়বো মোরা মোদের এই জীবন” এই ধরণের কবিতা। এককথায় ফুলের বিকাশের সাথে মানুষের জীবনের বিকাশকে তুলনা করা হয়েছে। পূর্ণ বিকশিত একটি পদ্মফুলের উপর সরস্বতীর বসে থাকার মানে হলো- সরস্বতীর আদর্শকে লালন করে নিজের জীবনকে বিকশিত করতে পারলে সেই জীবনও ফুলের মতোই পবিত্র, সুন্দর, বিকশিত ও সমৃদ্ধ হবে।
স্বয়ং ঈশ্বর হলেও সরস্বতী নারী মূর্তি অর্থাৎ মাতৃমূর্তি, এর কারণ হলো- পিতার চেয়ে মায়ের কাছে কোনো কথা বলা সহজ বা কোনো কিছু চাওয়া সহজ। সরস্বতীর পূজারীরা যেহেতু সাধারণভাবে শিশু বা বালক-বালিকা অর্থাৎ শিক্ষার্থী, তাই তারা যাতে সহজে নিজের মনের কথা নিজের মনের আকুতি, দেবী মায়ের কাছে জানাতে পারে, এজন্যই সরস্বতীকে কল্পনা করা হয়েছে মাতৃরূপে।
এখানে একটি ছোট্ট তথ্য দিয়ে রাখি, বৌদ্ধরাও সরস্বতী পূজা করে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দেবী সরস্বতীই যদি একমাত্র জ্ঞানদাত্রী হয়, তাহলে যারা সরস্বতীর পূজা করে না, যেমন- মুসলমান ও খ্রিষ্টানরা; তারা কি জ্ঞান অর্জন করে না ?
বাংলাদেশে, প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়, ১৬ ডিসেম্বর এবং ২৬ মার্চেও জাতীয় স্মৃতিসৌধেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়, ভারতসহ অনেক দেশেই এমনটা করা হয়, এটা আসলে একপ্রকার পূজা। কিন্তু এই ফুল পেয়ে, যারা মরে গেছে, তাদের কি কোনো উপকার হয় ? এক কথায়, না। তারপরেও আমরা প্রতিবছর ঐসব অনুষ্ঠানের আয়োজন কেনো করি ?
আসলে এই সব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কিছু তথ্য, নতুন প্রজন্মের স্মৃতিতে ট্রান্সফার করা হয়, আর তাদের মধ্যে সেই সকল ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করা হয়, যারা দেশ ও জাতির জন্য কিছুনা কিছু করেছে ? এই একদিনের শ্রদ্ধাবোধ একটি পরম্পরা তৈরি করে, যা বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে। কারণ, এই একদিনের শ্রদ্ধাবোধ মানুষের মস্তিষ্ক্যে এমন একটি প্রভাব ফেলে যা তাকে ঐ পরম্পরাটি বয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।
আমরা শ্রদ্ধাভরে যখন কোনো দেব-দেবীর পূজা করি, তখন আমাদের ব্রেইন এর মধ্যে ঠিক এমনই একটি প্রভাব কাজ করে, যে প্রভাবটি ঐ পূজা ব্যতীত কিছুতেই সৃষ্টি হতো না। ব্রেইন এর মধ্যে এই যে প্রভাব, সেটি আসলে কিভাবে আমাদেরকে সাহায্য করে ?
কোয়ান্টাম মেথডের সূত্রানূসারে যখন আমরা কোনো কিছু মনে প্রাণে চাই এবং বার বার চাই, তখন ব্রেইন সেটা আমাদেরকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য আমাদেরকে সেভাবে পরিচালিত করা শুরু করে এবং আমাদের চারপাশে সেইরকম পরিবেশ তৈরি করে। এভাবে ব্রেইন অবচেতনভাবে কাজ করেই আমাদেরকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তুর কাছে পৌঁছে দেয়। এজন্যই আমরা যেটা বার বার ভাবি বা করতে চাই, খুব অসম্ভব কিছু না হলে সেটা আমরা পেয়েই যাই । আমাদের সকল পূজা প্রতীকী হলেও, পূজার মাধ্যমে আমাদের ঐকান্তিক চাওয়া, আমাদের ব্রেইন আসলে সেভাবেই পূরণ করে দেয়। কারণ, দেব-দেবীর কাছে প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা মূলত আমাদের মস্তিষ্ক্যে সেই বিষয়টি লোড করে দিই বা মস্তিষ্ক্যকে সেই নির্দেশনা দিই, আর আমাদের মস্তিষ্ক্য আমাদেরকে সেই লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করতে থাকে এবং এভাবেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাই।
এটা শুধু হিন্দুদের পূজা প্রার্থনার ক্ষেত্রেই নয়, যে কোনো ধর্মের লোক তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী প্রার্থনা করলেও তার ব্রেইন এর মাধ্যমে সে একই ফল পায় বা পাবে। তো যে ছেলে বা মেয়েটা সরস্বতীর কাছে সরল বিশ্বাসে এই প্রার্থনা করছে যে- মা, আমাকে জ্ঞান দাও, বুদ্ধি দাও; এই চাওয়ার ফলে সরস্বতীর উছিলায় তার ব্রেইন তাকে এমনভাবে পরিচালিত করে, যার ফলে তার বাড়তি কিছু জ্ঞান-বুদ্ধি লাভ হবেই। কারণ, যে বিদ্যালাভের জন্য প্রার্থনা করবে, সে বই নিয়ে দু চারদিন বেশি বা দুই চার ঘন্টা বেশি পড়বেই, সরস্বতীর উছিলায় কাজ হয় বা হবে এভাবেই; একইভাবে যে লোক, ধনের জন্য লক্ষ্মীর কাছে প্রার্থনা করছে, লক্ষ্মীর উছিলায় তার ব্রেইনও সেই লোককে এমন সব পদক্ষেপ নেওয়াবে যাতে তার ভালো রোজগার হতে বাধ্য। মানুষ তাদের বিশ্বাসের দেব-দেবী বা সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে মূলত তাদের নিজেদের ব্রেইনকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয় বা তাদের চিন্তার ফলই তাদেরকে ফল দেয়।
পৃথিবীর সব ছাত্রই চায় ভালো রেজাল্ট করতে, এর জন্য তারা পড়াশুনার পাশাপাশি নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী কামনা করে যেন তার পড়াশুনা ভালো হয় এবং পরীক্ষার ভালো করতে পারে; কোনো অলৌকিক সত্ত্বার কাছে কোনো প্রার্থনা করলে ও তাদের মনের এই কামনাই তাদেরকে পৌঁছে দেয়।যে যার মতো অর্জন করতে পারে জ্ঞান।
এখন বিজ্ঞানের এইসব নিগূঢ় তথ্য সবার পক্ষে জানা সম্ভব হয় না আর সাধারণ সব লোকের পক্ষে এটা বোঝাও সম্ভব নয়। যারা এই বিজ্ঞান জানে বা বোঝে, তারা লক্ষ্মী সরস্বতীর পূজা না করেও নিজেদের ব্রেইনকে কমান্ড করে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করতে পারে। কিন্তু যাদের কাছে বিজ্ঞানের এই জ্ঞান পৌঁছে নি বা যাদের পক্ষে এটা বোঝা সম্ভব নয়, তারা সরল বিশ্বাসে জ্ঞান বুদ্ধির জন্য যদি সরস্বতীর কাছে এবং ধনের জন্য লক্ষ্মীর কাছে প্রার্থনা করে। উল্লেখযোগ্য যে, যেকোনো দেব-দেবীর কাছে পূজার নামে প্রার্থনা করতে হবে আপনার নিজেকে এবং এই প্রার্থনা করতে হবে অবশ্যই মাতৃভাষায়। পুরোহিতকে দিয়ে যদি বাড়িতে পূজা করিয়ে নেন, আর আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ যদি সেই দেব-দেবীর কাছে কোনো প্রার্থনা না করেন, তাহলে সেই পূজা পুরোটাই বেকার, শুধুই অর্থ খরচ। এখানে আর একটা বিষয় উল্লেখযোগ্য, যেকোনো পূজার জন্য আমরা যতসব আয়োজন করি, সেটা ঐ পূজাটাকে একটা অনুষ্ঠানে রূপ দিতে সাহায্য করে মাত্র; ফুল-জল-বেলপাতা ঐ দেব-দেবীর প্রতি আত্মসমর্পনের একটা প্রসেস মাত্র; কারণ, একমাত্র আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিই পারে অহংকারমুক্ত হয়ে প্রকৃত অর্থে প্রার্থনা বা কামনা জানাতে। এ কারণে আমরা যদি কোনো পূজার আয়োজন না করেও শুধু দেব-দেবীর মূর্তি বা তাদের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে বা বসে প্রতিদিন প্রার্থনা করি, পূজার মতো একই ফল লাভ হবে, যে পদ্ধতিতে প্রার্থনা করে- ইসলাম, খ্রিষ্ট এবং ইহুদি মতাবলম্বীরা।
সুতরাং এই আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, হিন্দুধর্ম ও কালচারের কোনো কিছুই অযথা বা নিরর্থক নয়, সব কিছুরই সুষ্পষ্ট কারণ এবং তার কার্যকারিতা অর্থাৎ উপকারিতা রয়েছে; এই সব তথ্য যারা জানে না, সেটা তাদের দুর্বলতা, কিন্তু সনাতন তথা হিন্দুধর্মের কোথাও কোনো দুর্বলতা নেই।
#সরস্বতী পূজা না হওয়া পর্যন্ত অনেকে কূল বা বোরোই ফল খায় না। তিথির ফেরে সরস্বতী পূজা হয় কোনো বছর পৌষ মাসের শেষে, কোনো বছর মাঘের মাঝামাঝি, আবার কোনো বছর হয় মাঘ মাসের শেষে। যে বছর পূজা পৌষ মাসের শেষে বা মাঘ মাসের মাঝামাঝি হয়, সেই বছর পূজা শেষ করে কুল বা বোরোই হয়তো বাজারে বা গাছে পাওয়া যায়, কিন্তু যে বছর পূজা মাঘের শেষে হয় সেই বছর পূজা শেষে খাওয়ার জন্য কুল পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। তাই সরস্বতী পূজা না করে বোরোই খাবো না, এই ধরণের প্রতিজ্ঞা করলে আপনি শুধু বোরোই ফলের পুষ্টি থেকে বঞ্চিতই হবেন, আর ফলের পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়ে যদি নিজের মেধা কমান তাহলে সরস্বতী মাতা আপনার উপর কোনোভাবেই খুশী হবে না। তাই পূজা না করে বোরোই খাবো না, এই ধরণের প্রতিজ্ঞা করার কোনো দরকারই নেই; কারণ, বোরোই অন্য ফলের মতোই একটি ফল। যে মৌসুমে যে ফল পাওয়া যায়, সেই মৌসুমে অনুষ্ঠিত পূজায় সাধারণত সেই ফল প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয়, সরস্বতী পূজায় বোরোই দেওয়াও সেই রকমই একটি ব্যাপার, সরস্বতী পূজায় যে বোরোই দিতেই হবে এমন কোনো বিধি নিষেধও নেই, তাই সরস্বতী পূজা না করে বোরোই না খাওয়ারও কোনো যুক্তি নেই এবং এর কোনো প্রয়োজনও নেই। বোরোই যখন থেকে গাছে ধরবে বা বাজারে পাওয়া যাবে তখনই থেকেই খাওয়া শুরু করবেন, এতে বোরোই ফলের পুষ্টির কারণে যদি আপনার মেধা বুদ্ধি বৃদ্ধি পায়, তাহলেই দেবী সরস্বতী আপনার উপর খুশি হবেন। দেহে পুষ্টির অভাব থাকলে মেধার বিকাশ ঠিক মতো হয় না, আর এমন হলে বছরে প্রত্যেকদিন সরস্বতীর পূজা করেও আপনার লাভ ঘটবে না। তাই পাওয়া মাত্র ইচ্ছা মতো বোরোই খান, আর পূজার দিন উপবাস থেকে ভক্তি সহকারে সরস্বতী পূজা করুন, দেবী মাতা আপনার উপরে সন্তুষ্ট হবেন।
সরস্বতী পূজায় কূল না খাওয়া সম্পর্কে যে গল্পটি সম্প্রতি নেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে, খেয়াল করে দেখবেন তার কোনো শাস্ত্রীয় রেফারেন্স নেই। ব্যাসদেবের জন্মের আগে থেকেই কূল বা বদরিকা ফলের গাছে ঘেরা বদরিকা আশ্রম ছিলো, জন্মের পর ব্যাসদেব সেখানেই যান এবং শিক্ষা লাভ করেন, আর কেউ কূল গাছের নিচে বসে থাকলে তার মাথায় পাকা কূল পড়তেই পারে, এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।
তাছাড়া সাধনায় সিদ্ধি লাভের নির্দিষ্ট কোনো সময় হয় না, কিন্তু কূল বীজ লাগানোর পর তা থেকে ফল পেকে মাটিতে পড়ার একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। তাই কূল বীজ লাগানোর পর, সেই কূল বীজ থেকে গাছ হয়ে, তাতে ফল ধরে সেই ফল মাথায় পড়লে সাধনায় সিদ্ধি লাভ হবে ব'লে- ব্যাসদেব, সরস্বতী এবং কূল না খাওয়ার যে গল্প ফাঁদা হয়েছে, আসলে সেটা একটা মিথ্যা প্রচার। এত কম এবং কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধানায় সিদ্ধি লাভ করা একটা গাঁজাখোরি কল্পনা মাত্র।
সরস্বতী পূজোতে মায়ের আর্শীবাদ পরিবারের উপর বর্ষিত হোক,মায়ের চরণে প্রার্থনা করি।ওঁ শান্তিঃ
দেবাদিদেব মহাদেবের অজানা 7টি তথ্য।
*দেবাদিদেব মহাদেবের সাতটি রহস্য:-*
*১) সাপঃ-* সর্প হচ্ছে সদা জাগ্রত থাকার প্রতীক। যদি আপনার গলায় একটি সাপ প্যাঁচানো থাকে, তাহলে আপনি কিছুতেই ঘুমাতে পারবেন না।
*২) ভষ্মঃ-* এটা জীবনের অনিত্যতাকে স্মরন করিয়ে দেয়। এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদেরও একদিন ভষ্মে পরিণত হতে হবে।
*৩) চন্দ্রঃ-* চন্দ্র সর্বদাই মনের সাথে সম্পর্কিত। এটি জীবনের সকল পরিস্থিতিতে সুখী থাকা এবং মনের উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার প্রতীক।
*৪) ডমরুঃ-* এটা দেখতে ইনফিনিটি চিহ্নের মত যা শিবের অসীম তথা উন্মুক্ত চিন্তাচেতনার প্রতীক।
*৫) ত্রিশুলঃ-* শিব প্রকৃতির তিনগুন নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন, এটি তারই প্রতীক। তিনি এটির মাধ্যমে সকলকে নিজ নিজ ধর্ম পালনে উৎসাহিত করে থাকেন।
*৬) নীলাভ শরীরঃ-* আকাশ অন্তহীন, শিবও তেমনি অন্তহীন। নীলাভ শরীর অন্তহীন আকাশের মতই শিবের অন্তহীনতা তথা অসীমতার প্রতীক।
*৭) গঙ্গাঃ-* গঙ্গা নিষ্কলুষ জ্ঞানের প্রতিনিধিত্ব করে। যখন শিবের মতই আমাদের হৃদয় স্থির হয়, তখনই তাতে নিষ্কলুষ জ্ঞান প্রবাহিত হয়।
*🌺হর হর মহাদেব🌺*
শিবরাত্রির বৈঞ্জানিক ব্যাখ্যা।
*_আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মহাশিবরাত্রি_*
*সার্ন :* পৃথিবীর বৃহত্তম ফিজিক্স গবেষনা কেন্দ্র । একশোটি দেশের ছশো আশিটি *(৬৮০)* গবেষনা কেন্দ্রের সমন্বয়ে তৈরী ।
*ক্লাসিক্যাল ফিজিক্সে* উল্লেখ করা মৌলিক কণাগুলিকে আরো সুক্ষ ভাবে ভেঙে 'কোয়ান্টাম ফিজিক্সের' মূলরহস্য *(theory of everything)* আবিষ্কার করা তাদের অন্যতম কাজ ।
২০০৪ সালে এই গবেষনা কেন্দ্র একটি নটরাজ মূর্তি স্হাপন করে । দু মিটার লম্বা , ধাতব এই *নটরাজ* তারা নিয়ে আসে ভারতবর্ষ থেকে । বিনাশের দেবতা হিসেবে কল্পিত এই *নৃত্যরত নটরাজ* মূর্তি তাদের চমৎকৃত করে ।
*ভারতীয় শিবপুরানে* নটরাজের ব্যাখ্যার সঙ্গে *কণা সৃষ্টির* আদিতে 'ইউনিভার্সাল কসমিক ড্যান্স' এর সংযোগ স্হাপিত করেন তাঁরা ।
শূন্যের "তরঙ্গ" ( cosmic dance ) থেকে 'আদি কণা' সৃষ্টি ব্যাখ্যা করার দিকে একটি বিরাট পদক্ষেপ (কোয়ান্টাম লিপ) প্রমানিত হয় তাদের *'লার্জ হেড্রন কোলাইডার'* (LHC) মেশিনের সাহায্যে । সনাতন ভারতের ঋষি *আর্যভট্ট* _'শূন্য'_ আবিষ্কার করেননি । তিনি শূন্যের গানিতিক রূপ দিয়েছিলেন মাত্র । *শূন্যকেই শিব* হিসেবে কল্পনা করা হয়েছিলো সনাতন ভারতে ।
শূন্যের উপর প্রতিষ্ঠিত 'কাল' *(সময় নয় , কাল মানে স্পেস- টাইম)*-কেই আমরা শিবের বুকের উপর দাঁড়ানো কালী বলে পুজো করেছি ।
এর আগে বিজ্ঞানী *নিকোলা টেসলা* _'বৈদান্তিক বিজ্ঞানকে'_ আধুনিক রিলেটিভিটির মূলরূপ বলে উল্লেখ করেছিলেন ।
আধুনিক কম্পিউটারের জনক *চার্লস ব্যাবেজ* লিখেছেন সনাতন শাস্ত্র _'নব্য ন্যায়'_ থেকে তাঁরা *আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের* অবধারনা গ্রহন করেছিলেন ।
*কার্ল সাগান* -এর মতো (আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে যাঁর মূল্যায়ন : *_স্পেসিফিকেশন ইজ ফর এ্যান্টস্_*) প্রথিতযশা পাশ্চাত্য বিজ্ঞানী প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞানসাধনাকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বলে ঘোষনা করেছিলেন । যিনি বিদ্যার *এ্যাজাইমিলেশনকে* (সমন্বয়ীকরণ) অর্থাৎ, আধুনিক শিক্ষা নয়, ভারতের সাবেক ও সনাতন *গুরুকুলীয় শিক্ষা ব্যবস্থার* উৎকর্ষতা সম্বন্ধে পৃথিবীকে সচেতন করেছিলেন ।
*মহাশিবরাত্রি মহাজাগরণের রাত্রি ।* আমি, আপনি, আমরা সবাই শুধুমাত্র সামান্য *সময় আর শক্তির* সমন্বয়ে তৈরী 'আমি' ।
*সময়* অধরা, সময় অচঞ্চল, সময় স্থির । সময় স্বয়ম্ভূ, সময়ই মহাকাল । তার আপন আধার আছে, আছে স্বতন্ত্র অস্তিত্ব । তাকে নিয়ে আমাদের কিছুই করার নেই । আমরা না পারবো তার গতি কমাতে বা বাড়াতে । *তার গতি বা স্থিতি,* দুই-ই আমাদের নাগালের বাইরে ।
কিন্তু এনার্জি ? *শক্তি ?* আমাদের মধ্যে এনার্জি বা শক্তির স্রোত কতখানি উদ্দীপনায় ভরপুর, অথবা *এনার্জি স্তর* একেবারেই স্তিমিত ; -- আপনি কে, আর *পৃথিবীতে আপনার অস্তিত্ব ও উপস্থিতির মূল্য*-ই বা কতখানি বা কতটুকু, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে *আপনার মধ্যে পুঞ্জীভূত শক্তি*-র হ্রাস - বৃদ্ধির উপর । অর্থাৎ, আপনার *পজিটিভ মানসিকতা*-র এনার্জি স্তর আপনার *নেগেটিভ মানসিকতা*-র নিম্ন মানের এনার্জির থেকে সর্বদাই বেশী হবে ।
পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই সব ধরনের *আধ্যাত্মিকতার মূল লক্ষ্য*-ই হলো মানুষের এনার্জি লেভেলকে *সম্ভাবনার চরম লক্ষ্যের* দিকে এগিয়ে বা তুলে নিয়ে যাওয়া ।
*আধ্যাত্মিক অন্বেষণের* কোনো পথ ও পন্থা হয়তো এই কাজটাই করছে *সজ্ঞানে,* আবার অনেক এমন পন্থাও রয়েছে, যারা এই একই কাজ করে চলেছে, *পূর্ণ অজ্ঞানতায় ।*
*যে বা যারাই* নিজেদের _বর্তমান মানসিক এনার্জি লেভেলকে_ তারা আজকে যেমন আছেন, *তার ঊর্ধ্বে* তুলে নিয়ে যেতে চান, *মহাশিবরাত্রি* তাদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ।
*মহাশিবরাত্রিতে* পৃথিবীর *উত্তর গোলার্ধে* পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহগুলো এমন অবস্থানে থাকে, যখন নিতান্ত স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মেই *মানুষের শরীর ও মনের ঊর্জ্জার স্তর* ঊর্ধ্বগামী থাকে । সচেতন মানুষ তার *আধ্যাত্মিকতার উচ্চতম পর্যায়ে* থাকেন ।
*প্রতি বছর* - মার্চের চান্দ্র মাস *মঘা*-র শিবরাত্রিকে *মহাশিবরারি* বলা হয়, কারণ বছরের ১২ - ১৩ টি শিবরাত্রির মধ্যে এটি সবচেয়ে ভাল ও প্রভাবশালী। *নক্ষত্রস্খলিত* (নক্ষত্র থেকে খসে পড়া) *অখন্ডমন্ডলা* এই সমস্ত ও তার উপর *মানুষ সমেত* যেতে যা কিছু, সবই সেই নক্ষত্র স্খলিত, *মহাজাগত স্পেস - টাইম* ও তার ভিন্ন রূপ। *মহাজাগতিক ঊর্ধ্বমুখী পজিটিভ এনার্জির* স্রোতে আপন শক্তিস্রোত বৃদ্ধির আজ মহাকাল প্রেষিত এক মহাসুযোগ। *আজকের রাত্রি শুয়ে - ঘুমিয়ে কাটালে*, আবার এক তারিখ অপেক্ষা।
তাই, আপন *আধ্যাত্মিক* ঊর্জর শক্তি বৃদ্ধি করুন ।
*জোগাড়িত।*
*সংগৃহীত*
Tuesday, 1 March 2022
বাংলার এক নমস্য রাজ্যপাল
আজ তাঁর জন্মদিন এ রাজ্যের এক রাজ্যপালের গল্প শোনাই। নাম ছিল তাঁর হরেন্দ্রকুমার মুখার্জী। ইংরেজিতে লিখতেন Harendra Coomar Mookerjee। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত রাজভবনের মালিক ছিলেন। ভোরবেলা রাজ্যপালের হাঁটতে বেরোনোর অভ্যাস। এক শীতসকালে বেরোতে গিয়ে দেখলেন লিফটম্যান সারা রাত ডিউটি করে লিফটের পাশেই ঘুমিয়ে পড়েছে। আবার ঘরে ফিরে গিয়ে একটা শাল নিয়ে এসে লিফটম্যানের গায়ে জড়িয়ে দিয়ে প্রাতঃভ্রমণে নেমে গেলেন রাজ্যপাল। পরে লিফটম্যান ঘুমিয়ে পড়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে শাল ফেরত দিতে এলে বলেছিলেন, ছোট ভাইকে দেওয়া উপহার ফিরিয়ে নিতে নেই। মাইনে পেতেন ৫০০০ টাকা। ৫০০ নিজেদের জন্য রেখে বাকিটা দুঃস্থদের এবং টিবি রোগীদের চিকিৎসায় দান করে দিতেন। একবার রাজভবনের সব কর্মচারীদের ডাকলেন চায়ের নেমন্তন্নে। সবাই শঙ্কিত। হরেন্দ্রকুমারের একটা 'বদভ্যাস' আছে। এইসব চায়ের পার্টি ডেকে টাকা তোলেন আর পরে তা বিলিয়ে দেন সামাজিক উন্নয়নে। এবারও না চাঁদা চেয়ে বসেন। চা-পর্ব শেষ হলে রাজ্যপাল চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। হাত জোড় করে বললেন, আমি গরীব রাজ্যপাল। আদেশ করতে পারি না। বরং আপনাদের কাছে একটা অনুরোধ আছে। আপনারা জানেন যে আমায় টিবি ফান্ডের খাতাপত্রের হিসেব রাখার জন্য একজন লোক রাখতে হয় মাইনে দিয়ে। আপনারা যদি একটু ভাগাভাগি করে হিসেবপত্তরগুলোর দায়িত্ব নেন, তাহলে সে টাকাটা বেঁচে যায়। ওই টাকা দিয়ে বরং রোগীদের কিছু ফলমূল কিনে দিতে পারি। শুনে সবার মাথা হেঁট। ওঁর স্ত্রী-র নাম ছিল বঙ্গবালা। রাজভবনের কর্মীরা ওঁকে 'মা' ডাকতেন। বিলাসব্যসন শূন্যে নামিয়ে এনেছিলেন বলে রাজভবনের অতিথিদের কেউ কেউ দিল্লি ফিরে গিয়ে নেহেরুর কাছে নালিশ করেন। মৃত্যুর আগে রাজ্যপালের ফান্ডে আট লক্ষ টাকা জমিয়ে দান করে গেছিলেন হরেন্দ্রকুমার মুখার্জী।
রাজভবনে তো অনুমতি ছাড়া কারোর প্রবেশ নিষেধ। সাধারণের তো নয়ই।
কিন্তু অনেকেই দেখছেন, একজন বৃদ্ধ মানুষ মাঝে মাঝেই এসে সটান ঢুকে যাচ্ছেন রাজভবনের ভেতর। রক্ষীরা কেউ কিছু বলছেও না। কী হল ব্যাপারটা? ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতেই একাংশ চিনতে পারলেন ওই বৃদ্ধ ব্যক্তিটিকে। এ যে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত; মানে দাদাঠাকুর! এসেছেন ‘বন্ধু’র সঙ্গে একটু দেখা সাক্ষাৎ করতে। অবাক হওয়ার কিছু নেই। দাদাঠাকুর যাঁর কথা বলছেন, তিনি আর কেউ নন, ডঃ হরেন্দ্রকুমার মুখোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃতীয় রাজ্যপাল। আরও ভালো করে বললে, পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র পূর্ণ সময়ের রাজ্যপাল, যিনি ছিলেন বাঙালি!
বাঙালি মানে যাকে বলে ফ্রম টপ টু বটম; আদ্যোপান্ত বাঙালি। আর হবেন নাই বা কেন। এত বিশাল জায়গায় গিয়েও মনটা যে মাটির দিকেই পড়ে রয়েছে। যেমন স্বভাব, তেমন ব্যক্তিত্ব, তেমনই তীক্ষ্ণ মেধা। অবশ্য স্রেফ রাজ্যপাল হিসেবেই তাঁকে মনে রাখেনি ইতিহাস। পড়াশোনায় ছিলেন তুখোড়। হরেন্দ্রকুমার মুখোপাধ্যায়ই ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজিতে প্রথম ডক্টরেট। পরে সেই বিভাগের প্রধানও হয়েছিলেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়তেই আরও নানা পদে ছিলেন তিনি।
হরেন্দ্রকুমারের সঙ্গে দাদাঠাকুরের সম্পর্ক ছিল গভীর বন্ধুত্বের, স্নেহের। একে অপরকে শ্রদ্ধাও করতেন। দাদাঠাকুরের ব্যঙ্গ ও রসিকতা তো কিংবদন্তিসম। সেই রস থেকে বঞ্চিত ছিলেন না হরেন্দ্র। তাঁর কড়া নির্দেশ থাকত, দাদাঠাকুর এলে যেন কেউ তাঁর পথ না আটকান। একদিন রাজভবনে ঢোকার পরেই রাজ্যপাল কুশল জিজ্ঞাসা করছেন। আসতে কোনো অসুবিধা হয়েছে কিনা, এই প্রশ্নটাই করেছেন তখন। দাদাঠাকুরের বক্তব্য, ‘কিছু অসুবিধা হয়নি। একজন নরকের সঙ্গী আমাকে এগিয়ে দিয়ে গেছে।” এই কথাটা শুনে রাজ্যপাল একটু ভ্যাবাচ্যাকাই খেয়ে গেলেন। নরকের সঙ্গী! সেটা আবার কী? দাদাঠাকুরের বক্তব্য, ‘ওই যে, যাঁদের মাথায় হেলমেট থাকে, তারাই তো নরকের সঙ্গী । হেল মানে নরক আর মেট মানে সঙ্গী!’
এইরকমই একদিন কথাবার্তায় হঠাৎ দাদাঠাকুর বলে উঠলেন, ‘আপনার নামটা ভুল।’ হরেন্দ্রকুমার তো অবাক! বলেন কী! এতদিন এই নামটা ব্যবহার করছি, বাপ-ঠাকুরদার দেওয়া, ভুল হয় কী করে? এই প্রশ্নটিরই অপেক্ষা করছিলেন দাদাঠাকুর। সঙ্গে সঙ্গে জবাব, ‘আপনি যা উপার্জন করেন, তার সবই দান করেন। অথচ আপনার নাম হরেন। কিন্তু আপনি তো হরণ করেন না!’ মজার কথা হলেও, হরেন্দ্রকুমার মুখোপাধ্যায়ের স্বভাবটাই ছিল সেরকম। একদম সাদাসিধা জীবন। যেটুকু দরকার না হলেই নয়, সেটুকু নিয়ে থাকতে চান তিনি। যা রোজগার করেন, সবই দান করে দেন। আগেও এমনটা করেছিলেন। অধ্যাপক থাকাকালীনই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রথমে তিন লাখ, পরে আরও এক লাখ টাকা দান করেন। সেই সময় এই টাকার মূল্য আরও বেশি ছিল। এছাড়াও যখন তিনি সেখানকার ইন্সপেক্টর, তখনও খ্রিস্টান যুবকরা যাতে ঠিকঠাক শিক্ষা পায়, অসুবিধা না হয় সেটা দেখতেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের বাবা-মা’র নামে একটি ফান্ডও তৈরি করেন। প্রথমে দুই লাখ, পরে আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা সেখানে দেন।
১৯৫৬ সালের আগস্টে মারা যান রাজ্যপাল ডঃ হরেন্দ্রকুমার মুখোপাধ্যায়। বয়স তখনও ৭০ পেরোয়নি। তাঁর মৃত্যুর পর আরও এক বাঙালি, ফণীভূষণ চক্রবর্তী রাজ্যপাল হন; কিন্তু সেটা মাত্র তিন মাসের জন্য। পূর্ণ সময় অবধি তাঁর মেয়াদ ছিল না। তারপর আজ পর্যন্ত বাংলা কোনো পূর্ণ সময়ের বাঙালি রাজ্যপালকে পায়নি। ডঃ হরেন্দ্রকুমারই এক এবং একমাত্র। তবে মারা যাওয়ার আগেও, নিজের সারা জীবনের কাজের সঞ্চয় ১৭ লাখ টাকা দিয়ে যান তাঁর সাধের প্রতিষ্ঠান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে। একপ্রকার নিঃস্ব হয়েই তাঁর মৃত্যু! এমন মৃত্যুও তো সুখের…
(সংগৃহীত)
এক অজানা প্রতিভার বাঙালী ডাক্তার
দুনিয়ার প্রথম
বেদনাহীন সার্জারি এক বাঙালির নামে,
অথচ আমরা অজ্ঞ!
এই বছর অনেকেই
প্রত্যাখ্যান করেছেন পদ্ম
পুরস্কার | কিন্তু এইসব খবরের
মাঝে ঢাকা পড়ে গেছে বছর ৫০ এর
একজন কৃতি বাঙালি ডাক্তারের পদ্মশ্রী
জয়ের খবর,কে এই বিখ্যাত ডাক্তারবাবু ?
প্রকর দাশগুপ্ত | ছোটবেলা কেটেছে উত্তর প্রদেশের লখনৌতে | ১৯৮৯ সালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস | এরপর প্রকর দাশগুপ্ত পাড়ি দেন ইংল্যান্ড | ১৯৯৪ সালে তিনি এফআরসিএস ডিগ্রি অর্জন করেন | ১৯৯৬ সালে ইউরোলজি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন তিনি | ২০০২ সালে তিনি যোগ দেন ইংল্যান্ডের বিখ্যাত গুইস হসপিটালের ইউরোলজি বিভাগে এবং আজও ওই হসপিটালের সাথেই যুক্ত রয়েছেন | পাশাপাশি তিনি লন্ডনের কিংস হেলথ পার্টনারস কলেজে অধ্যাপনাও করেন |
প্রস্টেট ক্যান্সার কথাটির সঙ্গে আমরা প্রায় সকলেই পরিচিত। সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়স হলে পুরুষদের মধ্যে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে থাকে । এর পাশাপাশি বয়স বাড়লে বহু মানুষ কিডনির সমস্যায় ভোগেন | কিডনি ও প্রস্টেট গ্রন্থির বিভিন্ন রোগ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছেন ডাক্তার প্রকর দাশগুপ্ত | শুধুই গবেষণাই নয়, আধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি প্রস্টেট গ্রন্থির অস্ত্রোপ্রচার করেছেন | তিনিই বিশ্বে প্রথম এই সার্জারি চালু করেন। তার দেখানো পথে আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালু হয়েছে বেদনাহীন এই সার্জারি | বেদনাহীন এই সার্জারির নাম তিনি রেখেছেন "দাশগুপ্ত টেকনিক" | শুধু ইউরোলজিই নয়, নিউরোলজি এবং নিউরোসার্জারি বিষয়েও পান্ডিত্য রয়েছে ডাক্তারবাবুর | ২০০৫ সালে দা ভিঞ্চি রোবটের মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করিয়েছিলেন তিনি |
২০১৩ থেকে ২০২০ সাল অবধি ডাক্তার প্রকর দাশগুপ্ত ব্রিটিশ জার্নাল অফ ইউরোলজি ইন্টারন্যাশনাল এডিটর ইন চিফ ছিলেন | ২০১৮ সালে পেয়েছেন কিংস কলেজের ফেলোশিপ, ২০২০ সালে ব্রিটিশ এসোসিয়েশন অফ ইউরোলোজিক্যাল সার্জেন্স এর পক্ষ থেকে পেয়েছেন সেন্ট পিটার্স মেডেল | আজ পর্যন্ত ইউরোলজি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ১১০০ পেপার প্রকাশ করেছেন | ইউরোলজি নিয়ে লিখেছেন ১০ টি বই | ইউরোলজি নিয়ে গবেষণা ও রোগ নিরাময়ে অসামান্য অবদানের জন্যেই ভারত সরকার ডাক্তার প্রকর দাশগুপ্তকে পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান করেছে |
ডাক্তার প্রকর দাশগুপ্তকে শুভেচ্ছা 🎉
(সংগ্রহ)
নিরক্ষর সার্জন ডাঃ
এক নিরক্ষর ডাক্তার।।
তিনি লেখা পড়া জানতেন না।।
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনের
বাসিন্দা ,, বিখ্যাত সার্জন ডাঃ হ্যামিল্টন।।
যাকে "মাষ্টার অফ মেডিসিন" সম্মানে সম্মানিত করা হয়।।
এটা কিভাবে সম্ভব ??
চলুন,, একটু জেনে নেওয়া যাক।।
"কেপটাউন মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি" চিকিৎসা জগত এবং ডাক্তারি পড়াশোনা
করার জন্য বিশ্ব বিখ্যাত এক প্রতিষ্ঠান।।
এই বিশ্ববিদ্যালয় এমন একজন ব্যাক্তিকে
মাষ্টার অফ মেডিসিন সম্মান জানিয়েছে,,
যিনি জীবনে কখনো স্কুলে যাননি।।
পৃথিবীর প্রথম "বাইপাস সার্জারি" হয়েছিল,
কেপটাউনের এই ইউনিভার্সিটিতে।।
2003 সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান
প্রফেসর "ডাঃ ডেভিড ডেট" এক আড়ম্বর- পূর্ণ অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন,, " আজ আমরা এমন একজন ব্যাক্তিকে সম্মান জানাতে চলেছি,, যার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়
হাজারো পড়ুয়া সার্জারি শিখেছেন।। যিনি
কেবলমাত্র একজন শিক্ষক নন,, বরং
একজন উচ্চ মানের সার্জন এবং ভালো
হৃদয়ের মানুষ।। ইনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে
যে অবদান রেখে গেছেন,, সেটা পৃথিবীর
খুব কম মানুষই রাখতে পেরেছেন।।"
এরপর প্রফেসর "ডেভিড" সাহেব "সার্জন হ্যামিল্টন" এর নাম নিতেই,, উপস্থিত
সকলে দাঁড়িয়ে পড়েন।। উল্লাসে ফেটে
পড়ে সভা ঘর।। এটাই ছিলো এই বিশ্ব--
বিদ্যালয়ের সবচেয়ে আড়ম্বর এবং
ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান।।
হ্যামিল্টনের জন্ম কেপটাউনের প্রত্যন্ত
এলাকা " সোনিট্যানি ভিলেজ।"তার পিতা-
মাতা ছিলেন পশুপালক। ভেঁড়া এবং ছাগল পুষে জীবিকা নির্বাহ করতেন।। পিতা অসুস্থ হয়ে পড়লে,, হ্যামিল্টন কাজের খোঁজে কেপটাউন সিটি চলে যান।।
শহরে গিয়ে তিনি রাজমিস্ত্রি জোগাড়ে হিসাবে কাজ শুরু করেন।। কেপটাউন
মেডিক্যালে তখন চলছে নির্মাণ কাজ।।
বেশ কয়েক বছর তিনি সেখানে কাজ
করেন।। এরপর নির্মাণ কার্য সমাপ্ত
হয়ে যায়।।
হ্যামিল্টনের কাজের মানসিকতা এবং কর্মের প্রতি নিষ্ঠা দেখে,, তাকে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ সেখানেই রেখে দেয়।। তার কাজ
ছিলো টেনিস কোটে ঘাস ছাঁটাই করা।।
তিন বছর এভাবেই চলতে থাকে।। এরপর তার সামনে আসে,, এক সুবর্ণ সুযোগ।।
এবং সেই সুযোগ তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এমন এক স্তরে পৌঁছে দেয়,, যেখানে যাওয়া একজন সাধারণ মানুষের কাছে,,
আকাশ ছুঁয়ে দেখার সমতুল্য।।
সেদিন প্রফেসর "রবার্ট ডায়াস" একটি
জিরাফ নিয়ে গবেষণা করছেন।। জিরাফ ঘাড় নিচু করে জলপান করার সময়,, তার
গলার ব্লাড সার্কুলেশন কমে কেনো ?? এটাই তার গবেষণার বিষয়।। নিয়মমাফিক জিরাফকে অজ্ঞান করে দেওয়া হলো।।
অপারেশন চলছে,, ঠিক সেই মুহূর্তে জিরাফ ঘাড় নাড়তে শুরু করে দিলো।।
এমতবস্থায় জিরাফের ঘাড়টা শক্ত করে
ধরে রাখার জন্য,, একজন শক্তপোক্ত
মানুষের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।।
হ্যামিল্টন তখন ঘাস কাটায় মগ্ন।।
প্রফেসর তাকে ডেকে নিলেন,, অপারেশন
থিয়েটারে।। হ্যামিল্টন জিরাফের গর্দান
ধরে রয়েছেন,, অপারেশন করে চলেছেন
প্রফেসর।।
অপারেশন কন্টিনিউ আট ঘন্টা চলতে থাকে।। এর মধ্যে ডাক্টার-টিম ব্রেক নিতে
থাকেন।। কিন্তু হ্যামিল্টন টানা আট ঘন্টা
ধরে থাকলেন জিরাফের গলা।।অপারেশন
সমাপ্ত হতেই,, হ্যামিল্টন চুপচাপ বাইরে
বেরিয়ে গিয়ে টেনিস কোর্টে ঘাস কাটতে
লেগে যান।।
প্রফেসর রবার্ট ডায়াস তার দৃঢ়তা এবং
কর্মনিষ্ঠা দেখে আপ্লুত হয়ে গেলেন।।
তিনি হ্যামিল্টনকে "ল্যাব এসিষ্ট্যান্ট"
হিসাবে পদোন্নতি করিয়ে দেন।।
প্রতিদিন বিভিন্ন সার্জন তার সামনে
হাজারো অপারেশন করে চলেছেন,,
তিনি হেল্পার হিসাবে কাজ করে চলেছেন।।
এভাবেই চলতে থাকে বেশ কয়েক বছর।।
এরপর ডাঃ বার্নড একদিন অপারেশন করে, হ্যামিল্টনকে ষ্টিচ দেওয়ার দায়িত্ব দেন।। তার হাতের সুনিপুণ সেলাই দেখে,
ডাঃ বার্নড অবাক হয়ে যান।। এরপর,,
বিভিন্ন সার্জন তাকে সেলাইয়ের কাজ
সপে দিতে থাকেন।।
দীর্ঘকাল অপারেশন থিয়েটারে থাকার কারনে,, মানব শরীর সম্বন্ধে তার যথেষ্ট
ধারণা তৈরী হয়ে যায়।। তিনি ডিগ্রীধারী
কোনো সার্জনের চেয়েও বেশী জানতেন,,
মানব দেহ সম্পর্কে।। এরপর ইউনিভার্সিটি তাকে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রাকটিক্যাল
শেখানোর কাজে নিয়োগ করে।।
জুনিয়র ডাক্তারদের শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ইউনিভার্সিটির একজন
গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন।। তিনি অবলীলায় যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন করে দিতে পারতেন।।
বহু সার্জন যে অপারেশন করতে কুন্ঠিত
হতেন,, তিনি অতি সহজেই সেই কাজ
করে ফেলতে পারতেন।।
1970 সালে এই ইউনিভার্সিটিতে লিভার
নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা শুরু হয়।।
তিনি লিভারের মধ্যে অবস্থিত এমন একটি ধমনী চিহ্নিত করেন,, যার কারনে লিভার
প্রতিস্থাপন অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়।।
বিশ্ব বিখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা অবাক
হয়ে যান।।আজ তার দেখানো পথ ধরেই,,
লিভার ট্রান্সফার করা হয়ে থাকে।।
নিরক্ষর হ্যামিল্টন জীবনের পঞ্চাশ বছর
কেপটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটিয়ে দেন।।
এই পঞ্চাশ বছরে তিনি একদিন ও ছুটি
নেননি।। প্রতিদিন ১৪ মাইল পায়ে হেঁটে
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতেন।। তার অবদান
কেপটাউন মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি তথা
বিশ্ব চিকিৎসা বিজ্ঞান কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারবে না।।
তিনি মোট ত্রিশ হাজার সার্জনের শিক্ষা-
গুরু ছিলেন।।
2005 সালে এই কিংবদন্তি মানুষটি মারা যান।। তার মৃতদেহ ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের মধ্যেই তাঁর অন্তিম ক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এই বিরলতম সম্মান একমাত্র তিনিই
অর্জন করতে পেরেছেন।।
কিংবদন্তি সার্জন ডাঃ হ্যামিল্টন প্রমাণ
করে গেছেন,,, কেবলমাত্র পুঁথিগত
শিক্ষা-টুকুই যথেষ্ট নয়।।
*জোগাড়িত*
T.S. কনকা আর্মি নিউরো সার্জেন
সাল ১৯৬২। ভারত-চীন যুদ্ধ চলছে। সীমান্তে আহত জওয়ানদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আছে। সেই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরে যোগ দিলেন ...
-
বাম জামানার 34 বছর। গরিবের পার্টির সাতকাহন - ৩৪ বছরের কালরাত্রি : এখনো কিছু এমন মানুষ আছেন , যারা শ্বেতশুভ্র পোশাক পরিহিত বুদ্ধদেব ভট্টাচার...
-
বেদে নাকি এক ঈশ্বরের কথা বলা আছে তাহলে বিষ্ণু ,শিব, ব্রহ্মা , সরস্বতী ,ইন্দ্র, অগ্নি, লক্ষি আদি এত দেব -দেবী কেন? ➢ হ্যা, সনাতন ধর্ম মতে...
-
*সম্পুর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে নিজের হাতে ভারতের সংবিধান লিখেছিলেন প্রেম বিহারী। তিনি নেহেরুকে বলেছিলেন, ” Not a single penny. By the grace o...




























