Friday, 26 August 2022

কিছু সত্তি

 জল ও প্রাণ পৃথিবীর নিজস্ব সম্পদ নয়

----------------------------------------------------

 *C*


জাপানী গবেষণা:-

------------------------

একটি রেফ্রিজারেটর এর সমান আকৃতির মহাকাশযান "হায়াবুসা-২"। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে, জাপান (JAXA, Japan aerospace exploration agency) মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে। এর আগে হায়াবুসা-১ উৎক্ষেপিত হয়েছিল। 

         হায়াবুসা- ২  হীরে আকৃতির (মারকুইজ) একটি গ্রহাণু "রিয়গু"তে অবতরণ করে। রিয়গু শব্দের অর্থ ড্রাগনের জায়গা। রিয়গু গ্রহাণুটি পৃথিবী থেকে সাড়ে ১৮ কোটি মাইল দূরে অবস্থিত। ২০২০ সালে হায়াবুসা-২ পৃথিবীতে ফিরে আসে। আসার পথে রিয়গু থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসে ৫.৪ গ্রাম নুড়ি ও ধুলোর নমুনা। দুর্লভ সেই  ধুলো ও পাথরের নমুনা নিয়ে, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকরা দীর্ঘ গবেষণা চালান।

সম্প্রতি "নেচার অ্যাস্ট্রোনমি" জার্নালে সেই গবেষণাফল প্রকাশিত হয়েছে। 

  "কয়েকশো কোটি বছর আগে পৃথিবীতে কিভাবে মহাসাগর সৃষ্টি হয়েছিল? এর উত্তর রিয়গু তে আছে। গবেষকরা দাবি করেছেন, পরিবর্তনশীল ও জৈব উপাদান সমৃদ্ধ 'সি টাইপ' গ্রহাণুগুলো জলের মূল উৎস। গ্রহাণুর ওই নমুনায় যে জৈব উপাদান মিলেছে, তাতে পৃথিবীতে জীবন গঠনের উপাদান আবিষ্কার করেছেন। তারা বলছেন, প্রাণের মূল উপাদান "অ্যামিনো অ্যাসিড" মহাকাশেই সৃষ্টি হয়েছিল; হয়েছে। জল বা প্রাণ পৃথিবীর নিজস্ব সম্পদ নয়"।

ভারতীয় গবেষণা:-

------------------------

সামান্য কিছু মতভেদ সত্বেও, ভারতীয় ঋষি, যোগী, বিজ্ঞানী তথা গবেষকদের সার্বিক সিদ্ধান্ত:-

সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি। এই চার যুগকে একত্রে 'দিব্যযুগ' বলা হয়। 

সত্যযুগ ১৭,২৮,০০০ বছর। ত্রেতা যুগ ১২,৯৬,০০০ বছর। দ্বাপর যুগ ৮,৬৪,০০০ বছর। কলিযুগ ৪,৩২,০০০ বছর। চার যুগ মিলে মোট ৪৩,২০,০০০ (৪৩ লক্ষ বিশ হাজার) বছর। এইরূপে এক হাজার চতু:যুগে ব্রহ্মার একটি দিন হয়। ব্রহ্মার একদিন ৪৩২,০০,০০,০০০ (৪৩২ কোটি বছর)। ব্রহ্মার একদিন "কল্প"নামে অভিহিত। প্রতিটি কল্প ১৪ মন্বন্তরে বিভক্ত। এক একটি মন্বন্তর ৭১টি চার যুগে বিভক্ত। যাইহোক- এক যুগ থেকে আরেক যুগে (যেমন সত্য থেকে দ্বাপর, কলি থেকে পুনরায় সত্যযুগ) পরিবর্তনের সময় পৃথিবীতে বড় বিবর্তন সূচিত হয়। জীবজগৎ তথা প্রকৃতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন সাধিত হয়, লক্ষিত হয়। কিন্তু কল্পশেষে পৃথিবীতে "মহাপ্রলয়" নামে। এই মহাপ্রলয়ে পৃথিবীর সমস্ত জীবজগৎ বিনষ্ট হয়ে যায়। এই মহাপ্রলয় কখনই কোন জীব বা মনুষ্য সৃষ্ট হয় না।

আমাদের সুদূরপ্রসারী কল্পনায়ও আনা সম্ভব নয়, ব্রহ্মাণ্ডের পরিব্যপ্তি কত! তবে ভারতীয় গবেষকদের আবিষ্কার- ব্রহ্মাণ্ড অতি বৃহৎ শূন্য; গোলাকার। ঠিক যেমন গ্রহ- উপগ্রহের আকৃতি গোলাকার হয়। এই গোল ভাবনা থেকে শূন্যের উৎপত্তি। ভারতীয় ঋষিরাই শূন্যের উদ্ভাবক।

ভারতীয় ঋষিদের এটাও আবিষ্কার- ব্রহ্মাণ্ডে লক্ষ কোটি তারকা- নক্ষত্রের মধ্যে বারোটি বিশেষ সূর্য বর্তমান (আমাদের পৃথিবীকে ধরে)। এই ১২ টি সূর্যের অধীনে বারোটি এমন গ্রহ রয়েছে, যেখানে প্রাণীজগৎ বা আমাদের পড়শী রয়েছে। আমরা এখনো দ্বিতীয় সূর্য বা আমাদের পড়শী আবিষ্কার করে উঠতে পারিনি।


প্রাণের রকম ফের:-

-------------------------

প্রাণ মাত্র চার রকমের। ১, ভূমিজ(গাছপালা, লতা গুল্ম ইত্যাদি)   ২, স্বেদজ(মশা, মাছি, দৃশ্য অদৃশ্যমান ভাইরাস প্রভৃতি) ৩, অন্ডজ (পাখি, মাছ, ব্যাঙ, সাপ ইত্যাদি) ৪, গর্ভজ (মানুষ- গরু- ছাগল প্রভৃতি)।


প্রাণের  মূল সূত্র:-

-----------------------

প্রাণী বা জীবজগতের জন্ম মৃত্যু শৃংখল বা বেঁচে থাকার মূল মাধ্যম কিন্তু "পঞ্চভূত"। এই পঞ্চভূত হলো- ১, আকাশ ২,বায়ু ৩,আগুন ৪,মাটি ও ৫,জল। ব্রহ্মাণ্ডের যে যে গ্রহে পঞ্চভূত রয়েছে, সেখানেই প্রাণী জগৎ আছে। যেখানে পঞ্চভূত নেই সেখানে প্রাণিজগত নেই, প্রাণের বিকাশ ও নেই। এই দিক দিয়ে, সূর্যের অধীনে আমরা পৃথিবী ছাড়া, আর কোন গ্রহ উপগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা উচিত না।


মহাপ্রলয়ের পরে:-

-----------------------

       "এই ব্রহ্মাণ্ডে কোন কিছু আমরা সৃষ্টি বা ধ্বংস করতে পারিনা"। শুধুমাত্র ক্ষণিকের জন্য রূপ বিবর্তন করতে পারি।

       ‌মহাপ্রলয়ের পরে জীবজগৎ এর প্রাণ রূপ বীজ, অতি সূক্ষ্ম অবস্থায়, পঞ্চভূতের সঙ্গে অন্য গ্রহে স্থানান্তরিত হয়। এটা ঈশ্বরীয় নিয়ন্ত্রণ, চেন সিস্টেমে চলে। এদিক দিয়ে- মঙ্গল, শুক্র, বৃহস্পতি গ্রহাদিতে হয়তো কোন কল্পে প্রাণ ছিল। বিষয়টা এখনো আমরা জানিনা। প্রমাণিত হয়নি।


এরিক ফন দানিকেন তত্ত্ব :-

----------------------------

সুইচ গবেষক- লেখক দানিকেন এর এলিয়েন তত্ত্ব বা ভিনগ্রহ থেকে পৃথিবীতে জীবজগতের আবির্ভাব। যা নিয়ে আজ বিশ্বব্যাপী ব্যাপক গবেষণা চলছে। দানিকেন যখন এসব কথা বলেন, তখন পৃথিবীর একশ্রেণীর বোদ্ধাদের হাসাহাসি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। দানিকেন কে অনেকে পাগল বলতেও কার্পণ্য করেননি। ঠিক যেমন ভারতের, ভারতীয় ঋষিদের গবেষণা নিয়ে এখনো এক শ্রেণীর মানুষ চরম দ্বি-চারিতা ও দ্বিধায় ভোগেন।

দানিকেনের এই তত্ত্ব কিন্তু ভারতীয় দর্শন থেকে ধার করা। তিনি তা অকপটে স্বীকারও করেছেন; করেন।


উপসংহার:-

----------------

      "জল ও প্রাণ পৃথিবীর নিজস্ব সম্পদ নয়।" জাপানী 'হায়াবুসা-২' এর গবেষণা ফল নিয়ে আমরা ভারতীয়রা উচ্ছ্বসিত নই। বরং আমরা খুশি, আনন্দিত এই ভেবে যে, আজ থেকে পাঁচ- সাত হাজার বছর আগে আবিষ্কৃত "ভারতীয় সূত্র" কে বিজ্ঞানের মাপকাঠিতে বিচার ও নতুনভাবে প্রমাণ করবার জন্য। ধন্যবাদ প্রাপ্য- জাপান, রাশিয়া, আমেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেনের বিজ্ঞানী কুলের। ধন্যবাদ হায়াবুসা-২ ।


তথ্যসূত্র:-


১, ঋকবেদ। অনুবাদ রমেশ চন্দ্র দত্ত। প্রকাশক- সদেশ। ১০/৮২/১ ও ১০/১২৯/১। এছাড়া ১,২,৩ ও ৫ মন্ডলে পূর্বাভাস।

 ২,Journal "Nature Astronomy"।

৩,, Chariots of the Gods.- Erich Paul Von Daniken. 

৪,, ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণম্- পৃষ্ঠা ১৩। প্রকাশক নবভারত পাবলিকেশন।

৫,, বিষ্ণু পুরাণম্। পৃষ্ঠা- ১০ থেকে ১৭। নবভারত পাবলিকেশন।

৬, কূর্ম পুরাণম্। পৃষ্ঠা-২০ থেকে ২৬। প্রকাশক নবভারত পাবলিকেশন।

৭, মহাভারতম্। আদি পর্ব। বিশ্ববাণী প্রকাশনী। পৃষ্ঠা- ২৪ থেকে ২৯।

৮, মনুসংহিতা। সৃষ্টি প্রকরণ। প্রথম অধ্যায়। শ্লোক সংখ্যা ৫-১৩. ভাষান্তর- মানবেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়।প্রকাশক- সংস্কৃত পুস্তক ভান্ডার।

৯, উপনিষদ। অখন্ড সংস্করণ। হরফ প্রকাশনী। মুণ্ডুক উপনিষদ। দ্বিতীয় মুণ্ডক।

১০, পদ্মপুরাণম্। সৃষ্টি খন্ড। নবভারত পাবলিশার্স। পৃষ্ঠা ৬।

১১, অগ্নি পুরাণম্। নবভারত পাবলিশার্স। পৃষ্ঠা- ৪১।

১২, শ্রী সাম্ব পুরাণম্। নবভারত পাবলিশার্স। পৃষ্ঠা- ১১৯ থেকে ১২২।

১৩, বায়ু পুরাণম্। নবভারত পাবলিশার্স। ৩৩ অধ্যায়। পৃষ্ঠা ১৬-১৯।

১৪, কালিকা পুরাণম্। নবভারত পাবলিশার্স। ২৫ অধ্যায়। পৃষ্ঠা ২১৬ থেকে ২২৪।

১৫, ভবিষ্যপুরাণম্। নবভারত পাবলিশার্স। মধ্য পর্ব। পৃষ্ঠা ১৭০ থেকে ১৭৪।

১৬, দেবীভাগবতম্। পঞ্চানন তর্করত্ন সম্পাদিত। নবভারত পাবলিশার্স। ৩২ অধ্যায়। পৃষ্ঠা-৭০৫।

No comments:

Post a Comment

T.S. কনকা আর্মি নিউরো সার্জেন

 সাল ১৯৬২। ভারত-চীন যুদ্ধ চলছে। সীমান্তে আহত জওয়ানদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আছে। সেই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরে যোগ দিলেন ...