Sunday, 14 August 2022

কিছু ভূলে যাওয়া কথা


 -:সনাতন ধর্মের ভূলে যাওয়া সহজ কিছু কথা:- 


 বিশ্বের বৃহত্তম এবং বৈজ্ঞানিক সময় গণনা পদ্ধতি (ঋষিদের দ্বারা করা গবেষণা)


 কথা = এক সেকেন্ডের 34000তম

 1 ত্রুটি = এক সেকেন্ডের 300তম

 2 ত্রুটি = 1 ল্যাভ,

 1টি প্রেম = 1টি মুহূর্ত

 30 মুহূর্ত = 1 বিপুল,

 60 Vipal = 1 মুহূর্ত

 60 মুহূর্ত = 1 ঘড়ি (24 মিনিট),

 2.5 ঘড়ি = 1 হোরা (ঘণ্টা)

 3 হোরা = 1 প্রহর এবং 8 প্রহর 1 দিন,

 24 হোরা = 1 দিন,

 7 দিন = 1 সপ্তাহ

 4 সপ্তাহ = 1 মাস,

 2 মাস = 1 ঋতু

 6টি ঋতু = 1 বছর,

 100 বছর = 1 শতাব্দী

 10 শতাব্দী = 1 সহস্রাব্দ,

 432 সহস্রাব্দ = 1 যুগ

 2 যুগ = 1 দ্বাপর যুগ,

 3 যুগ = 1 ত্রেতাযুগ,

 4 যুগ = সত্যযুগ

 সত্যযুগ + ত্রেতাযুগ + দ্বাপরযুগ + কলিযুগ = 1 মহাযুগ

 72 মহাযুগ = মন্বন্তর,

 1000 মহাযুগ = 1 কল্প

 1 নিত্য প্রলয় = 1 মহাযুগ (পৃথিবীতে জীবন শেষ হয় এবং তারপর শুরু হয়)

 1 নৈমিতিকা প্রলয় = 1 কল্প (দেবতাদের শেষ ও জন্ম)

 মহালয়া = 730 কল্প (ব্রহ্মার শেষ ও জন্ম)


 সমগ্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং বৈজ্ঞানিক সময় গণনা পদ্ধতি এখানে রয়েছে যা আমাদের দেশে ভারতে তৈরি।  এটি আমাদের ভারত যা আমাদের গর্ব করা উচিত।


 দুই পক্ষঃ শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষ।

 দুটি অয়ন: উত্তরায়ণ, দক্ষিণাযন।

দুটি সুখ: অভ্যূদয় (জাগতিক), নিঃশ্রেয়স (মুক্তি সুখ)।

 তিনটি জগত: পৃথিবী, আকাশ, পাতাল।

 তিনটি গুণ: সত্ত্বগুণ, রজোগুণ, তমোগুণ।

 তিনটি অবস্থা: কঠিন, তরল, বায়ু।

 তিনটি স্তর: শুরু, মধ্য, শেষ।

 তিনটি পর্যায়: শৈশব, যৌবন, বার্ধক্য।

তিনটি অবস্থা: জাগ্রত, মৃত, অচেতন।

 তিনটি কাল: অতীত, ভবিষ্যত, বর্তমান।

 তিনটি নাডি: ইড়া, পিঙ্গলা, সুষুম্না।

 তিনটি শক্তি: শারীরিক,  আত্মিক,  সামাজিক ।

তিনটি ঋণ: পিতৃ ঋণ, দেব ঋণ, ঋষি (আচার্য) ঋণ।

তিন দোষ: বাত , পিত্ত, কফ।

চার বর্ণ: ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র।

চার অবস্থা: জাগ্রত, স্বপ্ন,  সুষুপ্তি,  তুরীয়।

 চারটি নিয়ম: সাম, দাম, দণ্ড,  ভেদ।

 চারটি বেদ: ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ, অথর্ববেদ।

 চার নারী: মা, স্ত্রী, বোন, কন্যা।

 চার যুগ: সত্যযুগ, ত্রেতাযুগ, দ্বাপর যুগ, কলিযুগ।

 চার কাল: সকাল, সন্ধ্যা, দিন, রাত।

 চারটি প্রাণী: জলজ, ভূমিচর, উভচর, খেচর।

 উত্পত্তিগত চারটি : অণ্ডজ, জরায়ুজ, স্বেদজ, উদ্ভিজ।

  চারটি আশ্রম: ব্রহ্মচর্য, গৃহস্থ, বানপ্রস্থ, সন্ন্যাস।

 চারটি খাদ্যদ্রব্য: খাদ্য, পেয়, লেহ্য, চোষ্য।

 চার পুরুষার্থ : ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ।

 চারটি যন্ত্র: তাত, সুশির, অবনাদ্ব, ঘন।

চারটি কোন: ঈশান,  অগ্নি,  নৈঋত, বায়ু।

 পাঁচটি স্থূল ভূত: পৃথিবী, আকাশ, আগুন, জল, বায়ু।

 পাঁচটি ইন্দ্রিয়: চোখ, নাক, কান, জিহ্বা, ত্বক।

 পাঁচটি তন্মাত্রা : শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ ।

 পাঁচ আঙুল: বৃদ্ধাঙ্গুলি , তর্জনী, মধ্যমা, অনামিকা, কনিষ্ঠ।

 

 পাঁচটি বায়ুঃ প্রাণ, আপন, ব্যায়ন, সমান, উদান।

 পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়: চোখ, নাক, কান, জিহ্বা, ত্বক,।

পাঁচটি কর্মেন্দ্রিয়: পায়ু , উপস্থ, হস্ত, পা, বাক।

 ছয়টি ঋতু:  বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত , শীত।

 ছযটি বেদাঙ্গ: শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ , জ্যোতিষ।

ছটি উপাঙ্গ: যোগ,  সাংখ্য, বৈশেষিক, ন্যায়, বেদান্ত, মীমাংসা ।

ছটি দিক: পূর্ব,  পশ্চিম,  উত্তর,  দক্ষিণ,  ঊর্ধ, অধ।


 সাতটি স্বর: সা, রে, গা, মা, পা, ধ, নি।

 সাতটি নোট: ষডজ, ঋষভ, গান্ধার, মধ্যম, পঞ্চম, ধৈবত, নিষাদ।

সাত দিন: সূর্য, সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি।

 সাতটি মাটি: গৌশালা, ঘোড়া, হাতীশাল, রাজদ্বার, বাম্বীর মাটি, নদীর সঙ্গম, পুকুর।

 সাতটি মহাদেশ: জম্বুদ্বীপ (এশিয়া), প্লাক্ষদ্বীপ, শালমলীদ্বীপ, কুশদ্বীপ, ক্রৌঞ্চদ্বীপ, শাকদ্বীপ, পুষ্করদ্বীপ।

 সাত ধাতু (শারীরিক): রস, রক্ত, মাংস, মেদ, অস্থি, মজ্জা, শুক্র।

 সাতটি রঙ: কালা, বেগুনি, নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।



বেদ-জ্ঞান:-


 Q.1- বেদ কাকে বলে?

 উত্তর- ঐশ্বরিক জ্ঞানের গ্রন্থকে বেদ বলে।


 Q.2- বেদ-জ্ঞান কে দিয়েছেন?

 উত্তরঃ ইশ্বর  দিয়েছেন।


 Q.3- ঈশ্বর কখন বেদ-জ্ঞান দিয়েছেন?

 উত্তর- সৃষ্টির আদিতে ঈশ্বর বেদ-জ্ঞান দিয়েছেন।


 Q.4- ঈশ্বর কেন বেদের জ্ঞান দিয়েছেন?

 উত্তর- শুধুমাত্র মানুষের কল্যাণের জন্য।


 Q.5- বেদ কয়টি?

 উত্তর- চারটি।

 1-ঋগ্বেদ

 2-যজুর্বেদ

 3-সামবেদ

 4-অথর্ববেদ


 Q.6- বেদের ব্রাহ্মণ।

         বেদ ব্রাহ্মণ

 1 - ঋগ্বেদ - ঐতরেয়

 2 - যজুর্বেদ - শতপথ

 3 - সামবেদ - আরণ্যক 

 4 - অথর্ববেদ - গোপথ


 Q.7- বেদের কয়টি উপবেদ আছে।

 উত্তর - চারটি।

       বেদ উপবেদ

     1- ঋগ্বেদ- আয়ুর্বেদ

     2- যজুর্বেদ- ধনুর্বেদ

     3 -সামবেদ - গন্ধর্ববেদ

     4- অথর্ববেদ - অর্থবেদ


 প্রশ্ন 8- বেদের অঙ্গ কি?

 উত্তর- ছয়টি।

 1 - শিক্ষা

 2 - কল্প

 3- ব্যাকরণ

4- নিরুক্ত 

 5 - ছন্দ 

 6 - জ্যোতিষ


Q.9- ঈশ্বর কোন ঋষিদের বেদের জ্ঞান দান করেছিলেন?

 উত্তরঃ চারজন ঋষি।

          বেদ ঋষি

 1- ঋগ্বেদ- অগ্নি

 2 - যজুর্বেদ - বায়ু

 3 - সামবেদ - আদিত্য

 4 - অথর্ববেদ - অঙ্গিরা


 প্রশ্ন 10- ঈশ্বর কিভাবে ঋষিদের বেদের জ্ঞান দিয়েছেন?

 উত্তরঃ সমাধি অবস্থায়।


 Q.11- বেদে জ্ঞান কেমন?

 উত্তর- সকল সত্য শাখার জ্ঞান-বিজ্ঞান।


 Q.12- বেদের বিষয় কি কি?

 উত্তর- চারটি।

         ঋষি থিম

 1- ঋগ্বেদ - জ্ঞান

 2- যজুর্বেদ - কর্ম

 3- সামবেদ- উপাসনা

 4- অথর্ববেদ - বিজ্ঞান


 Q.13- বেদে।


 ঋগ্বেদে।

 1- মণ্ডল  - 10

 2 - অষ্টক - 08

 3 - সূক্ত - 1028

 4 - অনুবাক - 85

 5 - ঋচা - 10589


 যজুর্বেদে।

 1- অধ্যায়- 40

 2- মন্ত্র - 1975


 সামবেদে।

 1- আর্চিক - 06

 2 - অধ্যায় - 06

 3- ঋচা - 1875


 অথর্ববেদে।

 1- কাণ্ড  - 20

 2- সূক্ত - 731

 3 - মন্ত্র - 5977

          

 Q.14- বেদ পাঠ করার অধিকার কার আছে?  উত্তর- বেদ পাঠ করার অধিকার একমাত্র মানুষের।


 Q.16- বেদে অবতারের প্রমাণ আছে কি?

 উত্তর নাই।


 Q.17- সবচেয়ে বড় বেদ কোনটি?

 উত্তর – ঋগ্বেদ।


 Q.18- বেদের উৎপত্তি কবে?

 উত্তর- সৃষ্টির সূচনা থেকেই ঈশ্বরের দ্বারা বেদের উদ্ভব।  অর্থাৎ ১ বিলিয়ন ৯৬ কোটি ৮ লাখ ৫৩ হাজার ১২৩বছর আগে।


 Q.19- বেদ-জ্ঞানের সহায়ক দর্শন (উপাং) কয়টি এবং তাদের রচয়িতাদের নাম কী?

 উত্তর-

 1- ন্যায় দর্শন- গৌতম মুনি।

 2- বৈশেষিক দর্শন- কণাদ মুনি।

 3- যোগদর্শন - পতঞ্জলি মুনি।

 4- মীমাংসা দর্শন- জৈমিনী মুনি।

 5- সাংখ্য দর্শন - কপিল মুনি।

 6- বেদান্ত দর্শন - ব্যাস মুনি।


 Q.20- শাস্ত্রের বিষয় কী?

 উত্তর- আত্মা, পরমাত্মা, প্রকৃতি, জগতের উৎপত্তি, মুক্তি মানে সকল প্রকার শারীরিক ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ইত্যাদি।


 Q.21- কতটি প্রামাণিক উপনিষদ আছে?

 উত্তর- মাত্র এগারো।


 Q.22- উপনিষদের নাম বল?

 উত্তর-

 01-ইশ (ঈশবাস)

 02-কেন

 03-কঠ

 04-প্রশ্ন

 05-মুন্ডক

 06-মান্ডুক্য

 07-ঐতরেয়া

 08- তৈতিরীয়

 09-চান্দোগ্য

 10-বৃহদারণ্যক

 11-শ্বেতাশ্বতর।


 Q.23- উপনিষদের বিষয়গুলি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে?

 উত্তরঃ বেদ থেকে।

 Q.24-  কর্মাণুসার চারটি বর্ণ ।

 উত্তর-

 1- ব্রাহ্মণ

 2- ক্ষত্রিয়

 3- বৈশ্য

 4- শূদ্র



 Q.25- চার যুগ।

 1- সত্যযুগ- 17,28000 বছর ধরে নামকরণ করা হয়েছে (সত্যযুগ)।

 2-ত্রেতাযুগ - 12,96000 বছর ধরে নামকরণ করা হয়েছে (ত্রেতাযুগ)।

 3- দ্বাপর যুগের নাম 8,64000 বছরের।

 4- কলিযুগ- 4,32000 বছরের নাম।

 এ পর্যন্ত কলিযুগের 5122 বছর উপভোগ করা হয়েছে।

 4,27024 বছর ভোগ করতে হবে।


 পঞ্চ মহাযজ্ঞ

        1- ব্রহ্ম যজ্ঞ

        2- দেব যজ্ঞ 

        3- পিতৃ যজ্ঞ

        4- বলিবৈশ্বদেব যজ্ঞ

        5- অতিথি যজ্ঞ 


 স্বর্গ- যেখানে সুখ আছে।

 নরক - যেখানে দুঃখ আছে।🙏


   ভূলে যাওয়া কিছু তথ্য:-

 

*কিছু স্থানের প্রাচীনকালীন নাম* :

*জম্বুদ্বীপ* (বর্তমান এশিয়া) ।

*প্লক্ষদ্বীপ* (বর্তমান ইউরোপ/কারও মতে দক্ষিণ আমেরিকা) ।

*শাল্মলীদ্বীপ* (বর্তমান উত্তর আমেরিকা/কারও মতে ওশিয়ানিয়া ) ।

*ক্রৌঞ্চদ্বীপ* (বর্তমান ওশিয়ানিয়া মহাদেশ) ।

*কুশদ্বীপ* (বর্তমান আফ্রিকা মহাদেশ) ।

*শ্বাকদ্বীপ* (বর্তমান দক্ষিণ আমেরিকা/কারও মতে ইউরোপ)  ।

*পুষ্করদ্বীপ* (বর্তমান উত্তর আমেরিকা) ।

*উদধি সাগর* (বর্তমান ভারত মহাসাগর) ।

*ক্ষীর সাগর* (বর্তমান প্রশান্ত মহাসাগর) ।

*ইক্ষু সাগর* (বর্তমান আটলান্টিক মহাসাগর) ।

*সরোদ সাগর* (বর্তমান  ভূমধ্য সাগর) ।

*কশ্যপ সাগর/খোষ্টোম সাগর* (ক্যাসপিয়ান সাগর) ।

*অস্ত্রালয়* (বর্তমান অস্ট্রেলিয়া) ।

*ভারতবর্ষ* (বর্তমান ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ) ।

*আর্যাবর্ত* (বর্তমান ইন্ডিয়া) ।

*রম্যকবর্ষ* (বর্তমান চীন, মাঞ্চুরিয়া, কোরিয়া) ।

*হরিবর্ষ*/ *নৈষধবর্ষ* (বর্তমান মোঙ্গলিয়া) ।

*ইলাবৃতবর্ষ* (বর্তমান চীন, তাতার) ।

*কেতুমালবর্ষ*/ *গন্ধমাদনবর্ষ* (বর্তমান আফগানিস্তানের উত্তর অংশ, ইরান, তুর্কী) ।

*হিরন্ময়বর্ষ*/ *শ্বেতবর্ষ* (বর্তমান রাশিয়ার মধ্য সাইবেরিয়া অঞ্চল) ।

*উত্তর কুরুবর্ষ* (গ্রীনল্যাণ্ড সহ বর্তমান উত্তর মেরু অঞ্চল, রাশিয়ার দক্ষিণ সাইবেরিয়া অঞ্চল) ।

*ভদ্রাশ্ববর্ষ* (বর্তমান রাশিয়ার দক্ষিণ সাইবেরিয়া অঞ্চল) ।

*কৈকেয়* (বর্তমান তাজিকিস্তান) ।

*উপগণস্থান*/ *গান্ধার* (বর্তমান আফগানিস্তান) ।

*আর্যন*/ *পারস্য* (বর্তমান ইরান) ।

*ব্রহ্মদেশ* (মায়ানমার) ।

*ভূতস্থান* (বর্তমান ভুটান) ।

*শ্যামদেশ* (বর্তমান থাইল্যান্ড) ।

*লবদেশ* (বর্তমান লাওস) ।

*চম্পা* (বর্তমান ভিয়েতনাম) ।

*কম্বোজ* (বর্তমান কম্বোডিয়া) ।

*মলয়দেশ* (বর্তমান মালয়েশিয়া) ।

*সুর্যদেশ/সুরদেশ* (বর্তমান সিরিয়া) ।

*অর্বস্থান* (বর্তমান আরব দেশসমূহ) ।

*সমতট/বঙ্গদেশ* (বর্তমান বাংলাদেশ) ।

*যবদ্বীপ/বলিদ্বীপ/সুবর্ণদ্বীপ* (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) ।

*ত্রিবিষ্টপ/কিম্পুরুষবর্ষ* (বর্তমান চীন অধিকৃত তিব্বতদেশ) ।

*শৈলেন্দ্রদেশ* (বর্তমান কাজাখস্তান এর কাশগড়) ।

*সুমেরদেশ* (বর্তমান ইরাক) ।

*লবপুর* (বর্তমান পাকিস্তানের লাহোর) ।

*পুরুষপুর* (বর্তমান পাকিস্তানের পেশোয়ার) ।

*ইন্দ্রপ্রস্থ* (বর্তমান দিল্লী) ।

*পৌরব* (বর্তমান পঞ্জাব) ।

*কশ্যপপুরী* (বর্তমান কাশ্মীর) ।

*ভাগ্যনগর* (বর্তমান হায়দরাবাদ) ।

*মহাবলীপুরম* (বর্তমান মোল্লাপুরম) ।

*হরিগড়* (বর্তমান আলিগড়)  ।

*শিবপ্রদেশ* (বর্তমান মীরাজ) ।

*লক্ষ্মীনগর* (বর্তমান মুজফফরনগর) ।

*আর্যগড়* (বর্তমান আজমগড়) ।

*অজয়মেরু* (বর্তমান আজমের) ।

*চম্পানগরী* (বর্তমান সুলতানগঞ্জ) ।

*ব্রহ্মপুর* (বর্তমান বুরহানপুর) ।

*ধরাশিব* (বর্তমান ওসমানাবাদ) ।

*বীরাবতী* (বর্তমান ভদোদরা) ।

*মহীশূর* (বর্তমান মাইসোর) ।

*মধুরাপুরী* (বর্তমান মাদুরাই) ।

*বৃজি/বৈশালী* (বর্তমান মুজফফরপুর) ।

*বৎস/কৌশাম্বী/প্রয়াগ* (বর্তমান এলাহাবাদ) ।

 *পাঞ্চাল/অহিচ্ছত্র/কাম্পিল্য* (বর্তমান বরেলী, বদায়ুন, ফারাক্কাবাদ) ।

*কর্ণাবতী* (বর্তমান আহমেদাবাদ) ।

*কুরু* (বর্তমান মীরাট) ।

*দেবগিরি* (বর্তমান দৌলতাবাদ) ।

*মন্দাগিরি* (বর্তমান মুঙ্গের) ।

*মগধ* (বর্তমান ঝাড়খণ্ড) ।

*শাকল* (শিয়ালকোট) ।

*সুবাস্তু* (বর্তমান পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যক্যা) ।

*গোমতী নদী* (বর্তমান গোমাল নদী) ।

*সরস্বতী নদী* (বর্তমান ঘাঘর নদী) ।

*ক্রমি নদী* (বর্তমান কুররম নদী) ।

*বিপাশা নদী* (বর্তমান বিয়াস নদী) ।

*অক্ষিণী নদী* (বর্তমান চেনাব নদী) ।

*বিতস্তা নদী* (বর্তমান ঝিলাম নদী) ।

*শতদ্রু নদী* (বর্তমান সতলুজ নদী) ।

*পারুষণী নদী* (বর্তমান রাভি নদী) ।

*কাবেরী নদী* (বর্তমান রেবা নদী) ।

*পাটলীপুত্র* (বর্তমান পাটনা) ।

*কর্তৃপুর* (বর্তমান জলন্ধর) ।

*কাশী* (বর্তমান বারাণসী) ।

*উদন্তপুর* (বর্তমান বিহার শরীফ) ।

*লক্ষণাবতী* (মালদহ) ।

*হিমবর্ষ/দক্ষিণ কুরু* (বর্তমান ইন্ডিয়া) ।

*কেরালয়ম* (বর্তমান কেরল) ।

*গোভাপুরী* (বর্তমান গোয়া) ।

*মৎস্য* (বর্তমান জয়পুর) ।

*অঙ্গ* (বর্তমান বিহার এর পূর্ব অঞ্চল) ।

*উৎকল/অঙ্গ* (বর্তমান ওডিশা) ।

*বিদর্ভ* (বর্তমান মহারাষ্ট্র) ।

*প্রাগজ্যোতিষপুর/কামরূপ* (বর্তমান অসম) ।

*গুর্জরাষ্ট্র/সৌরাষ্ট্র* (বর্তমান গুজরাট) ।

*দেববৃন্দ* (বর্তমান দেওবন্দ) ।

*বিজয়বাটিকা* (বর্তমান বিজয়ওয়াড়া) ।

*পুন্ড্রবর্ধন* (বর্তমান উত্তর বঙ্গ) ।

*গুরুগ্রাম* (বর্তমান গুরগাওঁ) ।

*কালীক্ষেত্র* (বর্তমান কোলকাতা) ।

*তাম্রলিপ্ত* (বর্তমান তমলুক) ।

*রাজগৃহ* (বর্তমান রাজগির) ।

*ডেরাদ্রোণ* (বর্তমান দেহরাদুন) ।

*কর্ণসুবর্ণ/রঙ্গভূমি* (বর্তমান কানাসোনা) ।

*কনহাপুর* (বর্তমান কানপুর) ।

*মল্লভূমি* (বর্তমান বাঁকুড়া) ।

                  ।। ওম্ ।।




"সনাতন ধর্ম ও পবিত্র বেদ"।

আমাদের ধর্মের নাম সনাতন ধর্ম কেন? বেদে কি এই নাম রয়েছে? সনাতন ধর্মের প্রবর্তক কে?


অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং অন্যান্য রিলিজিয়নের মানুষরাও জিজ্ঞেস করেন যে সনাতন শব্দটা আমাদের কোন ধর্মগ্রন্থে রয়েছে? আমাদের ধর্মের নাম সনাতন ধর্ম কেন?


এর উত্তর হলো আমাদের ধর্ম, তোমাদের ধর্ম বলে আদতে কিছু নেই। ধর্ম এই মহাবিশ্বে একটাই আর ধর্ম সবসময় ই সনাতন। সনাতন শব্দের অর্থ চিরন্তন। যা আগে ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে তাই সনাতন।


যেমন আগুনের ধর্ম উত্তাপ, কোটি কোটি বছর পূর্বেও আগুনের ধর্ম ছিল উত্তাপ, এখনো আগুনের ধর্ম উত্তাপ, ভবিষ্যতেও আগুনের ধর্ম হলো উত্তাপ, অর্থাৎ আগুনের ধর্ম সনাতন। একজন হিন্দুরও আগুন ধরলে উত্তাপ অনুভাব হবে, একজন মুসলিম বা খ্রিষ্টানেরও তাই হবে। তাই এদের শরীরের ধর্মও আগুনের কাছে একই।


নিরীহ অসহায়কে সাধ্যমতো সাহায্য করাই ধর্ম, কোটি বছর আগেও নিরীহ কাউকে সাহায্য করাই ধর্ম ছিল, এখনো তাই আছে, কোটি বছর পরেও তাই থাকবে। তাই নিরীহকে সাহায্য করা সনাতন ধর্ম।


একটি আপেল গাছে তার বোঁটা থেকে চ্যুত হলে পৃথিবীর আকর্ষণে নিচে এসে পড়ে। কোটি বছর আগেও তাই হতো, এখনো তাই হয়, কোটি বছর পরেও তাই হবে। আমরা এর নাম মানুষের ভাষায় দিয়েছি মধ্যাকর্ষণ শক্তি। বস্তুর ধর্মই একে অপরকে আকর্ষণ করা। তাই বস্তুর এই মধ্যাকর্ষণ শক্তি বস্তুর সনাতন ধর্ম।


ধর্ম শব্দটি সংস্কৃত ধৃ ধাতু থেকে উৎপন্ন। যার অর্থ হলো ধারণ করা।


যেমন— জলের ধর্ম তরলতা, আগুনের ধর্ম উত্তাপ দেওয়া ইত্যাদি সেইরুপ মানুষের ধর্মও মানবতা। 


মনুর্ভব জনয়া দৈবং জনম্

➢ ঋগ্বেদ, ১০/৫৩/৬।

অর্থাৎ, প্রকৃত মানুষ হও এবং অন্যকেও মানুষ হিসেবে গড়ে তোল।


তাই ধর্ম মানেই সনাতন। ধর্মের কখনো পরিবর্তন হয়না। মানুষের ধর্ম সর্বদাই মানবতা, আগুনের ধর্ম সর্বদাই উত্তাপ, জলের ধর্ম সর্বদাই তরলতা। এগুলো চিরন্তন বা সনাতন সত্য। আর তাই ধর্ম সবসময় সনাতন। পৃথিবীতে আমরা যে সব প্রচলিত Religion দেখি সেগুলো ধর্ম নয়। সেগুলো নির্দিষ্ট কিছু আচার অনুষ্ঠান নিয়ম কানুনের সমষ্টিগত সাংস্কৃতিক, ভৌগলিক ও রাজনৈতিক মতাদর্শ। Religion শব্দের সংস্কৃত অর্থ ধর্ম নয়, Religion শব্দের সংস্কৃত অর্থ মার্গ। ধর্ম শব্দটা Religion এর বাংলা হিসেবে আমরা প্রচলিত ভুল অর্থে বা Misnomer হিসেবে ব্যবহার করি।


আবার যেহেতু মানুষ সৃষ্টির আগে থেকেই বস্তুসমূহের, প্রকৃতির চিরন্তন সনাতন এই ধর্ম বা বৈশিষ্ট্যগুলো উপস্থিত ছিল তাই কোন মানুষ ই ধর্মের প্রবর্তক হতে পারেনা। ধর্মের প্রবর্তক একমাত্র ঈশ্বর ই কারণ তিনিই এই সবকিছুর সনাতন নিয়ম সৃষ্টি করেছেন। অগ্নিতে উত্তাপ, জলে তরলতা, মানুষে মনুষ্য, সকল বস্তুতে মহাকর্ষ, অভিকর্ষ শক্তি তিনিই দিয়েছেন, কোন মানুষ দেয়নি, তাই মানুষ কখনো ধর্মের প্রবর্তক হতে পারেনা।


এই যে ধর্ম সবসময় সনাতন হয়, এই জ্ঞানটি ঈশ্বর আমাদেরকে প্রেরণ করেছিলেন যে আদি গ্রন্থের মাধ্যমে তার নাম হলো বেদ।


বেদ জ্ঞান হল অনাদি এবং দেশ, কালের বন্ধনের দ্বারা বাঁধা নয়। সবার জন্য এবং সব যুগের জন্য। আর তাই বেদে যে ধর্মের বিবৃতি করা হয়েছে তাকেই সনাতন ধর্ম বলে।


পবিত্র অর্থববেদের ১০/৮/২৩ মন্ত্রে এই কথাটিই বেদ  বলছে-


ওম্ ভোগ্য ভবদথো অন্নমদদ্ বহু ।

যে দেবমুতরাবন্তমুপাসতৈ সনাতনম্ ।।

➢ অথর্ববেদ, ১০/৮/২২।


পদার্থঃ— (যঃ) যে ব্যক্তি (দেবম্) ঐ প্রকাশময় (উতারাবন্তম্) শ্রেষ্ঠ গুণের চরমসীমারূপ (সনাতনম্) সনাতন পরমেশ্বরকে (উপাসাতৈ) উপসনা করে, সে (ভোগ্যঃ) উত্তমভোগকারী (ভবত) হয়, (অয়ো) এবং (বহু অন্নম অদত্) দীর্ঘ সময়কাল পর্যন্ত সুখপ্রাপ্ত হয় অর্থাৎ জীবকে প্রচুর অন্ন প্রদান পূর্বক সুদীর্ঘ জীবন প্রাপ্ত করে।


অর্থাৎ সেই সনাতন পরমেশ্বরকে স্মরণকারী ব্যক্তি উত্তম ভোক্তা ও সুদীর্ঘকাল পর্যন্ত অন্নঅাদিকে প্রাপ্ত করে পুষ্ট হয়ে থাকে।


পরের মন্ত্রে বলা হচ্ছে-


ওম্ সনাতনমেনমাহুরুতাদ্য স্যাপ্তুনর্ণবঃ ।।

অহোরাত্রো প্রজায়েতে অন্যো অন্যস্য রূপয়ো ।।

➢ অথর্ববেদ, ১০/৮/২৩।


পদার্থঃ— (এনম) এই পরমাত্মাকে (সনাতনং অাহুঃ) সনাতন বলা হয়, পরন্ত (উত অদ্য) তা তো আজও (পুনর্ণবঃ) পুনঃ নতুনের নতুন হয়। যে ভাবে (অহোরাত্রো) দিন ও রাত (অন্যঃ অন্যস্য রূপয়োঃ) এক রূপ হতে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয়ে (প্রজায়েতে) উৎপন্ন হয়। দিনের পর রাত এবং রাতের পর দিন হয় এ জন্য রাত দিন নতুন নতুন লাগে,সেই প্রকারে সনাতন হয়েও ঈশ্বর নবীন হতেও নবীন। তিনি কখনও জীর্ণ হন না।


অর্থাৎ রাত দিনের এই চক্র সেই সৃষ্টির আদি হতেই চলছে। তারপরেও প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাত আমাদের কাছে নতুনের মতো লাগে। ঠিক তেমনি অনাদি অনন্ত সনাতন হয়েও ঈশ্বর সবসময় নবীন।


আর সেই সনাতন পরমব্রহ্মের দেয়া সনাতন জ্ঞানবাণী হলো পবিত্র বেদ। এই উপলক্ষে কয়েকটি মন্ত্র পড়েই বেদে আবার বলা হচ্ছে -


অংতি সন্তং ন জহাত্যন্তি সন্তং ন পশ্যতি।

দেবস্য পশ্য কাব্যং ন মমার ন জীর্যতি।।

➢ অথর্ববেদ, ১০/৮/৩২।


বঙ্গানুবাদঃ- মনুষ্য সমীপবর্ত্তী পরমাত্মাকে দেখেও না, তাঁহাকে ছাড়িতেও পারে না। পরমাত্মার কাব্য বেদকে দেখো: তাহা মরেও না, জীর্ণও হয় না।


অর্থাৎ পরমাত্মা যেমন সনাতন, তার বেদবাণীও সনাতন, বেদ কখনো জীর্ণ হয়না।


আর এই বেদোক্ত ধর্মকেই তাই সনাতন ধর্ম বলা হয়।  মনুসংহিতা সেজন্য বলছে-


সত্যং ব্রুয়াৎ প্রিয়ং ব্রুয়ান্নব্রুয়াৎ সত্যমপ্রিয়ম্।

প্রিয়ং চ নানৃতং ব্রুয়াদেষ ধর্ম্মঃ সনাতনঃ।।

➢ মনুস্মৃতি, ৪/১৩৮।


অনুবাদ- অপরের হিতকর প্রিয় সত্য কথা বলিবে, অপ্রিয় সত্য কথা কখনো বলিবেনা যাহা লোকের মর্মভেদ করে, অপরকে প্রসন্ন করার নিমিত্তেও আবার মিথ্যা বলিবে না, ইহাই বেদবিহিত সনাতন ধর্ম।


 সনাতন ধর্মের লক্ষণ কী কী?


ধৃতিঃ ক্ষমা দমোহস্তেয়ং

শৌচমিন্দ্রিয়-নিগ্রহঃ।

ধীর্বিদ্যা সত্যমক্রোধো

দশকম্ ধর্মলক্ষণম্॥

➢ মনুসংহিতা, ৬.৯২।


অর্থাত্‍ সহিষ্ণুতা,ক্ষমা ,চুরি না করা ,শুচিতা ,ইন্দ্রিয়সংযম,শুদ্ধ বুদ্ধি,জ্ঞান,সত্য এবং ক্রোধহীনতা-এইটি দশটি মনুষ্যের সনাতন ধর্মের লক্ষণ।

আর এই সনাতন ধর্মকে আমরা যেন জানতে পারি, চোখ দিয়ে দেখতে পারি সেজন্য আমাদের জন্য প্রেরিত মানবজাতির দিক নির্দেশনা হলো পবিত্র বেদ।

মনুসংহিতার ২নং অধ্যায়ের ৮ নং শ্লোকে এটিই বলা হচ্ছে-

পিতৃদেব মনুষ্যাণাং বেদশ্চক্ষুঃ সনাতনম্

পিতৃমাতৃ,সকল মনুষ্য, দেবতুল্য ঋষিগণ সকলের জন্যই বেদ ই সনাতন পথ দর্শনের চক্ষুস্বরূপ।

আর তাই সনাতন পরমব্রহ্ম প্রেরিত সনাতন বেদবাণীর দ্বারা বিধৃত ও দৃষ্ট যে ধর্ম তাই সনাতন ধর্ম। ধর্ম মানেই সনাতন কারণ সৃষ্টির আদি থেকেই ধর্ম বিদ্যমান। আর তাই কোন মানুষ ধর্মের প্রবর্তক হতে পারেনা কারণ মানুষ সৃষ্টির আগে থেকেই ধর্ম মহাজগতে উপস্থিত। সনাতন ধর্মের প্রবর্তক স্বয়ং ঈশ্বর ই যিনি বেদের মাধ্যমে মনুষ্যকে এই সনাতন ধর্মের প্রবচন দিয়েছেন।


ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি 

🙏🙏🙏🙏🙏

No comments:

Post a Comment

T.S. কনকা আর্মি নিউরো সার্জেন

 সাল ১৯৬২। ভারত-চীন যুদ্ধ চলছে। সীমান্তে আহত জওয়ানদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আছে। সেই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরে যোগ দিলেন ...