*_আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মহাশিবরাত্রি_*
*সার্ন :* পৃথিবীর বৃহত্তম ফিজিক্স গবেষনা কেন্দ্র । একশোটি দেশের ছশো আশিটি *(৬৮০)* গবেষনা কেন্দ্রের সমন্বয়ে তৈরী ।
*ক্লাসিক্যাল ফিজিক্সে* উল্লেখ করা মৌলিক কণাগুলিকে আরো সুক্ষ ভাবে ভেঙে 'কোয়ান্টাম ফিজিক্সের' মূলরহস্য *(theory of everything)* আবিষ্কার করা তাদের অন্যতম কাজ ।
২০০৪ সালে এই গবেষনা কেন্দ্র একটি নটরাজ মূর্তি স্হাপন করে । দু মিটার লম্বা , ধাতব এই *নটরাজ* তারা নিয়ে আসে ভারতবর্ষ থেকে । বিনাশের দেবতা হিসেবে কল্পিত এই *নৃত্যরত নটরাজ* মূর্তি তাদের চমৎকৃত করে ।
*ভারতীয় শিবপুরানে* নটরাজের ব্যাখ্যার সঙ্গে *কণা সৃষ্টির* আদিতে 'ইউনিভার্সাল কসমিক ড্যান্স' এর সংযোগ স্হাপিত করেন তাঁরা ।
শূন্যের "তরঙ্গ" ( cosmic dance ) থেকে 'আদি কণা' সৃষ্টি ব্যাখ্যা করার দিকে একটি বিরাট পদক্ষেপ (কোয়ান্টাম লিপ) প্রমানিত হয় তাদের *'লার্জ হেড্রন কোলাইডার'* (LHC) মেশিনের সাহায্যে । সনাতন ভারতের ঋষি *আর্যভট্ট* _'শূন্য'_ আবিষ্কার করেননি । তিনি শূন্যের গানিতিক রূপ দিয়েছিলেন মাত্র । *শূন্যকেই শিব* হিসেবে কল্পনা করা হয়েছিলো সনাতন ভারতে ।
শূন্যের উপর প্রতিষ্ঠিত 'কাল' *(সময় নয় , কাল মানে স্পেস- টাইম)*-কেই আমরা শিবের বুকের উপর দাঁড়ানো কালী বলে পুজো করেছি ।
এর আগে বিজ্ঞানী *নিকোলা টেসলা* _'বৈদান্তিক বিজ্ঞানকে'_ আধুনিক রিলেটিভিটির মূলরূপ বলে উল্লেখ করেছিলেন ।
আধুনিক কম্পিউটারের জনক *চার্লস ব্যাবেজ* লিখেছেন সনাতন শাস্ত্র _'নব্য ন্যায়'_ থেকে তাঁরা *আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের* অবধারনা গ্রহন করেছিলেন ।
*কার্ল সাগান* -এর মতো (আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে যাঁর মূল্যায়ন : *_স্পেসিফিকেশন ইজ ফর এ্যান্টস্_*) প্রথিতযশা পাশ্চাত্য বিজ্ঞানী প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞানসাধনাকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বলে ঘোষনা করেছিলেন । যিনি বিদ্যার *এ্যাজাইমিলেশনকে* (সমন্বয়ীকরণ) অর্থাৎ, আধুনিক শিক্ষা নয়, ভারতের সাবেক ও সনাতন *গুরুকুলীয় শিক্ষা ব্যবস্থার* উৎকর্ষতা সম্বন্ধে পৃথিবীকে সচেতন করেছিলেন ।
*মহাশিবরাত্রি মহাজাগরণের রাত্রি ।* আমি, আপনি, আমরা সবাই শুধুমাত্র সামান্য *সময় আর শক্তির* সমন্বয়ে তৈরী 'আমি' ।
*সময়* অধরা, সময় অচঞ্চল, সময় স্থির । সময় স্বয়ম্ভূ, সময়ই মহাকাল । তার আপন আধার আছে, আছে স্বতন্ত্র অস্তিত্ব । তাকে নিয়ে আমাদের কিছুই করার নেই । আমরা না পারবো তার গতি কমাতে বা বাড়াতে । *তার গতি বা স্থিতি,* দুই-ই আমাদের নাগালের বাইরে ।
কিন্তু এনার্জি ? *শক্তি ?* আমাদের মধ্যে এনার্জি বা শক্তির স্রোত কতখানি উদ্দীপনায় ভরপুর, অথবা *এনার্জি স্তর* একেবারেই স্তিমিত ; -- আপনি কে, আর *পৃথিবীতে আপনার অস্তিত্ব ও উপস্থিতির মূল্য*-ই বা কতখানি বা কতটুকু, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে *আপনার মধ্যে পুঞ্জীভূত শক্তি*-র হ্রাস - বৃদ্ধির উপর । অর্থাৎ, আপনার *পজিটিভ মানসিকতা*-র এনার্জি স্তর আপনার *নেগেটিভ মানসিকতা*-র নিম্ন মানের এনার্জির থেকে সর্বদাই বেশী হবে ।
পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই সব ধরনের *আধ্যাত্মিকতার মূল লক্ষ্য*-ই হলো মানুষের এনার্জি লেভেলকে *সম্ভাবনার চরম লক্ষ্যের* দিকে এগিয়ে বা তুলে নিয়ে যাওয়া ।
*আধ্যাত্মিক অন্বেষণের* কোনো পথ ও পন্থা হয়তো এই কাজটাই করছে *সজ্ঞানে,* আবার অনেক এমন পন্থাও রয়েছে, যারা এই একই কাজ করে চলেছে, *পূর্ণ অজ্ঞানতায় ।*
*যে বা যারাই* নিজেদের _বর্তমান মানসিক এনার্জি লেভেলকে_ তারা আজকে যেমন আছেন, *তার ঊর্ধ্বে* তুলে নিয়ে যেতে চান, *মহাশিবরাত্রি* তাদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ।
*মহাশিবরাত্রিতে* পৃথিবীর *উত্তর গোলার্ধে* পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহগুলো এমন অবস্থানে থাকে, যখন নিতান্ত স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মেই *মানুষের শরীর ও মনের ঊর্জ্জার স্তর* ঊর্ধ্বগামী থাকে । সচেতন মানুষ তার *আধ্যাত্মিকতার উচ্চতম পর্যায়ে* থাকেন ।
*প্রতি বছর* - মার্চের চান্দ্র মাস *মঘা*-র শিবরাত্রিকে *মহাশিবরারি* বলা হয়, কারণ বছরের ১২ - ১৩ টি শিবরাত্রির মধ্যে এটি সবচেয়ে ভাল ও প্রভাবশালী। *নক্ষত্রস্খলিত* (নক্ষত্র থেকে খসে পড়া) *অখন্ডমন্ডলা* এই সমস্ত ও তার উপর *মানুষ সমেত* যেতে যা কিছু, সবই সেই নক্ষত্র স্খলিত, *মহাজাগত স্পেস - টাইম* ও তার ভিন্ন রূপ। *মহাজাগতিক ঊর্ধ্বমুখী পজিটিভ এনার্জির* স্রোতে আপন শক্তিস্রোত বৃদ্ধির আজ মহাকাল প্রেষিত এক মহাসুযোগ। *আজকের রাত্রি শুয়ে - ঘুমিয়ে কাটালে*, আবার এক তারিখ অপেক্ষা।
তাই, আপন *আধ্যাত্মিক* ঊর্জর শক্তি বৃদ্ধি করুন ।
*জোগাড়িত।*
*সংগৃহীত*
No comments:
Post a Comment