Tuesday, 1 March 2022

এক অজানা প্রতিভার বাঙালী ডাক্তার

 দুনিয়ার প্রথম

বেদনাহীন সার্জারি এক বাঙালির নামে,

                              অথচ আমরা অজ্ঞ!


এই বছর অনেকেই

প্রত্যাখ্যান করেছেন পদ্ম 

পুরস্কার | কিন্তু এইসব খবরের

মাঝে ঢাকা পড়ে গেছে বছর ৫০ এর

একজন কৃতি বাঙালি ডাক্তারের পদ্মশ্রী 

জয়ের খবর,কে এই বিখ্যাত ডাক্তারবাবু ?


প্রকর দাশগুপ্ত | ছোটবেলা কেটেছে উত্তর প্রদেশের লখনৌতে | ১৯৮৯ সালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস | এরপর প্রকর দাশগুপ্ত পাড়ি দেন ইংল্যান্ড | ১৯৯৪ সালে তিনি এফআরসিএস ডিগ্রি অর্জন করেন | ১৯৯৬ সালে ইউরোলজি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন তিনি | ২০০২ সালে তিনি যোগ দেন ইংল্যান্ডের বিখ্যাত গুইস হসপিটালের ইউরোলজি বিভাগে এবং আজও ওই হসপিটালের সাথেই যুক্ত রয়েছেন | পাশাপাশি তিনি লন্ডনের কিংস হেলথ পার্টনারস কলেজে অধ্যাপনাও করেন | 


প্রস্টেট ক্যান্সার কথাটির সঙ্গে আমরা প্রায় সকলেই পরিচিত। সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়স হলে পুরুষদের মধ্যে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে থাকে । এর পাশাপাশি বয়স বাড়লে বহু মানুষ কিডনির সমস্যায় ভোগেন | কিডনি ও প্রস্টেট গ্রন্থির বিভিন্ন রোগ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছেন ডাক্তার প্রকর দাশগুপ্ত | শুধুই গবেষণাই নয়, আধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি প্রস্টেট গ্রন্থির  অস্ত্রোপ্রচার করেছেন | তিনিই বিশ্বে প্রথম এই সার্জারি চালু করেন। তার দেখানো পথে আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালু হয়েছে বেদনাহীন এই সার্জারি | বেদনাহীন এই সার্জারির নাম তিনি রেখেছেন "দাশগুপ্ত টেকনিক" | শুধু ইউরোলজিই নয়, নিউরোলজি এবং নিউরোসার্জারি বিষয়েও পান্ডিত্য রয়েছে ডাক্তারবাবুর | ২০০৫ সালে দা ভিঞ্চি রোবটের মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করিয়েছিলেন তিনি | 


২০১৩ থেকে ২০২০ সাল অবধি ডাক্তার প্রকর দাশগুপ্ত ব্রিটিশ জার্নাল অফ ইউরোলজি ইন্টারন্যাশনাল এডিটর ইন চিফ ছিলেন | ২০১৮ সালে পেয়েছেন কিংস কলেজের ফেলোশিপ, ২০২০ সালে ব্রিটিশ এসোসিয়েশন অফ ইউরোলোজিক্যাল সার্জেন্স এর পক্ষ থেকে পেয়েছেন সেন্ট পিটার্স মেডেল | আজ পর্যন্ত ইউরোলজি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ১১০০ পেপার প্রকাশ করেছেন | ইউরোলজি নিয়ে লিখেছেন ১০ টি বই | ইউরোলজি নিয়ে গবেষণা ও রোগ নিরাময়ে অসামান্য অবদানের জন্যেই ভারত সরকার ডাক্তার প্রকর দাশগুপ্তকে পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান করেছে |


ডাক্তার প্রকর দাশগুপ্তকে শুভেচ্ছা 🎉

(সংগ্রহ)

No comments:

Post a Comment

T.S. কনকা আর্মি নিউরো সার্জেন

 সাল ১৯৬২। ভারত-চীন যুদ্ধ চলছে। সীমান্তে আহত জওয়ানদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আছে। সেই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরে যোগ দিলেন ...