Saturday, 13 August 2022

সহজ কথা ।

ইশ্বর যা ইংরাজীতে GOD এর অর্থ কি?এক কথায় ইশ্বরের অর্থ বিশ্লেষণ কি হতে পারে?প্রশ্নদুটি যদি ইশ্বরে বিশ্বাসী কারোকে করা হয় তিনি কি উত্তর দেবেন জানা নেই।তবে সনাতন ধর্মের সমস্ত বিষয়ের থেকে  নির্যাস প্রস্তুত করলে যে অর্থ উঠে আসে সেই অনুসারে এর উত্তর দেওয়া সম্ভব।আর তা হলো ইশ্বর এক অনুভূতি ছাড়া আর অন্য কিছু নয়।ইশ্বর কে অনুভব করা যায়।নাস্তিক্যবাদীরা বলবেন তাহলে ইশ্বর কে কি দেখা যায়? তাদের জন্য উত্তর, নিশ্চয় ইশ্বর দর্শন সম্ভব।কিন্তু যুক্তিবিঞ্জানের শর্ত মেনে নিলে এর জন্য কিছু শর্ত রয়েছে।সেই শর্ত পূরণ ছাড়া ইশ্বরের অনুভূতি লাভ ও দর্শন মোটেও সম্ভব নয়।বিষয় টা ঠিক অনেকটা এরকম দাঁড়ায়,যেমন ধরা যাক আপনি কোনো একটি কাজের সফলতা লাভ করতে চাইছেন।কিন্তু সেই সফলতা লাভের জন্য আপনি মোটেই প্রস্তুত নন।তাই সেই কাজের সফলতা লাভের জন্য আপনাকে অবশ্যই আগে সফলতা লাভের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে।নচেৎ সফলতা অধরা থেকে যাবে।কৃষক কৃষিকাজ করে ফসল উৎপাদন করেন।কিন্তু তার আগে তাকে জমি টিকে ফসল উৎপাদনের উপযুক্ত বানাতে হয়।জমিতে হাল দিতে হয়।সাথে জমিকে চাষের উপযুক্ত করে সেই জমিতে শস্যের বীজ লাগাতে হয়,শুধু এতেই থেমে গেলে কৃষকের ফসল উৎপাদন সম্পন্ন হয় না।সম্পূর্ন এবং পরিপূর্ণ ফসল পেতে হলে তাকে লাগাতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়।যতক্ষন না বীজগুলি তাদের পরিপূর্ণতা লাভ করছে।তার জন্য সার,কীটনাশক,

পতঙ্গের আক্রমন থেকে রক্ষা করা সাথে ফসলের অনুকূল পরিবেশ ও প্রয়োজন তবে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে কৃষক সম্পূর্ণ  ফসল লাভ করতে পারেন।ঠিক তেমন ই মানুষের জীবনে ইশ্বর লাভ ও তার দর্শনের জন্য নির্দিষ্ট পন্থা ও পথে চলে ক্ষেত্র কে উপযুক্ত না করলে পুরো প্রচেষ্টাই বৃথা হয়ে যায়।কারণ পৃথিবীর যে কোনো কিছুর অনুভূতি লাভ করতে গেলে আগে অনুভূতি লাভের জন্য ক্ষেত্র  প্রস্তুত প্রয়োজন।যখন তা সম্পন্ন হয় তখন ই সেই বস্তুটির অনুভূতি লাভ সম্ভব হয়।ইশ্বরের অনুভূতি লাভ ও ঠিক তেমন ই।এর পরে আসা যাক ইশ্বর দর্শন।ইশ্বর যেহেতু অনুভূতিতেই লাভ করা সম্ভব ঠিক তেমন ই সুস্থির তরঙ্গহীন জলের অবস্থা ছাড়া যেমন কোনো কিছুর ই প্রতিবিম্ব জলে দেখা সম্ভব নয়।ঠিক তেমন ই মানুষের অভ্যন্তরীন স্থিতি তেমন না হলে ইশ্বর দর্শন সম্ভব নয়।

একজন মানুষের অভ্যন্তরীন একটি বিশেষ বস্তু হলো মানুষের "মন"।যা একাধারে  অত্যন্ত  জটিল আবার একাধারে অত্যন্ত সহজ সরল।মজা হলো এটির নিস্তরঙ্গতা তথা সম্পূর্ণ রুপে সুস্থিরতা  লাভ একাধারে অত্যন্ত কঠিন অন্যদিকে এটি অত্যন্ত সহজ বিষয়।কারন মানুষের "মন" সদাসর্বদা চিন্তার তরঙ্গে অস্থির হয়ে থাকে।নাস্তিক হোক বা আস্তিক হিন্দু হোক বা মুসলিম অথবা খ্রীষ্টান কেউ ই এই তত্বটিকে অস্বীকার করতে পারে না।কারন মনে চিন্তা নেই এমন মানুষ গোটা বিশ্বে একজন ও খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।অথচ এই চিন্তার উৎস কি?আধুনিক তথা উন্নততর বিঞ্জান বলবে এটা একটা হাইপোথিসিস কেউ বলবে এটা একটা কেমিক্যাল রিয়াকশান এমন হাজার হাজার যুক্তি আর সেই যুক্তিকে সফল করাতে আরো হাজার টা যুক্তি হাজির করবে যুক্তিবাদীর দল।কিন্তু কেন আর কোথা থেকে এই চিন্তার উৎপত্তি হয় তার সঠিক উত্তর আজো আধুনিক ও উন্নত বিঞ্জান এক কথায়  ব্যাখ্যা করতে পারে না।আবার এই চিন্তাই হলো মানুষের সমস্ত সমস্যা সৃষ্টির মূল,অন্তত এমনটাই দাবী করে আধুনিক থেকে উন্নত বিঞ্জান।শরীর খারাপ, সুগার বেড়েছে,প্রেসার বেড়েছে,থাইরয়েড বেড়েছে এমন অসংখ্য আভ্যন্তরীন শারীরবৃত্তীয় সমস্যার মূল হলো মনের চিন্তা।তাই সকল চিকিৎসক ই সমস্তরোগীকেই একটা মূল উপদেশ তথা পরামর্শ দেন,আর তা হলো চিন্তা মুক্ত থাকুন,মন কে ফ্রী রাখুন,তাহলেই সমস্ত রোগের নিরসন হয়ে যাবে।

এত কিছু বলার একটাই কারন,আর তা হলো মানুষের শরীরের অভ্যন্তরে  এই  "মন" ই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন  অথচ অদৃশ্য আবার অনুভূতি শীল একটি বস্তু।যা মানুষের সমস্ত কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে।ইসলাম বলে  নিজেকে সম্পূর্ণ উৎসর্গ করো আল্লাহ র কাছে তাহলেই তার আর্শীবাদ লাভ করবে।খ্রীষ্টান বলে পবিত্র  হও তবেই পবিত্র আত্মার কৃপা লাভ করবে। অথচ এই লাভ করা মানেটা কি?

তার কোনো সঠিক উত্তর নেই এদের কারোর কাছে।অথচ সনাতন ধর্মের মূল ভিত্তিই হল মনের নিয়ন্ত্রনের শিক্ষা দান।আর তার জন্যই সনাতন ধর্মের দর্শনের মূল ভিত্তি হলো মানবের আত্মিক কল্যান সাধনের পথের হদিশ দেওয়া।তাই তো একমাত্র সনাতন ধর্মের একটি কথাই সমগ্র বিশ্বের মানব জাতির কাছে চিরকালের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান।আর তা হলো মানুষ হও।

প্রতিটি কথার দুটি অর্থ থাকে।একটি হলো স্থুল অর্থ অর্থাৎ মোটামুটি একটা মানে।আর দ্বিতীয় অর্থ হলো এর অভ্যন্তরীন অর্থ।মানুষ তো সকলেই তা স্বত্বেও কেন সনাতন ধর্ম পৃথিবীর সকল মানুষকে বলে মানুষ হও? এটা অনেকেই হয়ত জানেন অনেকেই হয়ত গভীর ভাবে চিন্তা করতে পারেন না বলে বলেন ওসব বেকার কথা। কিন্তু  একজন সঠিক মানুষ হতে গেলে হতে হয় মনুষ্যত্বের অধিকারী।যেখানে মুখ ও মন একই কথা বলবে।মানুষের বিবেক মানুষের মনকে সঠিক পথের দিশা দেখাবে।যা মূল অর্থ ই হবে অপরের কোনধরনের  ক্ষতি না করে নিজের জীবন কে সুন্দর ও সুললিত ছন্দে প্রতি পদে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।আর তাই মানুষ হতে গেলে বা মনুষ্যত্ব অর্জন যে সহজ বিষয় নয় তা সহজেই বোঝা যায়।আর সেই মনুষ্যত্বার আলোতে আলোকিত হতে সনাতন ধর্ম ই একমাত্র পথের হদিশ দেয় তার দর্শনের মাধ্যমে।সনাতন ধর্মের দর্শনের ভাগ গুলোকে যদি পৃথিবীর যে কোনো মানুষ একটু বিচার চিন্তা দিয়ে বিচার করে তাহলে একটা সরল বিষয় সকলেই দেখতে ও  বুঝতে পারবেন আর তা হলো, নিজেকে জানা যে জন নিজেকে জানতে আর বুঝতে অক্ষম সে কি করে অপর কে  বুঝবে? আর সেই কারনেই একমাত্র সনাতন ধর্ম তার দর্শনের মাধ্যমে মানবের মন কে নিয়ন্ত্রন ও স্থির করার পথ দেখায়।অষ্টমার্গিক যোগ তার ই অন্যতম প্রধান প্রমান।অষ্টমার্গিক যোগ এর আটটি স্তর   যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারনা, ধ্যান ও সমাধি,এর সাথে প্রতিটির আরো কয়েকটি বিষয় রয়েছে।যা একমাত্র ক্রমান্বয়ে অভ্যাসের মাধ্যমেই সফলতা লাভ করা সম্ভব।আর এটা ঠিক সেই পূর্বে উল্লেখ করা কোনো কিছু সফলতা লাভের জন্য তার ক্ষেত্র তৈরির প্রকৃয়া মাত্র।আর মজার বিষয় হলো অষ্টাঙ্গিক মার্গ যোগ সহ সনাতনের একাধিক দিক কে বিচার করলে দেখা যাবে।সেখানে পৃথিবীর কোনো প্রাণীর প্রতি  বিন্দুমাত্র হিংসা দ্বেষ সৃষ্টিকারী ও পরামর্শ দেওয়া নেই।আর এই পথে যতই মানুষ এগোবে তত ই তার মন হতে থাকবে স্থির। এটা একটা পর্যায়ে মানুষের মন কে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে দেবে যেখানে মানুষের মন হবে একদম স্থির।সেই মনে ক্রমান্বয়ে চিন্তার ঢেউ আসবে না।আর তখন ই মানুষের আত্মিক ও শারীরিক বিকাশ পৃথিবীর  যে কোন অনুভূতি লাভের উপযোগী হয়ে উঠবে।

এই দীর্ঘ লেখা লেখার কারণটা এবার নিশ্চয় পাঠক অনুধাবন করতে পারছেন।আসলে এটাই হলো সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য আর সংস্কার যা একজন মানুষ কে মনুষ্যত্বে উন্নীত করে তোলে।যা সমাজ কে সমৃদ্ধ আর জীবজগতের কল্যানের পথের হদিশ দেয়।আর ঠিক এই কারনেই প্রয়োজন সনাতন ধর্মের সংস্কার ও ও ঐতিহ্যগুলো রক্ষা করা।

মোদ্দা কথা হলো একজন মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য আত্মদর্শন ও আত্মানুভূতি লাভ।এক কথায় নিজেকে জানা আর নিজের আত্মিক উন্নতি সাধন করা।ব্যাস আর কিছুই না।যে পর্যায়ে মানুষ এই অনুভূতি লাভের উপযোগী হয়ে উঠবে সেদিন ই তার ইশ্বর দর্শনের মূল অর্থ বোধগম্য হবে।

এই কারনের জন্য ই সনাতন ধর্মের সংস্কৃতি ঐতিহ্য রক্ষা সকল মানব জাতির একমাত্র কর্তব্য। 

অ সনাতনীরা সনাতনীদের এই মূল বিচার্য্য বিষয়ের সাথে দ্বিমত হতে পারে নিজেদের যুক্তিকে আর পথকে শ্রেষ্ঠ প্রমানের জন্য,কিন্তু শেষ পর্যায়ে অসনাতনীদের ও জীবনের  চুড়ান্ত প্রাপ্তি লাভের জন্য সনাতনী চিন্তা ধারার সাথে একাত্ম হতেই হবে।

সহজ কথায় বলা যায় ইশ্বর হলেন এক অনুভূতি আর তাঁর  দর্শন মনের পূর্ণ স্থিরতা ছাড়া লাভ করা সম্ভব নয়।আর মানব জীবনের চরম লক্ষ্যের প্রাপ্তির জন্য সংস্কার, নিয়মানুবর্তিতা, ঐতিহ্য হলো সেই চরম লক্ষ্য প্রাপ্তির সিড়ি তথা ধাপ তথা পর্যায় সমূহ।তাই গন্তব্যে পৌঁছতে গেলে পথ কে সংরক্ষন ও দূষন মূক্ত না রাখতে পারলে পথ হবে অপরিস্কার ও চলাচলের অনুপোযোগী। তাই জগতের কল্যাণের তথা সমগ্র বিশ্বের কল্যাণের জন্য সনাতন ধর্মের এই পথকে পরিস্কার আর সুরক্ষিত না রাখতে পারলে সমগ্র জীবজগত ই অস্তিত্ব সঙ্কটের  মুখোমুখি এসে দাঁড়াবে।এটাই চিরন্তন সত্য।



✍ P.B.

No comments:

Post a Comment

T.S. কনকা আর্মি নিউরো সার্জেন

 সাল ১৯৬২। ভারত-চীন যুদ্ধ চলছে। সীমান্তে আহত জওয়ানদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আছে। সেই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরে যোগ দিলেন ...