Thursday, 3 March 2022

শিবরাত্রির বৈঞ্জানিক ব্যাখ্যা।

 *_আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মহাশিবরাত্রি_*


*সার্ন :* পৃথিবীর বৃহত্তম ফিজিক্স গবেষনা কেন্দ্র । একশোটি দেশের ছশো আশিটি *(৬৮০)*  গবেষনা কেন্দ্রের সমন্বয়ে তৈরী । 


*ক্লাসিক্যাল ফিজিক্সে*  উল্লেখ করা মৌলিক কণাগুলিকে আরো সুক্ষ ভাবে ভেঙে 'কোয়ান্টাম ফিজিক্সের' মূলরহস্য  *(theory of everything)*  আবিষ্কার করা তাদের অন্যতম কাজ । 


২০০৪ সালে এই গবেষনা কেন্দ্র একটি নটরাজ মূর্তি স্হাপন করে । দু মিটার লম্বা , ধাতব এই *নটরাজ* তারা নিয়ে আসে ভারতবর্ষ থেকে । বিনাশের দেবতা হিসেবে কল্পিত এই *নৃত্যরত নটরাজ* মূর্তি তাদের চমৎকৃত করে । 


*ভারতীয় শিবপুরানে* নটরাজের ব্যাখ্যার সঙ্গে *কণা সৃষ্টির* আদিতে 'ইউনিভার্সাল কসমিক ড্যান্স' এর সংযোগ স্হাপিত করেন তাঁরা । 


শূন্যের "তরঙ্গ" ( cosmic dance ) থেকে 'আদি কণা' সৃষ্টি ব্যাখ্যা করার দিকে একটি বিরাট পদক্ষেপ (কোয়ান্টাম লিপ) প্রমানিত হয় তাদের *'লার্জ হেড্রন কোলাইডার'* (LHC) মেশিনের সাহায্যে । সনাতন ভারতের ঋষি *আর্যভট্ট*  _'শূন্য'_  আবিষ্কার করেননি । তিনি শূন্যের গানিতিক রূপ দিয়েছিলেন মাত্র । *শূন্যকেই শিব* হিসেবে কল্পনা করা হয়েছিলো সনাতন ভারতে । 


শূন্যের উপর প্রতিষ্ঠিত 'কাল' *(সময় নয় , কাল মানে স্পেস- টাইম)*-কেই আমরা শিবের বুকের উপর দাঁড়ানো কালী বলে পুজো করেছি । 


এর আগে  বিজ্ঞানী *নিকোলা টেসলা*  _'বৈদান্তিক বিজ্ঞানকে'_  আধুনিক রিলেটিভিটির মূলরূপ বলে উল্লেখ করেছিলেন । 


আধুনিক কম্পিউটারের জনক *চার্লস ব্যাবেজ* লিখেছেন সনাতন শাস্ত্র  _'নব্য ন্যায়'_ থেকে তাঁরা *আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের*  অবধারনা গ্রহন করেছিলেন ।


*কার্ল সাগান* -এর মতো (আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে যাঁর মূল্যায়ন : *_স্পেসিফিকেশন ইজ ফর এ্যান্টস্_*) প্রথিতযশা পাশ্চাত্য বিজ্ঞানী প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞানসাধনাকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বলে ঘোষনা করেছিলেন । যিনি বিদ্যার *এ্যাজাইমিলেশনকে* (সমন্বয়ীকরণ) অর্থাৎ, আধুনিক শিক্ষা নয়, ভারতের সাবেক ও সনাতন *গুরুকুলীয় শিক্ষা ব্যবস্থার*  উৎকর্ষতা সম্বন্ধে পৃথিবীকে সচেতন করেছিলেন ।


*মহাশিবরাত্রি মহাজাগরণের রাত্রি ।* আমি, আপনি, আমরা সবাই শুধুমাত্র সামান্য  *সময় আর শক্তির*  সমন্বয়ে তৈরী 'আমি' ।


*সময়* অধরা, সময় অচঞ্চল, সময় স্থির । সময় স্বয়ম্ভূ, সময়ই মহাকাল । তার আপন আধার আছে, আছে স্বতন্ত্র অস্তিত্ব । তাকে নিয়ে আমাদের কিছুই করার নেই । আমরা না পারবো তার গতি কমাতে বা বাড়াতে । *তার গতি বা স্থিতি,*  দুই-ই আমাদের নাগালের বাইরে ।


কিন্তু এনার্জি ? *শক্তি ?*  আমাদের মধ্যে এনার্জি বা শক্তির স্রোত কতখানি উদ্দীপনায় ভরপুর, অথবা *এনার্জি স্তর*  একেবারেই স্তিমিত ; -- আপনি কে, আর *পৃথিবীতে আপনার অস্তিত্ব ও উপস্থিতির মূল্য*-ই বা কতখানি বা কতটুকু, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে *আপনার মধ্যে পুঞ্জীভূত শক্তি*-র হ্রাস - বৃদ্ধির উপর । অর্থাৎ, আপনার *পজিটিভ মানসিকতা*-র এনার্জি স্তর আপনার *নেগেটিভ মানসিকতা*-র নিম্ন মানের এনার্জির থেকে সর্বদাই বেশী হবে ।


পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই সব ধরনের *আধ্যাত্মিকতার মূল লক্ষ্য*-ই হলো মানুষের এনার্জি লেভেলকে *সম্ভাবনার চরম লক্ষ্যের* দিকে এগিয়ে বা তুলে নিয়ে যাওয়া ।


*আধ্যাত্মিক অন্বেষণের*  কোনো পথ ও পন্থা হয়তো এই কাজটাই করছে *সজ্ঞানে,*  আবার অনেক এমন পন্থাও রয়েছে, যারা এই একই কাজ করে চলেছে, *পূর্ণ অজ্ঞানতায় ।* 


*যে বা যারাই*  নিজেদের _বর্তমান মানসিক এনার্জি লেভেলকে_  তারা আজকে যেমন আছেন, *তার ঊর্ধ্বে*  তুলে নিয়ে যেতে চান, *মহাশিবরাত্রি*  তাদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ।


*মহাশিবরাত্রিতে*  পৃথিবীর *উত্তর গোলার্ধে*  পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহগুলো এমন অবস্থানে থাকে, যখন নিতান্ত স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মেই *মানুষের শরীর ও মনের ঊর্জ্জার স্তর*  ঊর্ধ্বগামী থাকে । সচেতন মানুষ তার *আধ্যাত্মিকতার উচ্চতম পর্যায়ে* থাকেন ।


*প্রতি বছর* - মার্চের চান্দ্র মাস *মঘা*-র শিবরাত্রিকে *মহাশিবরারি* বলা হয়, কারণ বছরের ১২ - ১৩ টি শিবরাত্রির মধ্যে এটি সবচেয়ে ভাল ও প্রভাবশালী। *নক্ষত্রস্খলিত* (নক্ষত্র থেকে খসে পড়া) *অখন্ডমন্ডলা* এই সমস্ত ও তার উপর *মানুষ সমেত* যেতে যা কিছু, সবই সেই নক্ষত্র স্খলিত, *মহাজাগত স্পেস - টাইম* ও তার ভিন্ন রূপ। *মহাজাগতিক ঊর্ধ্বমুখী পজিটিভ এনার্জির* স্রোতে আপন শক্তিস্রোত বৃদ্ধির আজ মহাকাল প্রেষিত এক মহাসুযোগ। *আজকের রাত্রি শুয়ে - ঘুমিয়ে কাটালে*, আবার এক তারিখ অপেক্ষা।


তাই, আপন *আধ্যাত্মিক* ঊর্জর শক্তি বৃদ্ধি করুন ।

*জোগাড়িত।*


*সংগৃহীত*

No comments:

Post a Comment

T.S. কনকা আর্মি নিউরো সার্জেন

 সাল ১৯৬২। ভারত-চীন যুদ্ধ চলছে। সীমান্তে আহত জওয়ানদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আছে। সেই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরে যোগ দিলেন ...