Saturday, 22 October 2022

ভূত চতুর্দশী

 ভূত.চতুর্দশী

 বাংলা ৫ ই কাত্তিক ১৪২৯,

      ইংরাজি ২৩শে অক্টোবর ২০২২

 *ভূত চতুর্দশীর প্রকৃত অর্থ কী তা বোঝার জন্য* 

ভূত চতুর্দশী  একটি বাঙালি হিন্দু উৎসব। হিন্দু শকাব্দ অনুসারে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীর দিন অর্থাৎ দীপান্বিতা কালী পূজার আগের দিন ভূত চতুর্দশী পালন করা হয়।এই একই দিনে উত্তর ভারতে  নরক চতুর্দশী বলে অপর একটি হিন্দু উৎসবও পালিত হয়।এই দিন বাঙ্গালী গৃহস্থের বাড়িতে চৌদ্দটি প্রদীপ জ্বালানো, চৌদ্দ রকম শাক একত্রে রান্না করে অন্নের সাথে খাওয়া ও এ দিন ছেলেদের কপালের ডানে আর মেয়েদের কপালের বায়ে ঘি-তুলসীপাতা- কাজল ধারণের প্রথা রয়েছে।

                

ভূত চতুর্দশীর আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা হল এরকম। ভূত বলতে আমাদের ধরতে হবে পঞ্চমহাভূত। অর্থাৎ ক্ষিতি-অপ-তেজ-মরুৎ-ব্যোমকে। লক্ষ্যণীয়, কার্তিক মাসের এই চতুর্দশী তিথিতে যে চোদ্দটি প্রদীপ আমরা দিচ্ছি, সেটাও এই পঞ্চভূতের উপাদানেই তৈরি। ঠিক যেমন আমাদের এই শরীর। মাটি দিয়ে তৈরি হল প্রদীপের কায়া, জলে তা আকার নিল, আগুনে তা হয়ে উঠল প্রাণবন্ত, হাওয়া তাকে দিল আলোকময়তা এবং মহাশূন্য জেগে রইল তার খোলে। বিশ্বাস, এই চোদ্দটি প্রদীপের আলো অশুভ শক্তিকে দূরে রাখে।

               

 কথিত আছে, অমাবস্যার রাতের অন্ধকারে মর্ত্যে নেমে আসেন। 

মাতা  চামুণ্ডারূপী  কালি, চৌদ্দ ভূত দিয়ে অশুভ শক্তিকে ভক্তবাড়ি থেকে তাড়ানোর জন্যে মা কালী নেমে আসেন মর্ত্যে।

 যার জন্য এদিনে নিয়ম ছিল ১৪ রকমের শাক খাওয়ার এবং বিকেলে অন্ধকার সরিয়ে আলোয় বাড়ি আলোকিত করতে ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর রেওয়াজ ছিল এবং আজও আছে। 


পুরাণে বলা রয়েছে...

       সত্যভামার পরামর্শে মহারথী শ্রীকৃষ্ণ নরককে বধ করেন। দ্বারকায় শুরু হয় খুশির উৎসব। দ্বারকাবাসীরা সারারাত প্রদীপ জ্বালিয়ে কৃষ্ণের মঙ্গলকামনা এবং জয়ের আনন্দ উপভোগ করেন। যার জন্য ভূত চতুর্দশী নরক চতুর্দশী নামেও খ্যাত।

               

  তবে এর পৌরাণিক গল্পটিও বেশ মজাদার। বিষ্ণুপুরাণ থেকে জানা যায়, পৌরাণিক সময়ে স্বর্গ মর্ত্য পাতালের অধিপতি ছিলেন রাজা বলি। তিনি এতটাই শক্তিশালী ছিলেন যে যুদ্ধে দেবরাজ ইন্দ্রকেও পরাস্ত করেছিলেন। তবে শিবভক্ত, দানশীল ও পরাক্রমী রাজা বলি কিন্তু বিষ্ণুর উপাসক ছিলেন না। তবে দেবতারা বলির পরাক্রমে অস্থির হয়ে বিষ্ণুর শরণাপন্ন হলেন। তিনি বলিকে জব্দ করতে বামন অবতার নিয়ে হাজির হলেন রাজা বলির কাছে।

  ভগবান বিষ্ণু বামন অবতার রূপে বলির কাছে তিন পাদ জমি চাইলেন। সব জেনেবুঝেও রাজা বলি তা দিতে সম্মত হলেন। বামন অবতার তখন তাঁর এক পা রাখলেন স্বর্গে, অন্য পা মর্ত্যে। উদর থেকে বেরিয়ে এল তৃতীয় পদ। বিষ্ণুভক্ত প্রহ্লাদের পৌত্র বলি সেই চরণ মস্তকে ধারণ করলেন। ফলে তাঁর স্থান হল রসাতল বা পাতালে। কারণ মহাবলি রাজা বলি মৃত্যুহীন প্রাণ। তিনি সপ্ত চিরজীবীর অন্যতম। বাকি ছয় জন হলেন ব্যাসদেব, অশ্বত্থামা, কৃপাচার্য, পরশুরাম, হনুমান ও বিভীষণ। ভূত চতুর্দশীর রাতে শিবভক্ত বলি মর্ত্যে আসেন পূজা নিতে। সঙ্গে আসেন তাঁর অনুচর ভূতরা।

              *i.নিয়মসম্পাদনা.il*

এক্ষেত্রে ভূত শব্দটি কিন্তু যথেষ্ট কৌতুহলব্যঞ্জক। অনেকের ধারণা বা বিশ্বাস ভুত চতুর্দশীর দিন আদাড়-বাদাড়, বেলগাছ, শেওড়াগাছ, বনঝোপ থেকে দলে দলে বেরিয়ে পড়ে রাশি রাশি ভুত বেড়িয়ে পড়ে। 

এই সব ভূতেদের ভয়ে ভূত চতুর্দশীর দিনে বাড়ির অন্ধকার কোনায় কোনায় জ্বেলে দেওয়া হয় চোদ্দো প্রদীপ। কিন্তু এখানে ভূত মানে অতীত। এই দিনটিতে বাঙালিরা চৌদ্দ শাক খেয়ে চৌদ্দপুরুষকে স্মরণ করেন। 

               

পুরাণ অনুযায়ী মনে করা হয়, এই দিন স্বর্গ ও নরকের দ্বার কিছু ক্ষণের জন্য উন্মোচিত হয়। একই সঙ্গে বিদেহী আত্মা এবং স্বর্গত ব্যক্তিরা নেমে আসেন পৃথিবীতে। প্রদীপের চিহ্ন দেখে নিজেদের উত্তর পুরুষের ভিটেয় পৌঁছে যান। তাঁদের আশীর্বাদ করেন। তাই ভূত চতুর্দশীর দিনে ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম রয়েছে।

🍁🌿 হিন্দু ধর্ম মতে মৃত্যুর মানব দেহ পঞ্চভূতে (ক্ষিতি-অপ-তেজ-মরুৎ-ব্যোম) বিলীন হয়ে পাঁচ উপাদানের মধ্যেই মিশে থাকেন। তাই প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করা ১৪ রকমের শাক মৃত ১৪ পুরুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। ১৪ শাক ধোয়ার পর সেই বাড়ির প্রতিটি কোনে ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রেত ও অশুভ শক্তি দূর করতে বাঙালি গৃহস্থরা এই দিন সন্ধেয় বাড়িতে চোদ্দ প্রদীপ জ্বালিয়ে থাকেন।

🍁🌿 বাংলার ঋতু প্রকোপ অন্য প্রদেশের থেকে বেশি হওয়ার জন্য আশ্বিন ও কার্ত্তিক মাস দুটিকে যমদংস্টা কাল বলা হত। এই সময় ওল, কেও, বেতো, কালকাসুন্দা, নিম, সরষে, শালিঞ্চা, জয়ন্তী, গুলঞ্চ, পলতা, ঘেঁটু, হিঞ্চে, শুষুনী, শেলু এই চৌদ্দটি শাক একত্রে খাওয়া হয়। বাংলার নব্য স্মৃতিশাস্ত্রকার রঘুনন্দন ভট্টাচার্য্য (১৬ শতাব্দী) তার অষ্টবিংশতি তত্ত্বের অন্যতম গ্রন্থ “কৃত্যতত্ত্বে” উল্লেখ করেছেন “নিৰ্ণয়া-মৃতের”     (একটি প্রাচীন স্মৃতির গ্রন্থ) অভিমত অনুসরণ করে..

"ওলং কেমুকবাস্তূকং, সার্ষপং নিম্বং জয়াং।

শালিঞ্চীং হিলমোচিকাঞ্চ পটুকং শেলুকং গুড়ূচীন্তথা।

ভণ্টাকীং সুনিষন্নকং শিবদিনে খাদন্তি যে মানবাঃ,

প্রেতত্বং ন চ যান্তি কার্ত্তিকদিনে কৃষ্ণে চ ভূতে তিথৌ।

               


ভূত চতুর্দশীর দিন বাংলার ঘরে ঘরে চোদ্দ শাক খাওয়ার রীতি।

🌈১) এদিন চৌদ্দ শাক খাওয়ার পাশাপাশি চৌদ্দ প্রদীপ দেওয়ার রীতিও রয়েছে। মূলত, এমন দিনে ইষ্ট দেবতা ছাড়াও পূর্ব পুরুষকে স্মরণ করে প্রদীপ দেওয়ার রীতি প্রচলিত। বাড়িতে যেন যমের ছায়া না পড়ে আর অলক্ষ্মীর বাস না হয়, তার জন্যই এমন রীতি প্রচলিত। মনে করা হয় প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানে মিশে থাকে দেহ। আর সেই প্রকৃতির ১৪ টি শাককে এক এক একটি পুরুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করে খাওয়ার রীতি পালিত হয়। শাস্ত্র মতে বলা হয়, এমন চতুর্দশী তিথিতে মা কালী নরকাসুরকে বধ করেছিলেন। সেই থেকে বহু জায়গায় এমন দিন নরক চতুর্দশী নামে পরিচিত।

২. শিব পুজো করুন*

 মনে করা হয় , ভূত চতুর্দশীর দিন যদি মহাদেবকে পুজো করা হয়, তাহলে নির্বাণ লাভ করা যায়। যা চাইবেন তাই এদিন পাওয়া যায়। মনে করা শিবপুজো করে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা যায় এদিন। ভূত চতুর্দশীর দিন যদি শিবের পুজো করা হয়,তাহলে নরক গমনের হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।

৩. ভূত চতুর্দশীর স্নান*

ভূত চতুর্দশীর দিন তেল, ফুল ও চন্দন মিশিয়ে একটি  পাচন  বানিয়ে তা মেখে স্নান করলে বহু অশান্তি কেটে যায়। এদিন ইষ্টদেবতার উদ্দেশ্যে চালের গুঁড়ো, তিলের গুঁড়ো, ঘি ও চিনি দিয়ে পুজো করলে মনের ইচ্ছাও পূরণ হয় বলে দাবি করেন,  তিলের তেল যদি স্নানের আগে এই দিনে মেখে নেওয়া যায়, তারপর স্নান করা যায়, তাহলে তা খুবই সুফল দিতে পারে। এদিন স্নানের জলে তুলসী পাতা ফেলে দিলে তা কার্যকরী ফল দেবে বলে মনে করেন অনেকে

*৪. কোন রঙের পোশাক পরা উচিত?*

ভূত চতুর্দশীর দিন কোনও মতেই কালো রঙের পোশাক পরতে নিষেধ করছেন শাস্ত্রজ্ঞরা। তাঁদের মতে এমন দিনে রঙিন পোশাক পরা উচিত।

*৫. ঘর পরিষ্কার রাখুন*

এদিন ঘরে কোনও নোংরা রাখা উচিত নয়। ঘর রাখতে হবে ঝকঝকে, তকতকে। তবে সার্বিক সুফল মিলবে।

*৬. ভাঙা বাসন সরিয়ে ফেলুন*

বাড়িতে ভাঙা জিনিস, বাসন পত্র থাকলে তাও সরিয়ে ফেলা উচিত বলে পরামর্শ দেন অনেক

*৭. দরজায় দুটি প্রদীপ জ্বালান*

 ঘরের বাইরে এই দিনে সদর দরজার কাছে দুটি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখলে তা ভাল ফল দেয়।

 যমের প্রতি প্রদীপ সমস্ত ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়ার কাজ করে। ফলে বহু বাড়িতেই ভূত চতুর্দশীর রাতে যমের নামে প্রদীপ জ্বালানোর রীতি পালিত হয়। শাস্ত্র মতে মনে করা হয় এই কাজ করলে, তা শুভ ফল দেবে।

               

এক্ষেত্রে ভূত শব্দটি কিন্তু যথেষ্ট কৌতুহলব্যঞ্জক। অনেকের ধারণা বা বিশ্বাস ভুত চতুর্দশীর দিন আদাড়-বাদাড়, বেলগাছ, শেওড়াগাছ, বনঝোপ থেকে দলে দলে  রাশি রাশি ভুত বেড়িয়ে পড়ে। 

এই 

🍁🌿ভূত-পেত্নী, এককথায় অশরীরি আত্মা।

ভূত চতুর্দশীর রাতের ১৪ ভূতের নাম।

*১)ব্রহ্মদৈত্য, ২)পেত্নী, ৩)শাকচুন্নি, ৪)ডাইনী,*

*৫)স্কন্ধকাটা:  মাথাবিহীন ভূত,*

*৬)মেছোভূত:  মাছলোভী ভূত,*

*৭)পেঁচাপেঁচি: জোড়া ভূত,*

*৮)মামদো ভূত: ,৯)নিশি:  খুব ভয়ংকর ভূত,*

*১০)কাঁদরা-মা: অনেকটা নিশির মত,*

*১১)চোরাচুন্নি:  দুষ্ট ভূত। কোনো চোর মারা গেলে 'চোরাচুন্নি' ।*

*১২)কানাখোলা: গভীর নির্জন চরাচরে মানুষকে পেলে তার গন্তব্য ভুলিয়ে দিয়ে ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয়।*

*১৩)আলেয়া:  জলাভূমির ভুত (Alea)। এরা জেলেদেরকে বিভ্রান্ত করে।*

*১৪)দেও: এ ধরনের ভূত (Deo)নদীতে বা লেকে বসবাস করে। এরা লোকজনকে জলে ফেলে ডুবিয়ে মারে।*

জয়  মা🙏

Tuesday, 4 October 2022

দূর্গ্গা পূজো

 হৈ হৈ করে শুরু হয়ে গেল শারদীয়া দূর্গা পূজো। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মা দূর্গার মর্তলোকে আগমন ঘটলো।আবার সময়ের স্রোতের ধারার নিয়ম মেনে পূজোও হতে চললো সমাধা।বিসর্জনের করুণ সূর আর মায়ের নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তনের সাথে সাথেই আবার শুরু হলো প্রতীক্ষার শুরু।নষ্টালজিক জাতি বাঙালী।উৎসব মূখরতা ই এজাতির যেন হৃদস্পন্দনের এক আরক।পরম্পরায় উৎসব পালন এ জাতির আজকের নয় সুদীর্ঘকাল থেকে চলে আসা এক ঐতিহ্য।যদিও সংস্কার আর ঐতিহ্য এই জাতির ভেতর থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির দোরগড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে।তাতেও হুঁশ নেই এই জাতির।কারণ অনুকরণের অনুরনন আজ এজাতির মজ্জায় সমাহিত।সাথে দোসর সেকুলারিজিম নামক এক মারণ ব্যাধি আজ এই জাতিকে ধীরে ধীরে পুরোটাই গ্রাস করতে বসেছে।ঠিক ঠিকানা নেই ভবিষ্যতের।অতীতের থেকে শিক্ষা লাভ এ জাতির কাছে বাচালতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।তবু সই যদ্দিন এভাবে চলে চলুক।ফুটুস যখন হবে তখন না হয় অপরের ঘাড়ে দোষারোপ করে এজাতি নিজের আত্মশ্লাঘার কিছুটা না হয় উপশমের প্রচেষ্টা করবে।যাই হোক ধান ভানতে শিবের গাজন গেয়ে বোধহয় লাভ বেশী হবে না।তাই এবার মূল বিষয়ে যাওয়া যাক।

হিন্দু সনাতন ধর্মের বর্ণনা অনুযায়ী শরৎ কালে অকাল বোধন নিয়ে নানান মতবাদ মতভেদ রয়েছে।সেসব নিয়ে কচকচানি করতে তৈরিই হয়ে বসে আছেন সমাজের কেষ্টুবিষ্টু রা।কেউ করবে এই পূজো কে কেন্দ্র করে নিজেদের সেকুলারিত্বের উদারতার প্রমাণ জাহির।তো কেউ আবার তুচ্ছ তাচ্ছিল্য সহ যোগে এই পূজোকে নিয়ে নিজেদের খিল্লী প্রকাশ করবে।যাতে প্রমাণ পাবে নিজেদের ধর্মের প্রতি ভক্তির পূর্ণ পরিচয়। 

যাক গে স সব তো চলতেই থাকবে।কারণ যে সমাজ অবক্ষয় আর অনুকরণে আসক্ত সেই সমাজে এমন মৌরসীপাট্টা কারীদের মুন্সিয়ানা যে ধীরে ধীরে একটা সংস্কৃতিকে গয়া গঙ্গাঁ করার প্রচেষ্টা করবে সেটাই স্বাভাবিক।

যাই হোক চলুন আজ একটু অন্য বিচার ধারাতে এই পূজোর একটু বিশ্লেষণ করা যাক না হয়।যদিও এই বিশ্লেষণ পড়লে অনেকেই তেড়ে ফূঁড়ে উঠে বলতেই পারেন,এসব মামদোবাজী কোথায় পেলেন?এসব ধম্মে কোথায় আছে দেখান।না হলে ধম্মের নামে এমন বলদা মার্কা লেখা লিখে মানুষ কে বিভ্রান্ত করবেন না।

তা তাদের উদ্দ্যেশ্যে একটাই কথা বলার আছে।আর তা হলো ধর্ম কথাটির অর্থ আর পূজা কথাটির অর্থ আগে সঠিক অর্থ উদ্বার করে দিন সাধারণ মানুষের কাছে।তবেই মালুম হবে আপনাদের পান্ডিত্য।আমরা হলুম গিয়ে 

ক-অক্ষর গোমাংস শ্রেণীর মানুষ।আমাদের আর আপনাদের মাঝে তফাৎ যে থাকতেই হবে।

যাই হোক।আমার মত নিরক্ষর মানুষের মতে ধর্ম(ধ+র+ম)এই শব্দটির সহজ অর্থ হলো ধরনে রহিত মঙ্গলময়।অর্থাৎ যার ধারণে জগতের মঙ্গল হয়।এর পরে আসি "পূজা" এর অর্থ বিশ্লেষণে।আমার মত নিরক্ষরের কাছে পূজার অর্থ হলো(পূ+জা)পূর্ণ,জাগরন, অর্থাৎ মানব কূলের অন্তরের মনুষ্যতা পূরণের শর্ত গুলির অন্তর থেকে পূর্ণ জাগরিত করা।যার মাধ্যমে মানুষের অন্তরের রিপু সকলের দমন  হয়ে একজন মানুষের মনুষ্যত্ব লাভের পথের উন্মোচন ঘটে।

যাই হোক,পূজো ও ধর্ম এর সাথে অঙ্গাঙ্গিক ভাবে যেটা জড়িত থাকা সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন সেটি হলো অন্তর থেকে শ্রদ্ধা ও ভক্তি ভাব।মন ও মুখ যতক্ষণ না এক হচ্ছে ততক্ষণ কি পূজোর পূর্ণ শর্ত পূরণ হয়?এই নিয়ে যদি নিজের মধ্যে দ্বন্ধ উপস্থিত হয় তাহলে মন কে সংযত করে তার থেকে উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করতে পারেন।উত্তর পেলেও পেতে পারেন।কারণ পূজোর মূল উদ্দ্যেশ্য ই হল মনের স্থিরতা তৈরি করা আর সেটি মনন,চিন্তনের দ্বারাই।তাই হয়ত পূজোর পদ্ধতি ও আচার, আচরণ  দেখলে সহজ মনে হতেই পারে।কিন্তু বাস্তবে যখন ই দর্শক নিজেকে পূজোর যোগ্য করার প্রচেষ্টা করবেন, তখনই তিনি টের পাবেন বিষয়টির গুরুত্ব জীবনের সাথে কতটুকু অঙ্গাঙ্গিক ভাবে জড়িত।

এবার আসা যাক আরেকটি বিষয়ে।যেটি আমার মতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।অথচ এটির সম্বন্ধে আমরা বিশেষ ভাবে চিন্তাই করে দেখিনি কখনো।কারণ চোখের সামনে এমন ই অনেক জিনিস হাজারটা প্রতিনিয়ত ই ঘটে চলে।যাকে আমরা ধর্তব্যের মধ্যেই আনতে চাই না।কারণ হয়ত ওসব নিয়ে ভাবিও না আমরা।যাই হোক,চলুন এবার তেমন ই একটি বিষয় কে একটু নিজেদের বিচার বুদ্ধি দিয়ে চলুন একটু বিশ্লেষণ করে দেখি। সনাতন ধর্ম অনুসারে আমরা হিন্দুরা দেখে থাকি মাটির মৃন্ময়ীমূর্তি কে  প্রস্তুত অর্থাৎ গড়তে বাঁশ,খড়,মাটি প্রাথমিক উপাদান এবং এগুলি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে পরিগনিত হয়।এর পেছনে কারণ টা কি?এটা আমরা কতজন ভেবে দেখি?ওই যে বলা হলো অনেক সাধারণ বিষয় আমাদের চোখের সামনে থাকলেও আমরা সেগুলো নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে অবকাশ হয়ত পাই না।কারণ মূখ্য বিষয় থেকে আমরা সরে গিয়ে গৌন বিষয়ে মনোযোগ দিতেই হয়ত বেশী পছন্দ করি।মৃন্ময়ী মায়ের মূর্তি পূজো হবে।আর সেই পূজো উপলক্ষ্য করে আমরা বেশীর  ভাগ মানুষ ই ছুটি পাবো রোজকার কর্মব্যাস্ত জীবন থেকে।এটাই হয়ত আমাদের মূল চিন্তার জগত কে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলে।তাই হয়ত বাকি বিষয়গুলো আমরা চিন্তা করার সুযোগ পাই না। 

যাই হোক এবার না হয়।এই বিষয়টা নিয়ে একটু ভাবা যাক।

মূলত পূজোর আরেক অর্থ হলো শ্রদ্ধা প্রকাশ।অর্থাৎ পূজো করা মানেই শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো হয় পূজিতা/ পূজক  মূর্তিকে।সেই শর্ত অনুযায়ী সনাতন ধর্মের মূল যেখানে প্রকৃতি সেখানে প্রকৃতির সমস্ত কিছুকেই,

বিশেষ করে যে সকল প্রাকৃতিক বস্তু থেকে মানুষ উপকৃত হন জীবনের প্রতিটি পদে পদে,সেই সকল কেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজোর মাধ্যমে শ্রদ্ধা ও সম্মান ঞ্জাপন করে থাকেন। এই ক্ষেত্রে বাঁশ হলো ঠিক তেমন ই এক প্রাকৃতিক উদ্ভিদ।যা মানব জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত থাকে চিরকাল।কারণ আগেকার দিনে মানুষের জন্মের পরেই মানব শিশুকে তার জন্মদাত্রীর থেকে নাড়ী কাটতে বাঁশের কঞ্চিই ব্যাবহ্যার করা হত গ্রাম বাংলায়।শুধু নাড়ী কাটাই নয়।বাঁশ হলো  আগেকার দিনে মানুষের আচ্ছাদনের জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করত।মানুষ বাড়ী বাঁনাতে বাঁশের খুঁটি আর বাঁশের কঞ্চি কেটে বাঁশের চালাতে বাড়ীর ছাদের কাঠামো বানিয়ে নিত।আবার এই বাঁশের খাটুলিতে করেই মানুষের জীবনের শেষ যাত্রা সমাধা হতো।এমন কি আজো গ্রামাঞ্চলে বাঁশ ছাড়া অনেক মানুষের অন্তোষ্টি ক্রিয়া সমাধা হয় না।তাই বাঁশ কে সম্মান জানাতে তা দিয়ে দেব দেবীর প্রতিমার কাঠামো বানানো হয়ে থাকে।এরপর আসে খড়।আমরা সকলেই জানি গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র ই শস্যের ব্যাবহ্যার ছাড়া মানুষের জীবন অসম্পূর্ণ।আর গ্রামীন অর্থনীতি  তে ধান,গম বিশেষ গুরুত্ব রাখে।আবার এই শস্য দানা বের করে নেওয়ার পর ঔষধি গাছের যে অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকে,সেটি আগেকার দিনে মানুষের মাথার আচ্ছাদন হিসেবে ব্যাবহ্যার করা হতো।এমন কি আজো অনেক গ্রামেই মাটির বাড়ীতে খড়ের চালা বাড়ীও দেখা যায়।এর সাথে এই খড় আবার সমাজে প্রানীকূলের বিশেষ করে গৃহপালিত প্রাণী কূলের ক্ষুধা নিবৃত্তি করে থাকে।তাই যে ঔষধি গাছ সমাজে জীব কূলের উপকার করে তার পুরো জীবদ্দশাতে ও তার জীবদ্দশার পরেও,তাই সেই খড় অর্থাৎ জীবনের আরেক গুরুত্ব পূর্ণ উপকারী বস্তুটি কে দিয়ে বাঁশের কাঠামোর ওপর জড়িয়ে পূজ্য দেবদেবীর মূর্তির রুপ দান করে সেই ঔষধি গাছটিকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো হয়।এর পরে আসে মাটি।এক কথায় বলতে গেলে জীবজগতের জীবন মাটির অস্তিত্ব ছাড়া পুরোই অসম্পূর্ণ।কারণ জন্মের পর থেকে জীবনের অন্তিম যাত্রা পর্যন্ত মাটি ছাড়া জীবের জীবন অচল।তাই তো মাটির অন্য নাম মা।কারণ সন্তান মাকে ত্যাগ করলেও মা কখনো তাঁর সন্তান কে ত্যাগ করেন না।তাই সেই মাটি দিয়েই পূজ্য দেবদেবীর প্রতিকৃতি নির্মাণ করা হয়।তাই পূজোর জন্য  মূর্তি নির্মাণ করতে এই তিনটি বস্তুর অত্যন্ত প্রয়োজন হয়।এর পর আসে মূর্তিতে রং করা ও শিল্প কলার ছোঁয়া।যেহেতু সনাতন ধর্ম অনুসারে শিল্পচর্চা ১৬ কলার এক কলা তাই এই কলাকে ও পূজোর মাধ্যমে শ্রদ্ধা ভক্তি ও সম্মাণ প্রদান  করা হয়।

এর পরে আসা যাক।মা দশভূজার দশটি ভূজে( হস্ত)র বিষয়ে।যেহেতু সনাতন ধর্ম অনুসারে বিশ্বাস করা হয় দিক রয়েছে দশটি।তাই মা দূর্গ্গার দশটি হাতের অর্থ তিনি সকল জীব জগত কে দশদিক অর্থাৎ সমস্ত দিক থেকে রক্ষা করবেন সমস্ত অমঙ্গল থেকে। মায়ের ত্রিনয়নের অর্থ তিনটি স্বত্বার পরিচয়।স্বত্ব তম, রজঃ।মা ত্রিশূল ধারণ করেন এবং সিংহের ওপর অবস্থান করেন।আবার এই সিংহ মহিষের ওপর অবস্থান করে ।এর অর্থ হলো মা দূর্গতিনাশিনি তিনটি কালকে একত্রে হস্তে ধারণ করেন এবং তিন কালের মিলিত শক্তি দিয়েই তিনি কালের শত্রু তথা জগতের অমঙ্গলকামী অসুর নামক শক্তির বিনাশ করেন।মায়ের বাহন সিংহ হলো যা শৌর্ষ আর শ্রেষ্ঠ বীরতার প্রতীক সেই সিংহ মা দশভূজার বাহন হয় কারণ জগতের অমঙ্গল কামী শক্তিকে নাশ করতে গেলে সিংহের মত র্দ্যোদন্ড প্রতাপ রুপী শক্তির ওপরেই ত্রিকাল নিয়ন্তা আদি মাতাশক্তির অবস্থান প্রয়োজন। এর সাথে রয়েছে মা এর সাথে তাঁর চার সন্তান সন্ততির মূর্তি।যা জীবকূলের  একাধিক দিক রক্ষা করে আসেন।

মা দূর্গার সাথে কার্তিক,

গনেশ,মা লক্ষী'মা স্বরস্বতী পূজিতা হন?

মা দূর্গা হলেন আমাদের জীবনের দশটি দিক কে সুরক্ষিত রাখবেন।মা লক্ষী মানব কূলের সম্পদ আর অন্নের সমস্ত দিক সুরক্ষিত রাখেন।মানে তিনি জীবজগতের অন্নের সমস্ত দিক সুরক্ষিত রাখেন তাই তাঁকে বন্দনা করা হয়।

মা স্বরস্বতী ।তাঁর শিক্ষা ছাড়া মানব জীবন অসম্পূর্ন তাই তাকে বন্দনা করতে হয়🙏

গনপতি।তার বুদ্ধি।তাঁর সিদ্ধি ছাড়া মানব  কূলের জীবন অসম্পূর্ন।

দেব সেনাপতি।কার্তিকেয়।যার সমর ছাড়া জীব জগতের সূর অসুরের মানব জীবনের সঠিক মূল্যায়ন  সম্ভব নয়।

ইঁদুর।যে মানব কূলের খাদ্য সূরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম।ময়ূর।যে মানব কূলের সাপরুপী অহং মদমত্ততা কে বিনাশ ঘটায়।

পেঁচক।

যে মানব কূলের নিশি( রাত্রি) অর্থাৎ যখন জীব কূলের  সমস্ত স্বত্বা নিস্ক্রিয় থাকে, তখন জীবকূলের সেই স্বত্বা কে বিনাশ করে।।

এদের সহযোগিতা ছাড়া জীব কূলের পূর্ণতা অসম্ভব।তাই দশপ্রহরনী মাদূর্গ্গাকে দূর্গোৎসবে সনাতনীরা আরাধনা করে থাকেন।


🙏
P.B.

T.S. কনকা আর্মি নিউরো সার্জেন

 সাল ১৯৬২। ভারত-চীন যুদ্ধ চলছে। সীমান্তে আহত জওয়ানদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আছে। সেই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরে যোগ দিলেন ...