Tuesday, 30 August 2022

অসুর

 দুর্গা পুজো আসছে,আসুন জেনে নিই অসুর শব্দের অর্থ কি ছিলো। 


অসুর শব্দটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চোখের সামনে উদ্ভাসিত হয় এক অতি অদ্ভুত, বর্বর, অত্যাচারী প্রাণীর প্রতিমূর্তি।


বিশেষ করে ভারতীয় পুরাণে অসুর নিয়ে নানান কল্পকাহিনী আছে, দেবাসুরের যুদ্ধ, দেবতাদের হাতে নানান অসুর নিধন, দেবীদুর্গার হাতে বিভিন্ন অসুর নিধনের কাহানী পুরাণের অন্যতম উপজীব্য বিষয়।


পুরাণ অনুসারে অসুরা অন্ধকারে, অত্যাচারে জাজ্বল্যমান নিদর্শন, যাদের হাতে মানুষ, দেবতা সবাই লাঞ্ছিত, নিপীড়িত। তবে দেখা যায় অসুররা যতই দেবতা ও মনুষ্য বিরোধী হোক না কেন তারাও পৌরাণিক ত্রিদেবেরই উপাসক।


এইবার দেখাযাক বৈদিক সাহিত্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে অসুর শব্দের প্রকৃত অর্থ। যা সময়ে অন্তরে নিন্দা সূচক শব্দে পরিণত হয়েছে, তা কিন্তু সুদূর অতীতকালে সমাদৃত ছিল আমাদের সভ্যতায়।


অসুর শব্দটি এমন একটি শব্দ যা সময়ের অন্তরে বন্দিত থেকে নিন্দিত হয়েছে। এই লেখাতে সেই বিষয়েই আলোকপাত করবার চেষ্টা করবো।


বেদের প্রথম ভাগে যেই শব্দ প্রশংসা সূচক ছিল তা কি কারণে পরবর্তী সময়ে নিন্দিত হল সেটা চিন্তার বিষয়। এই আলোচনা শুরুর আগে আমাদের জানা উচিৎ বেদোক্ত দেব ও অসুর কারা?


শতপথ ব্রাহ্মণ বলছে “যজ্ঞেন বৈ দেবাঃ” যারা যজ্ঞ করতেন তারা দেব।দেবতা কথার অর্থ বিদ্বান ব্যক্তি, বিদ্যাংসো হি দেবাঃ(শতপথ ব্রাহ্মণ), বিদ্বান তিন প্রকার দেব,ঋষি,পিতৃ।


তেমনি অসুর শব্দের অর্থ বীর,যোদ্ধা,জাজ্বল্যমান, অসুর কোন নিন্দা সূচক শব্দ না ঋক্‌বেদে বহুবার প্রশংসা সূচক অভিবাদন স্বরূপ ইন্দ্র,সূর্য, বরুণ কে অসুর সম্ভাষণ করা হয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে যে দেবাসুরের সংগ্রামের কথা পাই, সেটা বাস্তবে শক্তির সঙ্গে প্রজ্ঞার লড়াই ছিল, যেখানে বিদ্বানরা জয় লাভ করে ছিল, আর অসুররা পরাজিত হয়ে আর্য্যবর্ত ত্যাগ করে পশ্চিমে আ্যসিরিয় সভ্যতা স্থাপন করেন। কিন্তু আজ ইতিহাস বিকৃতির ফলে দেবতা বলতে অপার্থিব মহান শক্ত ও অসুর বলতে অদ্ভুত অত্যাচারী কিছু বোঝায়।


আসলে দেব বা অসুররা আমাদেরই মত মানুষ। এরা দুইদলই ভারতেরই দুইটি সুপ্রাচীন আর্য জাতি।তবে একদল যাজ্ঞিক, আর অন্যদল যজ্ঞ রহিত। বেদে ১০৫ বার অসুর শব্দের উল্লেখ আছে।তার মধ্যে ৯০ বারই প্রশংসা সূচক। যেমন অসুরঃ অসু ক্ষেপণে শত্রুণ্ ইত্যসুরঃ। যারা শত্রুদের উপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে পটু তারা অসুর। এবং অসুন্ প্রাণান রাতি দদাতি ইত্যসুরঃ।যারা প্রাণদান করে, যাদের মধ্যে দুর্দম প্রাণশক্তির প্রকাশ দেখা যায়, সেই সমস্ত শক্তিশালী বীররাই অসুরপদবাচ্য।


যাস্ক তার নিঘণ্টু ও নিরুক্ত গ্রন্থে(৩/৮) বলেছেন যে অস্ ধাতু থেকে অসুর শব্দটি নিষ্পন্ন হয়েছে, যাস্কের মতে অসু শব্দ অর্থ শ্বাসবায়ু। বৈদিক যুগের প্রথম দিকে দেবশক্তিকেও অসুর উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে দেব শক্তির মধ্যে যারা বীর যেমন—- রুদ্র,মরুৎ,বরুন, ত্বষ্টা,অগ্নি, বায়ু, পুষা, সবিতা, সূর্য, আকাশ,ইন্দ্র এঁদের বৈদিক ঋষিরা অসুর বলতেন।

১)মরুৎ( ঋগ্বেদ ৬৪/২)

২)রুদ্র(ঋগ্বেদ ৫/৪২/২১)

৩)ইন্দ্র(ঋগ্বেদ ৫৪/৩)

৪)ররুণ(ঋগ্বেদ ২/২৭/১০)

৫)অগ্নি(ঋগ্বেদ ৫/১২/১)


প্রথম প্রথম দেব ও অসুরের মধ্যে খুব সৌভ্রাতৃত্ব ছিল।কিন্তু পরে ব্যক্তিত্ব জনিত মতপার্থক্য হতে শুরু করে, এই বিরোধ ছিল মস্তিষ্ক আর পেশীশক্তি মধ্যে। উপনিষদে উল্লেখ্য আছে যে সভ্যতার মধ্যভাগে দেবাসুরের যুদ্ধের কথা আর সেই যুদ্ধ পরমব্রহ্ম দেবানুকূলে ছিলেন তাই দেবতাদের জয় হয়েছিল।দেবতাদের নেতা ইন্দ্র বৃত্রাসুরকে পরাস্ত করেন, শত্রুতা সুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে “অসুর” শব্দটি খারাপ অর্থে ব্যবহৃত হতে থাকলো, যেমন অসুরাঃ রাক্ষসাঃ দেবনিন্দকাঃ, ব্রাহ্মণে অসুরদের বৃত্র হিসাবে উপস্থাপ করল, বৃত্র মানে আবরণ, যা অন্ধকারের প্রতীক।


বৈদিক যুগের শেষভাগে যজ্ঞবাদী আর্যদের সঙ্গে অসুরদের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। আর্য অসুরজাতির অধিকাংশ ভারত ত্যাগ করে পারস্য ও তুর্কীস্থানে গিয়ে বাস করতে থাকেন।বাকীরা যারা রইলেন, তাঁরা প্রয়াগ, ছোটনাগপুর, তিব্বত ও কামরূপের দিকে চলে যান।


অসুরদের যে বড় দলটি ভারতের বাইরে চলে গেছিল, আজ থেকে ৫০০০ হাজার বছর আগেই তারাই ব্যাবিলনে এক সাম্রাজ্য স্থাপন করেন। এই সাম্রাজ্যের নাম অসুর বা আসীরিয়া।টাইগ্রীস নদীর উপকূলে এদের যে রাজধানী স্থাপিত হয় তার নাম অস্সুর।আসীরিয়দের ধর্মগ্রন্থ আবেস্তাতে অহুর শব্দটি অসুর শব্দের অপভ্রংশ, অহুর মাজদা এই সভ্যতার পরমেশ্বরের নাম। আসীরিয় সভ্যতার রাজরাজাদের নাম গুলির মধ্যেও অসুর শব্দটি পাওয়া যায়, যেমন অসুর-সিরি-পাল(Asurnasipal),অসুর-বনিপাল (Asurbanipal)।মোট কথা যাদের বাসস্থানের নাম আসিরীয় বা অসুর, রাজাদের নাম অসুর উপাধিযুক্ত এবং উপাস্য দেবতার নাম অসরি বা অস্সুর তারাই অসুর নামে অভিহিত।


ভারতীয় অসুরগণ দুর্গ নির্মাণে পটু ছিলেন।বেদে তার বহু প্রমাণ পাওয়া যায়।শম্বর অসুরের ছিল ৯০ টি দুর্গ(ঋ১/১৩০/৭)।বর্চী অসুরের লক্ষ লক্ষ যোদ্ধা ছিল, তিনি নিজেও ছিলেন দুর্দান্ত বীর (ঋ ১০/১৫১/৩। পিপরু অসুরের বড় কেল্লা ছিল।ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলে দেখি ইন্দ্র পিপরুর কেল্লা নষ্ট করে দিচ্ছেন(ঋ ১০/১৩৮/৩)।


এদিকে আসিরীয় অসুরদের যে পরিচয় পাই, তাতে তারাও যে যুদ্ধবিদ্যায় পটু ছিলেন তারও ইতিহাস সম্মত প্রমাণ আছে। তাদেরও দুর্ভেদ্য দুর্গ ছিল।কালক্রমে বাহুবলে এশিয়া মাইনরে হতে ককেশাস পর্বত পর্যন্ত নিজেদের অধিকার বিস্তার করেছিলেন।

ভারতীয় অসুরজাতি এবং আসিরীয় অসুরজাতি যে একই জাতি তা বলবার আরও কিছু কারণ আছে।


আসিরীয়রা দুরকম শ্মশান তৈরী করতেন।একটি ছিল তাদের তাবুর আকৃতি আর একটি ডিম্বাকৃতি। শতপথ ব্রাহ্মণে দেখি দেবতাদের শ্মশান ছিল চতুবস্রাকার আর অসুরদের শ্মশান ছিল গোলাকার(১৩/৪/১/৫)


আসীরীয় অসুররা মার্ডুকের প্রতীক প্রতীক পূজা করতেন। এই প্রতীক বাণাকৃতি। storm god এর পূজাও এদের মধ্যে প্রচলিত ছিল।এদিকে ভারতীয় অসুররাও ছিলেন রুদ্রোপাসক।বেদে রুদ্রও strom god রূপে চিত্রিত।


আর এই দুই জাতীই ছিল মায়ার উপাসক।


অসুররা ছিল ভারতেরই একটি প্রাচীন জাতি,ভারতের আর্য জাতির বংশধর, তারা আমাদের মত মনুষ্যদেহধারী এবং আসিরীয়রাই সেই অসুরজাতির বংশধর।


G.SMITH এর লেখা ১৮৮৩ বই Assyrian Discoveries বইটা দেখতে পারেন বিষদ ভাবে জানাবার জন্য।


(এই লেখার তথ্য সূত্র বৈদিক ভারত)

Friday, 26 August 2022

কিছু সত্তি

 জল ও প্রাণ পৃথিবীর নিজস্ব সম্পদ নয়

----------------------------------------------------

 *C*


জাপানী গবেষণা:-

------------------------

একটি রেফ্রিজারেটর এর সমান আকৃতির মহাকাশযান "হায়াবুসা-২"। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে, জাপান (JAXA, Japan aerospace exploration agency) মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে। এর আগে হায়াবুসা-১ উৎক্ষেপিত হয়েছিল। 

         হায়াবুসা- ২  হীরে আকৃতির (মারকুইজ) একটি গ্রহাণু "রিয়গু"তে অবতরণ করে। রিয়গু শব্দের অর্থ ড্রাগনের জায়গা। রিয়গু গ্রহাণুটি পৃথিবী থেকে সাড়ে ১৮ কোটি মাইল দূরে অবস্থিত। ২০২০ সালে হায়াবুসা-২ পৃথিবীতে ফিরে আসে। আসার পথে রিয়গু থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসে ৫.৪ গ্রাম নুড়ি ও ধুলোর নমুনা। দুর্লভ সেই  ধুলো ও পাথরের নমুনা নিয়ে, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকরা দীর্ঘ গবেষণা চালান।

সম্প্রতি "নেচার অ্যাস্ট্রোনমি" জার্নালে সেই গবেষণাফল প্রকাশিত হয়েছে। 

  "কয়েকশো কোটি বছর আগে পৃথিবীতে কিভাবে মহাসাগর সৃষ্টি হয়েছিল? এর উত্তর রিয়গু তে আছে। গবেষকরা দাবি করেছেন, পরিবর্তনশীল ও জৈব উপাদান সমৃদ্ধ 'সি টাইপ' গ্রহাণুগুলো জলের মূল উৎস। গ্রহাণুর ওই নমুনায় যে জৈব উপাদান মিলেছে, তাতে পৃথিবীতে জীবন গঠনের উপাদান আবিষ্কার করেছেন। তারা বলছেন, প্রাণের মূল উপাদান "অ্যামিনো অ্যাসিড" মহাকাশেই সৃষ্টি হয়েছিল; হয়েছে। জল বা প্রাণ পৃথিবীর নিজস্ব সম্পদ নয়"।

ভারতীয় গবেষণা:-

------------------------

সামান্য কিছু মতভেদ সত্বেও, ভারতীয় ঋষি, যোগী, বিজ্ঞানী তথা গবেষকদের সার্বিক সিদ্ধান্ত:-

সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি। এই চার যুগকে একত্রে 'দিব্যযুগ' বলা হয়। 

সত্যযুগ ১৭,২৮,০০০ বছর। ত্রেতা যুগ ১২,৯৬,০০০ বছর। দ্বাপর যুগ ৮,৬৪,০০০ বছর। কলিযুগ ৪,৩২,০০০ বছর। চার যুগ মিলে মোট ৪৩,২০,০০০ (৪৩ লক্ষ বিশ হাজার) বছর। এইরূপে এক হাজার চতু:যুগে ব্রহ্মার একটি দিন হয়। ব্রহ্মার একদিন ৪৩২,০০,০০,০০০ (৪৩২ কোটি বছর)। ব্রহ্মার একদিন "কল্প"নামে অভিহিত। প্রতিটি কল্প ১৪ মন্বন্তরে বিভক্ত। এক একটি মন্বন্তর ৭১টি চার যুগে বিভক্ত। যাইহোক- এক যুগ থেকে আরেক যুগে (যেমন সত্য থেকে দ্বাপর, কলি থেকে পুনরায় সত্যযুগ) পরিবর্তনের সময় পৃথিবীতে বড় বিবর্তন সূচিত হয়। জীবজগৎ তথা প্রকৃতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন সাধিত হয়, লক্ষিত হয়। কিন্তু কল্পশেষে পৃথিবীতে "মহাপ্রলয়" নামে। এই মহাপ্রলয়ে পৃথিবীর সমস্ত জীবজগৎ বিনষ্ট হয়ে যায়। এই মহাপ্রলয় কখনই কোন জীব বা মনুষ্য সৃষ্ট হয় না।

আমাদের সুদূরপ্রসারী কল্পনায়ও আনা সম্ভব নয়, ব্রহ্মাণ্ডের পরিব্যপ্তি কত! তবে ভারতীয় গবেষকদের আবিষ্কার- ব্রহ্মাণ্ড অতি বৃহৎ শূন্য; গোলাকার। ঠিক যেমন গ্রহ- উপগ্রহের আকৃতি গোলাকার হয়। এই গোল ভাবনা থেকে শূন্যের উৎপত্তি। ভারতীয় ঋষিরাই শূন্যের উদ্ভাবক।

ভারতীয় ঋষিদের এটাও আবিষ্কার- ব্রহ্মাণ্ডে লক্ষ কোটি তারকা- নক্ষত্রের মধ্যে বারোটি বিশেষ সূর্য বর্তমান (আমাদের পৃথিবীকে ধরে)। এই ১২ টি সূর্যের অধীনে বারোটি এমন গ্রহ রয়েছে, যেখানে প্রাণীজগৎ বা আমাদের পড়শী রয়েছে। আমরা এখনো দ্বিতীয় সূর্য বা আমাদের পড়শী আবিষ্কার করে উঠতে পারিনি।


প্রাণের রকম ফের:-

-------------------------

প্রাণ মাত্র চার রকমের। ১, ভূমিজ(গাছপালা, লতা গুল্ম ইত্যাদি)   ২, স্বেদজ(মশা, মাছি, দৃশ্য অদৃশ্যমান ভাইরাস প্রভৃতি) ৩, অন্ডজ (পাখি, মাছ, ব্যাঙ, সাপ ইত্যাদি) ৪, গর্ভজ (মানুষ- গরু- ছাগল প্রভৃতি)।


প্রাণের  মূল সূত্র:-

-----------------------

প্রাণী বা জীবজগতের জন্ম মৃত্যু শৃংখল বা বেঁচে থাকার মূল মাধ্যম কিন্তু "পঞ্চভূত"। এই পঞ্চভূত হলো- ১, আকাশ ২,বায়ু ৩,আগুন ৪,মাটি ও ৫,জল। ব্রহ্মাণ্ডের যে যে গ্রহে পঞ্চভূত রয়েছে, সেখানেই প্রাণী জগৎ আছে। যেখানে পঞ্চভূত নেই সেখানে প্রাণিজগত নেই, প্রাণের বিকাশ ও নেই। এই দিক দিয়ে, সূর্যের অধীনে আমরা পৃথিবী ছাড়া, আর কোন গ্রহ উপগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা উচিত না।


মহাপ্রলয়ের পরে:-

-----------------------

       "এই ব্রহ্মাণ্ডে কোন কিছু আমরা সৃষ্টি বা ধ্বংস করতে পারিনা"। শুধুমাত্র ক্ষণিকের জন্য রূপ বিবর্তন করতে পারি।

       ‌মহাপ্রলয়ের পরে জীবজগৎ এর প্রাণ রূপ বীজ, অতি সূক্ষ্ম অবস্থায়, পঞ্চভূতের সঙ্গে অন্য গ্রহে স্থানান্তরিত হয়। এটা ঈশ্বরীয় নিয়ন্ত্রণ, চেন সিস্টেমে চলে। এদিক দিয়ে- মঙ্গল, শুক্র, বৃহস্পতি গ্রহাদিতে হয়তো কোন কল্পে প্রাণ ছিল। বিষয়টা এখনো আমরা জানিনা। প্রমাণিত হয়নি।


এরিক ফন দানিকেন তত্ত্ব :-

----------------------------

সুইচ গবেষক- লেখক দানিকেন এর এলিয়েন তত্ত্ব বা ভিনগ্রহ থেকে পৃথিবীতে জীবজগতের আবির্ভাব। যা নিয়ে আজ বিশ্বব্যাপী ব্যাপক গবেষণা চলছে। দানিকেন যখন এসব কথা বলেন, তখন পৃথিবীর একশ্রেণীর বোদ্ধাদের হাসাহাসি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। দানিকেন কে অনেকে পাগল বলতেও কার্পণ্য করেননি। ঠিক যেমন ভারতের, ভারতীয় ঋষিদের গবেষণা নিয়ে এখনো এক শ্রেণীর মানুষ চরম দ্বি-চারিতা ও দ্বিধায় ভোগেন।

দানিকেনের এই তত্ত্ব কিন্তু ভারতীয় দর্শন থেকে ধার করা। তিনি তা অকপটে স্বীকারও করেছেন; করেন।


উপসংহার:-

----------------

      "জল ও প্রাণ পৃথিবীর নিজস্ব সম্পদ নয়।" জাপানী 'হায়াবুসা-২' এর গবেষণা ফল নিয়ে আমরা ভারতীয়রা উচ্ছ্বসিত নই। বরং আমরা খুশি, আনন্দিত এই ভেবে যে, আজ থেকে পাঁচ- সাত হাজার বছর আগে আবিষ্কৃত "ভারতীয় সূত্র" কে বিজ্ঞানের মাপকাঠিতে বিচার ও নতুনভাবে প্রমাণ করবার জন্য। ধন্যবাদ প্রাপ্য- জাপান, রাশিয়া, আমেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেনের বিজ্ঞানী কুলের। ধন্যবাদ হায়াবুসা-২ ।


তথ্যসূত্র:-


১, ঋকবেদ। অনুবাদ রমেশ চন্দ্র দত্ত। প্রকাশক- সদেশ। ১০/৮২/১ ও ১০/১২৯/১। এছাড়া ১,২,৩ ও ৫ মন্ডলে পূর্বাভাস।

 ২,Journal "Nature Astronomy"।

৩,, Chariots of the Gods.- Erich Paul Von Daniken. 

৪,, ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণম্- পৃষ্ঠা ১৩। প্রকাশক নবভারত পাবলিকেশন।

৫,, বিষ্ণু পুরাণম্। পৃষ্ঠা- ১০ থেকে ১৭। নবভারত পাবলিকেশন।

৬, কূর্ম পুরাণম্। পৃষ্ঠা-২০ থেকে ২৬। প্রকাশক নবভারত পাবলিকেশন।

৭, মহাভারতম্। আদি পর্ব। বিশ্ববাণী প্রকাশনী। পৃষ্ঠা- ২৪ থেকে ২৯।

৮, মনুসংহিতা। সৃষ্টি প্রকরণ। প্রথম অধ্যায়। শ্লোক সংখ্যা ৫-১৩. ভাষান্তর- মানবেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়।প্রকাশক- সংস্কৃত পুস্তক ভান্ডার।

৯, উপনিষদ। অখন্ড সংস্করণ। হরফ প্রকাশনী। মুণ্ডুক উপনিষদ। দ্বিতীয় মুণ্ডক।

১০, পদ্মপুরাণম্। সৃষ্টি খন্ড। নবভারত পাবলিশার্স। পৃষ্ঠা ৬।

১১, অগ্নি পুরাণম্। নবভারত পাবলিশার্স। পৃষ্ঠা- ৪১।

১২, শ্রী সাম্ব পুরাণম্। নবভারত পাবলিশার্স। পৃষ্ঠা- ১১৯ থেকে ১২২।

১৩, বায়ু পুরাণম্। নবভারত পাবলিশার্স। ৩৩ অধ্যায়। পৃষ্ঠা ১৬-১৯।

১৪, কালিকা পুরাণম্। নবভারত পাবলিশার্স। ২৫ অধ্যায়। পৃষ্ঠা ২১৬ থেকে ২২৪।

১৫, ভবিষ্যপুরাণম্। নবভারত পাবলিশার্স। মধ্য পর্ব। পৃষ্ঠা ১৭০ থেকে ১৭৪।

১৬, দেবীভাগবতম্। পঞ্চানন তর্করত্ন সম্পাদিত। নবভারত পাবলিশার্স। ৩২ অধ্যায়। পৃষ্ঠা-৭০৫।

Sunday, 14 August 2022

কিছু ভূলে যাওয়া কথা


 -:সনাতন ধর্মের ভূলে যাওয়া সহজ কিছু কথা:- 


 বিশ্বের বৃহত্তম এবং বৈজ্ঞানিক সময় গণনা পদ্ধতি (ঋষিদের দ্বারা করা গবেষণা)


 কথা = এক সেকেন্ডের 34000তম

 1 ত্রুটি = এক সেকেন্ডের 300তম

 2 ত্রুটি = 1 ল্যাভ,

 1টি প্রেম = 1টি মুহূর্ত

 30 মুহূর্ত = 1 বিপুল,

 60 Vipal = 1 মুহূর্ত

 60 মুহূর্ত = 1 ঘড়ি (24 মিনিট),

 2.5 ঘড়ি = 1 হোরা (ঘণ্টা)

 3 হোরা = 1 প্রহর এবং 8 প্রহর 1 দিন,

 24 হোরা = 1 দিন,

 7 দিন = 1 সপ্তাহ

 4 সপ্তাহ = 1 মাস,

 2 মাস = 1 ঋতু

 6টি ঋতু = 1 বছর,

 100 বছর = 1 শতাব্দী

 10 শতাব্দী = 1 সহস্রাব্দ,

 432 সহস্রাব্দ = 1 যুগ

 2 যুগ = 1 দ্বাপর যুগ,

 3 যুগ = 1 ত্রেতাযুগ,

 4 যুগ = সত্যযুগ

 সত্যযুগ + ত্রেতাযুগ + দ্বাপরযুগ + কলিযুগ = 1 মহাযুগ

 72 মহাযুগ = মন্বন্তর,

 1000 মহাযুগ = 1 কল্প

 1 নিত্য প্রলয় = 1 মহাযুগ (পৃথিবীতে জীবন শেষ হয় এবং তারপর শুরু হয়)

 1 নৈমিতিকা প্রলয় = 1 কল্প (দেবতাদের শেষ ও জন্ম)

 মহালয়া = 730 কল্প (ব্রহ্মার শেষ ও জন্ম)


 সমগ্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং বৈজ্ঞানিক সময় গণনা পদ্ধতি এখানে রয়েছে যা আমাদের দেশে ভারতে তৈরি।  এটি আমাদের ভারত যা আমাদের গর্ব করা উচিত।


 দুই পক্ষঃ শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষ।

 দুটি অয়ন: উত্তরায়ণ, দক্ষিণাযন।

দুটি সুখ: অভ্যূদয় (জাগতিক), নিঃশ্রেয়স (মুক্তি সুখ)।

 তিনটি জগত: পৃথিবী, আকাশ, পাতাল।

 তিনটি গুণ: সত্ত্বগুণ, রজোগুণ, তমোগুণ।

 তিনটি অবস্থা: কঠিন, তরল, বায়ু।

 তিনটি স্তর: শুরু, মধ্য, শেষ।

 তিনটি পর্যায়: শৈশব, যৌবন, বার্ধক্য।

তিনটি অবস্থা: জাগ্রত, মৃত, অচেতন।

 তিনটি কাল: অতীত, ভবিষ্যত, বর্তমান।

 তিনটি নাডি: ইড়া, পিঙ্গলা, সুষুম্না।

 তিনটি শক্তি: শারীরিক,  আত্মিক,  সামাজিক ।

তিনটি ঋণ: পিতৃ ঋণ, দেব ঋণ, ঋষি (আচার্য) ঋণ।

তিন দোষ: বাত , পিত্ত, কফ।

চার বর্ণ: ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র।

চার অবস্থা: জাগ্রত, স্বপ্ন,  সুষুপ্তি,  তুরীয়।

 চারটি নিয়ম: সাম, দাম, দণ্ড,  ভেদ।

 চারটি বেদ: ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ, অথর্ববেদ।

 চার নারী: মা, স্ত্রী, বোন, কন্যা।

 চার যুগ: সত্যযুগ, ত্রেতাযুগ, দ্বাপর যুগ, কলিযুগ।

 চার কাল: সকাল, সন্ধ্যা, দিন, রাত।

 চারটি প্রাণী: জলজ, ভূমিচর, উভচর, খেচর।

 উত্পত্তিগত চারটি : অণ্ডজ, জরায়ুজ, স্বেদজ, উদ্ভিজ।

  চারটি আশ্রম: ব্রহ্মচর্য, গৃহস্থ, বানপ্রস্থ, সন্ন্যাস।

 চারটি খাদ্যদ্রব্য: খাদ্য, পেয়, লেহ্য, চোষ্য।

 চার পুরুষার্থ : ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ।

 চারটি যন্ত্র: তাত, সুশির, অবনাদ্ব, ঘন।

চারটি কোন: ঈশান,  অগ্নি,  নৈঋত, বায়ু।

 পাঁচটি স্থূল ভূত: পৃথিবী, আকাশ, আগুন, জল, বায়ু।

 পাঁচটি ইন্দ্রিয়: চোখ, নাক, কান, জিহ্বা, ত্বক।

 পাঁচটি তন্মাত্রা : শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ ।

 পাঁচ আঙুল: বৃদ্ধাঙ্গুলি , তর্জনী, মধ্যমা, অনামিকা, কনিষ্ঠ।

 

 পাঁচটি বায়ুঃ প্রাণ, আপন, ব্যায়ন, সমান, উদান।

 পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়: চোখ, নাক, কান, জিহ্বা, ত্বক,।

পাঁচটি কর্মেন্দ্রিয়: পায়ু , উপস্থ, হস্ত, পা, বাক।

 ছয়টি ঋতু:  বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত , শীত।

 ছযটি বেদাঙ্গ: শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ , জ্যোতিষ।

ছটি উপাঙ্গ: যোগ,  সাংখ্য, বৈশেষিক, ন্যায়, বেদান্ত, মীমাংসা ।

ছটি দিক: পূর্ব,  পশ্চিম,  উত্তর,  দক্ষিণ,  ঊর্ধ, অধ।


 সাতটি স্বর: সা, রে, গা, মা, পা, ধ, নি।

 সাতটি নোট: ষডজ, ঋষভ, গান্ধার, মধ্যম, পঞ্চম, ধৈবত, নিষাদ।

সাত দিন: সূর্য, সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি।

 সাতটি মাটি: গৌশালা, ঘোড়া, হাতীশাল, রাজদ্বার, বাম্বীর মাটি, নদীর সঙ্গম, পুকুর।

 সাতটি মহাদেশ: জম্বুদ্বীপ (এশিয়া), প্লাক্ষদ্বীপ, শালমলীদ্বীপ, কুশদ্বীপ, ক্রৌঞ্চদ্বীপ, শাকদ্বীপ, পুষ্করদ্বীপ।

 সাত ধাতু (শারীরিক): রস, রক্ত, মাংস, মেদ, অস্থি, মজ্জা, শুক্র।

 সাতটি রঙ: কালা, বেগুনি, নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।



বেদ-জ্ঞান:-


 Q.1- বেদ কাকে বলে?

 উত্তর- ঐশ্বরিক জ্ঞানের গ্রন্থকে বেদ বলে।


 Q.2- বেদ-জ্ঞান কে দিয়েছেন?

 উত্তরঃ ইশ্বর  দিয়েছেন।


 Q.3- ঈশ্বর কখন বেদ-জ্ঞান দিয়েছেন?

 উত্তর- সৃষ্টির আদিতে ঈশ্বর বেদ-জ্ঞান দিয়েছেন।


 Q.4- ঈশ্বর কেন বেদের জ্ঞান দিয়েছেন?

 উত্তর- শুধুমাত্র মানুষের কল্যাণের জন্য।


 Q.5- বেদ কয়টি?

 উত্তর- চারটি।

 1-ঋগ্বেদ

 2-যজুর্বেদ

 3-সামবেদ

 4-অথর্ববেদ


 Q.6- বেদের ব্রাহ্মণ।

         বেদ ব্রাহ্মণ

 1 - ঋগ্বেদ - ঐতরেয়

 2 - যজুর্বেদ - শতপথ

 3 - সামবেদ - আরণ্যক 

 4 - অথর্ববেদ - গোপথ


 Q.7- বেদের কয়টি উপবেদ আছে।

 উত্তর - চারটি।

       বেদ উপবেদ

     1- ঋগ্বেদ- আয়ুর্বেদ

     2- যজুর্বেদ- ধনুর্বেদ

     3 -সামবেদ - গন্ধর্ববেদ

     4- অথর্ববেদ - অর্থবেদ


 প্রশ্ন 8- বেদের অঙ্গ কি?

 উত্তর- ছয়টি।

 1 - শিক্ষা

 2 - কল্প

 3- ব্যাকরণ

4- নিরুক্ত 

 5 - ছন্দ 

 6 - জ্যোতিষ


Q.9- ঈশ্বর কোন ঋষিদের বেদের জ্ঞান দান করেছিলেন?

 উত্তরঃ চারজন ঋষি।

          বেদ ঋষি

 1- ঋগ্বেদ- অগ্নি

 2 - যজুর্বেদ - বায়ু

 3 - সামবেদ - আদিত্য

 4 - অথর্ববেদ - অঙ্গিরা


 প্রশ্ন 10- ঈশ্বর কিভাবে ঋষিদের বেদের জ্ঞান দিয়েছেন?

 উত্তরঃ সমাধি অবস্থায়।


 Q.11- বেদে জ্ঞান কেমন?

 উত্তর- সকল সত্য শাখার জ্ঞান-বিজ্ঞান।


 Q.12- বেদের বিষয় কি কি?

 উত্তর- চারটি।

         ঋষি থিম

 1- ঋগ্বেদ - জ্ঞান

 2- যজুর্বেদ - কর্ম

 3- সামবেদ- উপাসনা

 4- অথর্ববেদ - বিজ্ঞান


 Q.13- বেদে।


 ঋগ্বেদে।

 1- মণ্ডল  - 10

 2 - অষ্টক - 08

 3 - সূক্ত - 1028

 4 - অনুবাক - 85

 5 - ঋচা - 10589


 যজুর্বেদে।

 1- অধ্যায়- 40

 2- মন্ত্র - 1975


 সামবেদে।

 1- আর্চিক - 06

 2 - অধ্যায় - 06

 3- ঋচা - 1875


 অথর্ববেদে।

 1- কাণ্ড  - 20

 2- সূক্ত - 731

 3 - মন্ত্র - 5977

          

 Q.14- বেদ পাঠ করার অধিকার কার আছে?  উত্তর- বেদ পাঠ করার অধিকার একমাত্র মানুষের।


 Q.16- বেদে অবতারের প্রমাণ আছে কি?

 উত্তর নাই।


 Q.17- সবচেয়ে বড় বেদ কোনটি?

 উত্তর – ঋগ্বেদ।


 Q.18- বেদের উৎপত্তি কবে?

 উত্তর- সৃষ্টির সূচনা থেকেই ঈশ্বরের দ্বারা বেদের উদ্ভব।  অর্থাৎ ১ বিলিয়ন ৯৬ কোটি ৮ লাখ ৫৩ হাজার ১২৩বছর আগে।


 Q.19- বেদ-জ্ঞানের সহায়ক দর্শন (উপাং) কয়টি এবং তাদের রচয়িতাদের নাম কী?

 উত্তর-

 1- ন্যায় দর্শন- গৌতম মুনি।

 2- বৈশেষিক দর্শন- কণাদ মুনি।

 3- যোগদর্শন - পতঞ্জলি মুনি।

 4- মীমাংসা দর্শন- জৈমিনী মুনি।

 5- সাংখ্য দর্শন - কপিল মুনি।

 6- বেদান্ত দর্শন - ব্যাস মুনি।


 Q.20- শাস্ত্রের বিষয় কী?

 উত্তর- আত্মা, পরমাত্মা, প্রকৃতি, জগতের উৎপত্তি, মুক্তি মানে সকল প্রকার শারীরিক ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ইত্যাদি।


 Q.21- কতটি প্রামাণিক উপনিষদ আছে?

 উত্তর- মাত্র এগারো।


 Q.22- উপনিষদের নাম বল?

 উত্তর-

 01-ইশ (ঈশবাস)

 02-কেন

 03-কঠ

 04-প্রশ্ন

 05-মুন্ডক

 06-মান্ডুক্য

 07-ঐতরেয়া

 08- তৈতিরীয়

 09-চান্দোগ্য

 10-বৃহদারণ্যক

 11-শ্বেতাশ্বতর।


 Q.23- উপনিষদের বিষয়গুলি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে?

 উত্তরঃ বেদ থেকে।

 Q.24-  কর্মাণুসার চারটি বর্ণ ।

 উত্তর-

 1- ব্রাহ্মণ

 2- ক্ষত্রিয়

 3- বৈশ্য

 4- শূদ্র



 Q.25- চার যুগ।

 1- সত্যযুগ- 17,28000 বছর ধরে নামকরণ করা হয়েছে (সত্যযুগ)।

 2-ত্রেতাযুগ - 12,96000 বছর ধরে নামকরণ করা হয়েছে (ত্রেতাযুগ)।

 3- দ্বাপর যুগের নাম 8,64000 বছরের।

 4- কলিযুগ- 4,32000 বছরের নাম।

 এ পর্যন্ত কলিযুগের 5122 বছর উপভোগ করা হয়েছে।

 4,27024 বছর ভোগ করতে হবে।


 পঞ্চ মহাযজ্ঞ

        1- ব্রহ্ম যজ্ঞ

        2- দেব যজ্ঞ 

        3- পিতৃ যজ্ঞ

        4- বলিবৈশ্বদেব যজ্ঞ

        5- অতিথি যজ্ঞ 


 স্বর্গ- যেখানে সুখ আছে।

 নরক - যেখানে দুঃখ আছে।🙏


   ভূলে যাওয়া কিছু তথ্য:-

 

*কিছু স্থানের প্রাচীনকালীন নাম* :

*জম্বুদ্বীপ* (বর্তমান এশিয়া) ।

*প্লক্ষদ্বীপ* (বর্তমান ইউরোপ/কারও মতে দক্ষিণ আমেরিকা) ।

*শাল্মলীদ্বীপ* (বর্তমান উত্তর আমেরিকা/কারও মতে ওশিয়ানিয়া ) ।

*ক্রৌঞ্চদ্বীপ* (বর্তমান ওশিয়ানিয়া মহাদেশ) ।

*কুশদ্বীপ* (বর্তমান আফ্রিকা মহাদেশ) ।

*শ্বাকদ্বীপ* (বর্তমান দক্ষিণ আমেরিকা/কারও মতে ইউরোপ)  ।

*পুষ্করদ্বীপ* (বর্তমান উত্তর আমেরিকা) ।

*উদধি সাগর* (বর্তমান ভারত মহাসাগর) ।

*ক্ষীর সাগর* (বর্তমান প্রশান্ত মহাসাগর) ।

*ইক্ষু সাগর* (বর্তমান আটলান্টিক মহাসাগর) ।

*সরোদ সাগর* (বর্তমান  ভূমধ্য সাগর) ।

*কশ্যপ সাগর/খোষ্টোম সাগর* (ক্যাসপিয়ান সাগর) ।

*অস্ত্রালয়* (বর্তমান অস্ট্রেলিয়া) ।

*ভারতবর্ষ* (বর্তমান ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ) ।

*আর্যাবর্ত* (বর্তমান ইন্ডিয়া) ।

*রম্যকবর্ষ* (বর্তমান চীন, মাঞ্চুরিয়া, কোরিয়া) ।

*হরিবর্ষ*/ *নৈষধবর্ষ* (বর্তমান মোঙ্গলিয়া) ।

*ইলাবৃতবর্ষ* (বর্তমান চীন, তাতার) ।

*কেতুমালবর্ষ*/ *গন্ধমাদনবর্ষ* (বর্তমান আফগানিস্তানের উত্তর অংশ, ইরান, তুর্কী) ।

*হিরন্ময়বর্ষ*/ *শ্বেতবর্ষ* (বর্তমান রাশিয়ার মধ্য সাইবেরিয়া অঞ্চল) ।

*উত্তর কুরুবর্ষ* (গ্রীনল্যাণ্ড সহ বর্তমান উত্তর মেরু অঞ্চল, রাশিয়ার দক্ষিণ সাইবেরিয়া অঞ্চল) ।

*ভদ্রাশ্ববর্ষ* (বর্তমান রাশিয়ার দক্ষিণ সাইবেরিয়া অঞ্চল) ।

*কৈকেয়* (বর্তমান তাজিকিস্তান) ।

*উপগণস্থান*/ *গান্ধার* (বর্তমান আফগানিস্তান) ।

*আর্যন*/ *পারস্য* (বর্তমান ইরান) ।

*ব্রহ্মদেশ* (মায়ানমার) ।

*ভূতস্থান* (বর্তমান ভুটান) ।

*শ্যামদেশ* (বর্তমান থাইল্যান্ড) ।

*লবদেশ* (বর্তমান লাওস) ।

*চম্পা* (বর্তমান ভিয়েতনাম) ।

*কম্বোজ* (বর্তমান কম্বোডিয়া) ।

*মলয়দেশ* (বর্তমান মালয়েশিয়া) ।

*সুর্যদেশ/সুরদেশ* (বর্তমান সিরিয়া) ।

*অর্বস্থান* (বর্তমান আরব দেশসমূহ) ।

*সমতট/বঙ্গদেশ* (বর্তমান বাংলাদেশ) ।

*যবদ্বীপ/বলিদ্বীপ/সুবর্ণদ্বীপ* (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) ।

*ত্রিবিষ্টপ/কিম্পুরুষবর্ষ* (বর্তমান চীন অধিকৃত তিব্বতদেশ) ।

*শৈলেন্দ্রদেশ* (বর্তমান কাজাখস্তান এর কাশগড়) ।

*সুমেরদেশ* (বর্তমান ইরাক) ।

*লবপুর* (বর্তমান পাকিস্তানের লাহোর) ।

*পুরুষপুর* (বর্তমান পাকিস্তানের পেশোয়ার) ।

*ইন্দ্রপ্রস্থ* (বর্তমান দিল্লী) ।

*পৌরব* (বর্তমান পঞ্জাব) ।

*কশ্যপপুরী* (বর্তমান কাশ্মীর) ।

*ভাগ্যনগর* (বর্তমান হায়দরাবাদ) ।

*মহাবলীপুরম* (বর্তমান মোল্লাপুরম) ।

*হরিগড়* (বর্তমান আলিগড়)  ।

*শিবপ্রদেশ* (বর্তমান মীরাজ) ।

*লক্ষ্মীনগর* (বর্তমান মুজফফরনগর) ।

*আর্যগড়* (বর্তমান আজমগড়) ।

*অজয়মেরু* (বর্তমান আজমের) ।

*চম্পানগরী* (বর্তমান সুলতানগঞ্জ) ।

*ব্রহ্মপুর* (বর্তমান বুরহানপুর) ।

*ধরাশিব* (বর্তমান ওসমানাবাদ) ।

*বীরাবতী* (বর্তমান ভদোদরা) ।

*মহীশূর* (বর্তমান মাইসোর) ।

*মধুরাপুরী* (বর্তমান মাদুরাই) ।

*বৃজি/বৈশালী* (বর্তমান মুজফফরপুর) ।

*বৎস/কৌশাম্বী/প্রয়াগ* (বর্তমান এলাহাবাদ) ।

 *পাঞ্চাল/অহিচ্ছত্র/কাম্পিল্য* (বর্তমান বরেলী, বদায়ুন, ফারাক্কাবাদ) ।

*কর্ণাবতী* (বর্তমান আহমেদাবাদ) ।

*কুরু* (বর্তমান মীরাট) ।

*দেবগিরি* (বর্তমান দৌলতাবাদ) ।

*মন্দাগিরি* (বর্তমান মুঙ্গের) ।

*মগধ* (বর্তমান ঝাড়খণ্ড) ।

*শাকল* (শিয়ালকোট) ।

*সুবাস্তু* (বর্তমান পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যক্যা) ।

*গোমতী নদী* (বর্তমান গোমাল নদী) ।

*সরস্বতী নদী* (বর্তমান ঘাঘর নদী) ।

*ক্রমি নদী* (বর্তমান কুররম নদী) ।

*বিপাশা নদী* (বর্তমান বিয়াস নদী) ।

*অক্ষিণী নদী* (বর্তমান চেনাব নদী) ।

*বিতস্তা নদী* (বর্তমান ঝিলাম নদী) ।

*শতদ্রু নদী* (বর্তমান সতলুজ নদী) ।

*পারুষণী নদী* (বর্তমান রাভি নদী) ।

*কাবেরী নদী* (বর্তমান রেবা নদী) ।

*পাটলীপুত্র* (বর্তমান পাটনা) ।

*কর্তৃপুর* (বর্তমান জলন্ধর) ।

*কাশী* (বর্তমান বারাণসী) ।

*উদন্তপুর* (বর্তমান বিহার শরীফ) ।

*লক্ষণাবতী* (মালদহ) ।

*হিমবর্ষ/দক্ষিণ কুরু* (বর্তমান ইন্ডিয়া) ।

*কেরালয়ম* (বর্তমান কেরল) ।

*গোভাপুরী* (বর্তমান গোয়া) ।

*মৎস্য* (বর্তমান জয়পুর) ।

*অঙ্গ* (বর্তমান বিহার এর পূর্ব অঞ্চল) ।

*উৎকল/অঙ্গ* (বর্তমান ওডিশা) ।

*বিদর্ভ* (বর্তমান মহারাষ্ট্র) ।

*প্রাগজ্যোতিষপুর/কামরূপ* (বর্তমান অসম) ।

*গুর্জরাষ্ট্র/সৌরাষ্ট্র* (বর্তমান গুজরাট) ।

*দেববৃন্দ* (বর্তমান দেওবন্দ) ।

*বিজয়বাটিকা* (বর্তমান বিজয়ওয়াড়া) ।

*পুন্ড্রবর্ধন* (বর্তমান উত্তর বঙ্গ) ।

*গুরুগ্রাম* (বর্তমান গুরগাওঁ) ।

*কালীক্ষেত্র* (বর্তমান কোলকাতা) ।

*তাম্রলিপ্ত* (বর্তমান তমলুক) ।

*রাজগৃহ* (বর্তমান রাজগির) ।

*ডেরাদ্রোণ* (বর্তমান দেহরাদুন) ।

*কর্ণসুবর্ণ/রঙ্গভূমি* (বর্তমান কানাসোনা) ।

*কনহাপুর* (বর্তমান কানপুর) ।

*মল্লভূমি* (বর্তমান বাঁকুড়া) ।

                  ।। ওম্ ।।




"সনাতন ধর্ম ও পবিত্র বেদ"।

আমাদের ধর্মের নাম সনাতন ধর্ম কেন? বেদে কি এই নাম রয়েছে? সনাতন ধর্মের প্রবর্তক কে?


অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং অন্যান্য রিলিজিয়নের মানুষরাও জিজ্ঞেস করেন যে সনাতন শব্দটা আমাদের কোন ধর্মগ্রন্থে রয়েছে? আমাদের ধর্মের নাম সনাতন ধর্ম কেন?


এর উত্তর হলো আমাদের ধর্ম, তোমাদের ধর্ম বলে আদতে কিছু নেই। ধর্ম এই মহাবিশ্বে একটাই আর ধর্ম সবসময় ই সনাতন। সনাতন শব্দের অর্থ চিরন্তন। যা আগে ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে তাই সনাতন।


যেমন আগুনের ধর্ম উত্তাপ, কোটি কোটি বছর পূর্বেও আগুনের ধর্ম ছিল উত্তাপ, এখনো আগুনের ধর্ম উত্তাপ, ভবিষ্যতেও আগুনের ধর্ম হলো উত্তাপ, অর্থাৎ আগুনের ধর্ম সনাতন। একজন হিন্দুরও আগুন ধরলে উত্তাপ অনুভাব হবে, একজন মুসলিম বা খ্রিষ্টানেরও তাই হবে। তাই এদের শরীরের ধর্মও আগুনের কাছে একই।


নিরীহ অসহায়কে সাধ্যমতো সাহায্য করাই ধর্ম, কোটি বছর আগেও নিরীহ কাউকে সাহায্য করাই ধর্ম ছিল, এখনো তাই আছে, কোটি বছর পরেও তাই থাকবে। তাই নিরীহকে সাহায্য করা সনাতন ধর্ম।


একটি আপেল গাছে তার বোঁটা থেকে চ্যুত হলে পৃথিবীর আকর্ষণে নিচে এসে পড়ে। কোটি বছর আগেও তাই হতো, এখনো তাই হয়, কোটি বছর পরেও তাই হবে। আমরা এর নাম মানুষের ভাষায় দিয়েছি মধ্যাকর্ষণ শক্তি। বস্তুর ধর্মই একে অপরকে আকর্ষণ করা। তাই বস্তুর এই মধ্যাকর্ষণ শক্তি বস্তুর সনাতন ধর্ম।


ধর্ম শব্দটি সংস্কৃত ধৃ ধাতু থেকে উৎপন্ন। যার অর্থ হলো ধারণ করা।


যেমন— জলের ধর্ম তরলতা, আগুনের ধর্ম উত্তাপ দেওয়া ইত্যাদি সেইরুপ মানুষের ধর্মও মানবতা। 


মনুর্ভব জনয়া দৈবং জনম্

➢ ঋগ্বেদ, ১০/৫৩/৬।

অর্থাৎ, প্রকৃত মানুষ হও এবং অন্যকেও মানুষ হিসেবে গড়ে তোল।


তাই ধর্ম মানেই সনাতন। ধর্মের কখনো পরিবর্তন হয়না। মানুষের ধর্ম সর্বদাই মানবতা, আগুনের ধর্ম সর্বদাই উত্তাপ, জলের ধর্ম সর্বদাই তরলতা। এগুলো চিরন্তন বা সনাতন সত্য। আর তাই ধর্ম সবসময় সনাতন। পৃথিবীতে আমরা যে সব প্রচলিত Religion দেখি সেগুলো ধর্ম নয়। সেগুলো নির্দিষ্ট কিছু আচার অনুষ্ঠান নিয়ম কানুনের সমষ্টিগত সাংস্কৃতিক, ভৌগলিক ও রাজনৈতিক মতাদর্শ। Religion শব্দের সংস্কৃত অর্থ ধর্ম নয়, Religion শব্দের সংস্কৃত অর্থ মার্গ। ধর্ম শব্দটা Religion এর বাংলা হিসেবে আমরা প্রচলিত ভুল অর্থে বা Misnomer হিসেবে ব্যবহার করি।


আবার যেহেতু মানুষ সৃষ্টির আগে থেকেই বস্তুসমূহের, প্রকৃতির চিরন্তন সনাতন এই ধর্ম বা বৈশিষ্ট্যগুলো উপস্থিত ছিল তাই কোন মানুষ ই ধর্মের প্রবর্তক হতে পারেনা। ধর্মের প্রবর্তক একমাত্র ঈশ্বর ই কারণ তিনিই এই সবকিছুর সনাতন নিয়ম সৃষ্টি করেছেন। অগ্নিতে উত্তাপ, জলে তরলতা, মানুষে মনুষ্য, সকল বস্তুতে মহাকর্ষ, অভিকর্ষ শক্তি তিনিই দিয়েছেন, কোন মানুষ দেয়নি, তাই মানুষ কখনো ধর্মের প্রবর্তক হতে পারেনা।


এই যে ধর্ম সবসময় সনাতন হয়, এই জ্ঞানটি ঈশ্বর আমাদেরকে প্রেরণ করেছিলেন যে আদি গ্রন্থের মাধ্যমে তার নাম হলো বেদ।


বেদ জ্ঞান হল অনাদি এবং দেশ, কালের বন্ধনের দ্বারা বাঁধা নয়। সবার জন্য এবং সব যুগের জন্য। আর তাই বেদে যে ধর্মের বিবৃতি করা হয়েছে তাকেই সনাতন ধর্ম বলে।


পবিত্র অর্থববেদের ১০/৮/২৩ মন্ত্রে এই কথাটিই বেদ  বলছে-


ওম্ ভোগ্য ভবদথো অন্নমদদ্ বহু ।

যে দেবমুতরাবন্তমুপাসতৈ সনাতনম্ ।।

➢ অথর্ববেদ, ১০/৮/২২।


পদার্থঃ— (যঃ) যে ব্যক্তি (দেবম্) ঐ প্রকাশময় (উতারাবন্তম্) শ্রেষ্ঠ গুণের চরমসীমারূপ (সনাতনম্) সনাতন পরমেশ্বরকে (উপাসাতৈ) উপসনা করে, সে (ভোগ্যঃ) উত্তমভোগকারী (ভবত) হয়, (অয়ো) এবং (বহু অন্নম অদত্) দীর্ঘ সময়কাল পর্যন্ত সুখপ্রাপ্ত হয় অর্থাৎ জীবকে প্রচুর অন্ন প্রদান পূর্বক সুদীর্ঘ জীবন প্রাপ্ত করে।


অর্থাৎ সেই সনাতন পরমেশ্বরকে স্মরণকারী ব্যক্তি উত্তম ভোক্তা ও সুদীর্ঘকাল পর্যন্ত অন্নঅাদিকে প্রাপ্ত করে পুষ্ট হয়ে থাকে।


পরের মন্ত্রে বলা হচ্ছে-


ওম্ সনাতনমেনমাহুরুতাদ্য স্যাপ্তুনর্ণবঃ ।।

অহোরাত্রো প্রজায়েতে অন্যো অন্যস্য রূপয়ো ।।

➢ অথর্ববেদ, ১০/৮/২৩।


পদার্থঃ— (এনম) এই পরমাত্মাকে (সনাতনং অাহুঃ) সনাতন বলা হয়, পরন্ত (উত অদ্য) তা তো আজও (পুনর্ণবঃ) পুনঃ নতুনের নতুন হয়। যে ভাবে (অহোরাত্রো) দিন ও রাত (অন্যঃ অন্যস্য রূপয়োঃ) এক রূপ হতে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয়ে (প্রজায়েতে) উৎপন্ন হয়। দিনের পর রাত এবং রাতের পর দিন হয় এ জন্য রাত দিন নতুন নতুন লাগে,সেই প্রকারে সনাতন হয়েও ঈশ্বর নবীন হতেও নবীন। তিনি কখনও জীর্ণ হন না।


অর্থাৎ রাত দিনের এই চক্র সেই সৃষ্টির আদি হতেই চলছে। তারপরেও প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাত আমাদের কাছে নতুনের মতো লাগে। ঠিক তেমনি অনাদি অনন্ত সনাতন হয়েও ঈশ্বর সবসময় নবীন।


আর সেই সনাতন পরমব্রহ্মের দেয়া সনাতন জ্ঞানবাণী হলো পবিত্র বেদ। এই উপলক্ষে কয়েকটি মন্ত্র পড়েই বেদে আবার বলা হচ্ছে -


অংতি সন্তং ন জহাত্যন্তি সন্তং ন পশ্যতি।

দেবস্য পশ্য কাব্যং ন মমার ন জীর্যতি।।

➢ অথর্ববেদ, ১০/৮/৩২।


বঙ্গানুবাদঃ- মনুষ্য সমীপবর্ত্তী পরমাত্মাকে দেখেও না, তাঁহাকে ছাড়িতেও পারে না। পরমাত্মার কাব্য বেদকে দেখো: তাহা মরেও না, জীর্ণও হয় না।


অর্থাৎ পরমাত্মা যেমন সনাতন, তার বেদবাণীও সনাতন, বেদ কখনো জীর্ণ হয়না।


আর এই বেদোক্ত ধর্মকেই তাই সনাতন ধর্ম বলা হয়।  মনুসংহিতা সেজন্য বলছে-


সত্যং ব্রুয়াৎ প্রিয়ং ব্রুয়ান্নব্রুয়াৎ সত্যমপ্রিয়ম্।

প্রিয়ং চ নানৃতং ব্রুয়াদেষ ধর্ম্মঃ সনাতনঃ।।

➢ মনুস্মৃতি, ৪/১৩৮।


অনুবাদ- অপরের হিতকর প্রিয় সত্য কথা বলিবে, অপ্রিয় সত্য কথা কখনো বলিবেনা যাহা লোকের মর্মভেদ করে, অপরকে প্রসন্ন করার নিমিত্তেও আবার মিথ্যা বলিবে না, ইহাই বেদবিহিত সনাতন ধর্ম।


 সনাতন ধর্মের লক্ষণ কী কী?


ধৃতিঃ ক্ষমা দমোহস্তেয়ং

শৌচমিন্দ্রিয়-নিগ্রহঃ।

ধীর্বিদ্যা সত্যমক্রোধো

দশকম্ ধর্মলক্ষণম্॥

➢ মনুসংহিতা, ৬.৯২।


অর্থাত্‍ সহিষ্ণুতা,ক্ষমা ,চুরি না করা ,শুচিতা ,ইন্দ্রিয়সংযম,শুদ্ধ বুদ্ধি,জ্ঞান,সত্য এবং ক্রোধহীনতা-এইটি দশটি মনুষ্যের সনাতন ধর্মের লক্ষণ।

আর এই সনাতন ধর্মকে আমরা যেন জানতে পারি, চোখ দিয়ে দেখতে পারি সেজন্য আমাদের জন্য প্রেরিত মানবজাতির দিক নির্দেশনা হলো পবিত্র বেদ।

মনুসংহিতার ২নং অধ্যায়ের ৮ নং শ্লোকে এটিই বলা হচ্ছে-

পিতৃদেব মনুষ্যাণাং বেদশ্চক্ষুঃ সনাতনম্

পিতৃমাতৃ,সকল মনুষ্য, দেবতুল্য ঋষিগণ সকলের জন্যই বেদ ই সনাতন পথ দর্শনের চক্ষুস্বরূপ।

আর তাই সনাতন পরমব্রহ্ম প্রেরিত সনাতন বেদবাণীর দ্বারা বিধৃত ও দৃষ্ট যে ধর্ম তাই সনাতন ধর্ম। ধর্ম মানেই সনাতন কারণ সৃষ্টির আদি থেকেই ধর্ম বিদ্যমান। আর তাই কোন মানুষ ধর্মের প্রবর্তক হতে পারেনা কারণ মানুষ সৃষ্টির আগে থেকেই ধর্ম মহাজগতে উপস্থিত। সনাতন ধর্মের প্রবর্তক স্বয়ং ঈশ্বর ই যিনি বেদের মাধ্যমে মনুষ্যকে এই সনাতন ধর্মের প্রবচন দিয়েছেন।


ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি 

🙏🙏🙏🙏🙏

Saturday, 13 August 2022

সহজ কথা ।

ইশ্বর যা ইংরাজীতে GOD এর অর্থ কি?এক কথায় ইশ্বরের অর্থ বিশ্লেষণ কি হতে পারে?প্রশ্নদুটি যদি ইশ্বরে বিশ্বাসী কারোকে করা হয় তিনি কি উত্তর দেবেন জানা নেই।তবে সনাতন ধর্মের সমস্ত বিষয়ের থেকে  নির্যাস প্রস্তুত করলে যে অর্থ উঠে আসে সেই অনুসারে এর উত্তর দেওয়া সম্ভব।আর তা হলো ইশ্বর এক অনুভূতি ছাড়া আর অন্য কিছু নয়।ইশ্বর কে অনুভব করা যায়।নাস্তিক্যবাদীরা বলবেন তাহলে ইশ্বর কে কি দেখা যায়? তাদের জন্য উত্তর, নিশ্চয় ইশ্বর দর্শন সম্ভব।কিন্তু যুক্তিবিঞ্জানের শর্ত মেনে নিলে এর জন্য কিছু শর্ত রয়েছে।সেই শর্ত পূরণ ছাড়া ইশ্বরের অনুভূতি লাভ ও দর্শন মোটেও সম্ভব নয়।বিষয় টা ঠিক অনেকটা এরকম দাঁড়ায়,যেমন ধরা যাক আপনি কোনো একটি কাজের সফলতা লাভ করতে চাইছেন।কিন্তু সেই সফলতা লাভের জন্য আপনি মোটেই প্রস্তুত নন।তাই সেই কাজের সফলতা লাভের জন্য আপনাকে অবশ্যই আগে সফলতা লাভের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে।নচেৎ সফলতা অধরা থেকে যাবে।কৃষক কৃষিকাজ করে ফসল উৎপাদন করেন।কিন্তু তার আগে তাকে জমি টিকে ফসল উৎপাদনের উপযুক্ত বানাতে হয়।জমিতে হাল দিতে হয়।সাথে জমিকে চাষের উপযুক্ত করে সেই জমিতে শস্যের বীজ লাগাতে হয়,শুধু এতেই থেমে গেলে কৃষকের ফসল উৎপাদন সম্পন্ন হয় না।সম্পূর্ন এবং পরিপূর্ণ ফসল পেতে হলে তাকে লাগাতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়।যতক্ষন না বীজগুলি তাদের পরিপূর্ণতা লাভ করছে।তার জন্য সার,কীটনাশক,

পতঙ্গের আক্রমন থেকে রক্ষা করা সাথে ফসলের অনুকূল পরিবেশ ও প্রয়োজন তবে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে কৃষক সম্পূর্ণ  ফসল লাভ করতে পারেন।ঠিক তেমন ই মানুষের জীবনে ইশ্বর লাভ ও তার দর্শনের জন্য নির্দিষ্ট পন্থা ও পথে চলে ক্ষেত্র কে উপযুক্ত না করলে পুরো প্রচেষ্টাই বৃথা হয়ে যায়।কারণ পৃথিবীর যে কোনো কিছুর অনুভূতি লাভ করতে গেলে আগে অনুভূতি লাভের জন্য ক্ষেত্র  প্রস্তুত প্রয়োজন।যখন তা সম্পন্ন হয় তখন ই সেই বস্তুটির অনুভূতি লাভ সম্ভব হয়।ইশ্বরের অনুভূতি লাভ ও ঠিক তেমন ই।এর পরে আসা যাক ইশ্বর দর্শন।ইশ্বর যেহেতু অনুভূতিতেই লাভ করা সম্ভব ঠিক তেমন ই সুস্থির তরঙ্গহীন জলের অবস্থা ছাড়া যেমন কোনো কিছুর ই প্রতিবিম্ব জলে দেখা সম্ভব নয়।ঠিক তেমন ই মানুষের অভ্যন্তরীন স্থিতি তেমন না হলে ইশ্বর দর্শন সম্ভব নয়।

একজন মানুষের অভ্যন্তরীন একটি বিশেষ বস্তু হলো মানুষের "মন"।যা একাধারে  অত্যন্ত  জটিল আবার একাধারে অত্যন্ত সহজ সরল।মজা হলো এটির নিস্তরঙ্গতা তথা সম্পূর্ণ রুপে সুস্থিরতা  লাভ একাধারে অত্যন্ত কঠিন অন্যদিকে এটি অত্যন্ত সহজ বিষয়।কারন মানুষের "মন" সদাসর্বদা চিন্তার তরঙ্গে অস্থির হয়ে থাকে।নাস্তিক হোক বা আস্তিক হিন্দু হোক বা মুসলিম অথবা খ্রীষ্টান কেউ ই এই তত্বটিকে অস্বীকার করতে পারে না।কারন মনে চিন্তা নেই এমন মানুষ গোটা বিশ্বে একজন ও খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।অথচ এই চিন্তার উৎস কি?আধুনিক তথা উন্নততর বিঞ্জান বলবে এটা একটা হাইপোথিসিস কেউ বলবে এটা একটা কেমিক্যাল রিয়াকশান এমন হাজার হাজার যুক্তি আর সেই যুক্তিকে সফল করাতে আরো হাজার টা যুক্তি হাজির করবে যুক্তিবাদীর দল।কিন্তু কেন আর কোথা থেকে এই চিন্তার উৎপত্তি হয় তার সঠিক উত্তর আজো আধুনিক ও উন্নত বিঞ্জান এক কথায়  ব্যাখ্যা করতে পারে না।আবার এই চিন্তাই হলো মানুষের সমস্ত সমস্যা সৃষ্টির মূল,অন্তত এমনটাই দাবী করে আধুনিক থেকে উন্নত বিঞ্জান।শরীর খারাপ, সুগার বেড়েছে,প্রেসার বেড়েছে,থাইরয়েড বেড়েছে এমন অসংখ্য আভ্যন্তরীন শারীরবৃত্তীয় সমস্যার মূল হলো মনের চিন্তা।তাই সকল চিকিৎসক ই সমস্তরোগীকেই একটা মূল উপদেশ তথা পরামর্শ দেন,আর তা হলো চিন্তা মুক্ত থাকুন,মন কে ফ্রী রাখুন,তাহলেই সমস্ত রোগের নিরসন হয়ে যাবে।

এত কিছু বলার একটাই কারন,আর তা হলো মানুষের শরীরের অভ্যন্তরে  এই  "মন" ই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন  অথচ অদৃশ্য আবার অনুভূতি শীল একটি বস্তু।যা মানুষের সমস্ত কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে।ইসলাম বলে  নিজেকে সম্পূর্ণ উৎসর্গ করো আল্লাহ র কাছে তাহলেই তার আর্শীবাদ লাভ করবে।খ্রীষ্টান বলে পবিত্র  হও তবেই পবিত্র আত্মার কৃপা লাভ করবে। অথচ এই লাভ করা মানেটা কি?

তার কোনো সঠিক উত্তর নেই এদের কারোর কাছে।অথচ সনাতন ধর্মের মূল ভিত্তিই হল মনের নিয়ন্ত্রনের শিক্ষা দান।আর তার জন্যই সনাতন ধর্মের দর্শনের মূল ভিত্তি হলো মানবের আত্মিক কল্যান সাধনের পথের হদিশ দেওয়া।তাই তো একমাত্র সনাতন ধর্মের একটি কথাই সমগ্র বিশ্বের মানব জাতির কাছে চিরকালের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান।আর তা হলো মানুষ হও।

প্রতিটি কথার দুটি অর্থ থাকে।একটি হলো স্থুল অর্থ অর্থাৎ মোটামুটি একটা মানে।আর দ্বিতীয় অর্থ হলো এর অভ্যন্তরীন অর্থ।মানুষ তো সকলেই তা স্বত্বেও কেন সনাতন ধর্ম পৃথিবীর সকল মানুষকে বলে মানুষ হও? এটা অনেকেই হয়ত জানেন অনেকেই হয়ত গভীর ভাবে চিন্তা করতে পারেন না বলে বলেন ওসব বেকার কথা। কিন্তু  একজন সঠিক মানুষ হতে গেলে হতে হয় মনুষ্যত্বের অধিকারী।যেখানে মুখ ও মন একই কথা বলবে।মানুষের বিবেক মানুষের মনকে সঠিক পথের দিশা দেখাবে।যা মূল অর্থ ই হবে অপরের কোনধরনের  ক্ষতি না করে নিজের জীবন কে সুন্দর ও সুললিত ছন্দে প্রতি পদে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।আর তাই মানুষ হতে গেলে বা মনুষ্যত্ব অর্জন যে সহজ বিষয় নয় তা সহজেই বোঝা যায়।আর সেই মনুষ্যত্বার আলোতে আলোকিত হতে সনাতন ধর্ম ই একমাত্র পথের হদিশ দেয় তার দর্শনের মাধ্যমে।সনাতন ধর্মের দর্শনের ভাগ গুলোকে যদি পৃথিবীর যে কোনো মানুষ একটু বিচার চিন্তা দিয়ে বিচার করে তাহলে একটা সরল বিষয় সকলেই দেখতে ও  বুঝতে পারবেন আর তা হলো, নিজেকে জানা যে জন নিজেকে জানতে আর বুঝতে অক্ষম সে কি করে অপর কে  বুঝবে? আর সেই কারনেই একমাত্র সনাতন ধর্ম তার দর্শনের মাধ্যমে মানবের মন কে নিয়ন্ত্রন ও স্থির করার পথ দেখায়।অষ্টমার্গিক যোগ তার ই অন্যতম প্রধান প্রমান।অষ্টমার্গিক যোগ এর আটটি স্তর   যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারনা, ধ্যান ও সমাধি,এর সাথে প্রতিটির আরো কয়েকটি বিষয় রয়েছে।যা একমাত্র ক্রমান্বয়ে অভ্যাসের মাধ্যমেই সফলতা লাভ করা সম্ভব।আর এটা ঠিক সেই পূর্বে উল্লেখ করা কোনো কিছু সফলতা লাভের জন্য তার ক্ষেত্র তৈরির প্রকৃয়া মাত্র।আর মজার বিষয় হলো অষ্টাঙ্গিক মার্গ যোগ সহ সনাতনের একাধিক দিক কে বিচার করলে দেখা যাবে।সেখানে পৃথিবীর কোনো প্রাণীর প্রতি  বিন্দুমাত্র হিংসা দ্বেষ সৃষ্টিকারী ও পরামর্শ দেওয়া নেই।আর এই পথে যতই মানুষ এগোবে তত ই তার মন হতে থাকবে স্থির। এটা একটা পর্যায়ে মানুষের মন কে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে দেবে যেখানে মানুষের মন হবে একদম স্থির।সেই মনে ক্রমান্বয়ে চিন্তার ঢেউ আসবে না।আর তখন ই মানুষের আত্মিক ও শারীরিক বিকাশ পৃথিবীর  যে কোন অনুভূতি লাভের উপযোগী হয়ে উঠবে।

এই দীর্ঘ লেখা লেখার কারণটা এবার নিশ্চয় পাঠক অনুধাবন করতে পারছেন।আসলে এটাই হলো সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য আর সংস্কার যা একজন মানুষ কে মনুষ্যত্বে উন্নীত করে তোলে।যা সমাজ কে সমৃদ্ধ আর জীবজগতের কল্যানের পথের হদিশ দেয়।আর ঠিক এই কারনেই প্রয়োজন সনাতন ধর্মের সংস্কার ও ও ঐতিহ্যগুলো রক্ষা করা।

মোদ্দা কথা হলো একজন মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য আত্মদর্শন ও আত্মানুভূতি লাভ।এক কথায় নিজেকে জানা আর নিজের আত্মিক উন্নতি সাধন করা।ব্যাস আর কিছুই না।যে পর্যায়ে মানুষ এই অনুভূতি লাভের উপযোগী হয়ে উঠবে সেদিন ই তার ইশ্বর দর্শনের মূল অর্থ বোধগম্য হবে।

এই কারনের জন্য ই সনাতন ধর্মের সংস্কৃতি ঐতিহ্য রক্ষা সকল মানব জাতির একমাত্র কর্তব্য। 

অ সনাতনীরা সনাতনীদের এই মূল বিচার্য্য বিষয়ের সাথে দ্বিমত হতে পারে নিজেদের যুক্তিকে আর পথকে শ্রেষ্ঠ প্রমানের জন্য,কিন্তু শেষ পর্যায়ে অসনাতনীদের ও জীবনের  চুড়ান্ত প্রাপ্তি লাভের জন্য সনাতনী চিন্তা ধারার সাথে একাত্ম হতেই হবে।

সহজ কথায় বলা যায় ইশ্বর হলেন এক অনুভূতি আর তাঁর  দর্শন মনের পূর্ণ স্থিরতা ছাড়া লাভ করা সম্ভব নয়।আর মানব জীবনের চরম লক্ষ্যের প্রাপ্তির জন্য সংস্কার, নিয়মানুবর্তিতা, ঐতিহ্য হলো সেই চরম লক্ষ্য প্রাপ্তির সিড়ি তথা ধাপ তথা পর্যায় সমূহ।তাই গন্তব্যে পৌঁছতে গেলে পথ কে সংরক্ষন ও দূষন মূক্ত না রাখতে পারলে পথ হবে অপরিস্কার ও চলাচলের অনুপোযোগী। তাই জগতের কল্যাণের তথা সমগ্র বিশ্বের কল্যাণের জন্য সনাতন ধর্মের এই পথকে পরিস্কার আর সুরক্ষিত না রাখতে পারলে সমগ্র জীবজগত ই অস্তিত্ব সঙ্কটের  মুখোমুখি এসে দাঁড়াবে।এটাই চিরন্তন সত্য।



✍ P.B.

T.S. কনকা আর্মি নিউরো সার্জেন

 সাল ১৯৬২। ভারত-চীন যুদ্ধ চলছে। সীমান্তে আহত জওয়ানদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আছে। সেই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরে যোগ দিলেন ...