Friday, 11 October 2024

শাস্ত্রের কিছু কথা।

1) পিতৃপক্ষ।

   পিতৃপক্ষ ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা থেকে শুরু হয় এবং আশ্বিন মাসের অমাবস্যা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মহালয়ার দিন পিতৃপক্ষের অবসান হয়ে, শুরু হবে দেবীপক্ষ। পিতৃ পক্ষে পূর্ব পুরুষদের স্মরণ করে, তাঁদের আত্মার শান্তির জন্য শ্রাদ্ধ করা হয়। হরিদ্বার, গয়া,পুষ্কর ও প্রভাস(সোমনাথ) ইত্যাদি স্থানে পিণ্ডদান করলে পূর্বপুরুষরা প্রসন্ন হন এবং তৃপ্তিলাভ করেন। এই এক পক্ষকালকে তাই পিতৃপক্ষ বলা হয়।

    

      হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, জীবিত ব্যক্তির পূর্বের তিন পুরুষ পর্যন্ত পিতৃলোকে বাস করেন। এই লোক স্বর্গ ও মর্ত্যের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। পিতৃলোকের শাসক মৃত্যুদেবতা যম। তিনিই সদ্যমৃত ব্যক্তির আত্মাকে মর্ত্য থেকে পিতৃলোকে নিয়ে যান। পরবর্তী প্রজন্মের একজনের মৃত্যু হলে পূর্ববর্তী প্রজন্মের একজন পিতৃলোক ছেড়ে স্বর্গে গমন করেন এবং পরমাত্মায় (ঈশ্বর) লীন হন এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে উঠে যান। এই কারণে, কেবলমাত্র জীবিত ব্যক্তির পূর্ববর্তী তিন প্রজন্মেরই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়ে থাকে; এবং এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

  হিন্দু মহাকাব্য (যা হিন্দুশাস্ত্রের মধ্যে ইতিহাস নামে পরিচিত) অনুযায়ী, সূর্য কন্যারাশিতে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষ সূচিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় পূর্বপুরুষগণ পিতৃ লোক পরিত্যাগ করে তাদের উত্তরপুরুষদের গৃহে অবস্থান করেন। এর পর সূর্য বৃশ্চিক রাশিতে প্রবেশ করলে, তারা পুনরায় পিতৃলোকে ফিরে যান। পিতৃ গণের অবস্থানের প্রথম পক্ষে হিন্দুদের পিতৃপুরুষগণের উদ্দেশ্যে তর্পণাদি করতে হয়।

মহাভারত অনুযায়ী, প্রসিদ্ধ দাতা কর্ণের মৃত্যু হলে তার আত্মা স্বর্গে গমন করলে, তাকে স্বর্ণ ও রত্ন খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়। কর্ণ ইন্দ্রকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে ইন্দ্র বলেন, কর্ণ সারা জীবন স্বর্ণই দান করেছেন, তিনি পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কোনোদিন খাদ্য প্রদান করেননি। তাই স্বর্গে তাকে স্বর্ণই খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। কর্ণ বলেন, তিনি যেহেতু তার পিতৃগণের সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না, তাই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে পিতৃগণকে স্বর্ণ প্রদান করেননি। এই কারণে কর্ণকে ষোলো দিনের জন্য মর্ত্যে গিয়ে পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই পক্ষই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়। এই কাহিনির কোনো কোনো পাঠান্তরে, ইন্দ্রের বদলে যমকে দেখা যায়।

 মহালয়া পক্ষের পনেরোটি তিথির নাম হল প্রতিপদ, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, একাদশী, দ্বাদশী, ত্রয়োদশী, চতুর্দশী ও অমাবস্যা। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি তর্পণে ইচ্ছুক হন, তাকে তার পিতার মৃত্যুর তিথিতে তর্পণ করতে হয়।

 গুরুত্বঃ------

পিতৃপক্ষে পুত্র কর্তৃক শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হিন্দুধর্মে অবশ্য করণীয় একটি অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের ফলেই মৃতের আত্মা স্বর্গে প্রবেশাধিকার পান। এই প্রসঙ্গে গরুড় পুরাণ গ্রন্থে বলা হয়েছে, "পুত্র বিনা মুক্তি নাই।"ধর্মগ্রন্থে গৃহস্থদের দেব, ভূত ও অতিথিদের সঙ্গে পিতৃ তর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।[১] মার্কণ্ডেয় পুরাণ গ্রন্থে বলা হয়েছে, পিতৃগণ শ্রাদ্ধে তুষ্ট হলে স্বাস্থ্য, ধন, জ্ঞান ও দীর্ঘায়ু এবং পরিশেষে উত্তরপুরুষকে স্বর্গ ও মোক্ষ প্রদান করেন।

 বাৎসরিক শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যাঁরা অপারগ, তারা সর্বপিতৃ অমাবস্যা পালন করে পিতৃদায় থেকে মুক্ত হতে পারেন। শর্মার মতে, শ্রাদ্ধ বংশের প্রধান ধর্মানুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে পূর্ববর্তী তিন পুরুষের উদ্দেশ্যে পিণ্ড ও জল প্রদান করা হয়, তাদের নাম উচ্চারণ করা হয় এবং গোত্রের পিতাকে স্মরণ করা হয়। এই কারণে একজন ব্যক্তির পক্ষে বংশের ছয় প্রজন্মের নাম স্মরণ রাখা সম্ভব হয় এবং এর ফলে বংশের বন্ধন দৃঢ় হয়।।

   কিভাবে_পালন_করবেন_পিতৃপক্ষ :-*

১) যদি বৃষ্টি না হয় বা আকাশ যদি মেঘলা না থাকে তাহলে প্রতিদিন তর্পন করার চেষ্টা করবেন।

২) অনাথ শিশু ও গরীব দুঃখীদের ভোজন করা ও সাধ্যনুযায়ী কিছু দান করার চেষ্টা করবেন। 

৩) বাড়িতে যদি কখনো অপরিচিত কেউ এসে ভিক্ষা চাই বা ভোজনের কথা বলে তাহলে না করবেন না। ( ধর্মনুযায়ী অতিথি নারায়ন ) 

৪) ব্রাহ্মণ ও বৈষ্ণবদের দান করবেন।( সাধ্যমতো )

৫) যেকোনো পশুহত্যা থেকে বিরত থাকবেন।

৬) যেকোনো সেলাই কাজ থেকে বিরত থাকবেন। ( কর্ম হলে অন্য কথা ) 

আর সবসময় ভগবানের নাম নেবেন,ও প্রাথর্না করবেন। যেন আপনার পূর্বপুরুষের যেন মোক্ষ লাভ হয়।

2:- তর্পণঃ- 

হিন্দুশাস্ত্রে_তর্পণ_কি?

তর্পণ হল ধর্ম অনুযায়ী “ জলের দ্বারা কৃত পিতৃপুরুষ এবং দেবতাদের তৃপ্তি বিধায়ক একটি অনুষ্ঠান”, একে অনেকে পিতৃযজ্ঞও বলে থাকেন। এই যজ্ঞ অনুষ্ঠানে ব্রহ্মা, বিষ্ণু,শিব প্রমুখ দেবতা, সনক-সনন্দ প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সপ্তর্ষি, চতুর্দশ যম ও দ্বাদশ পূর্বপুরুষ (পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ, মাতামহ, প্রমাতামহ, বৃদ্ধপ্রমাতামহ, মাতা, পিতামহী, প্রপিতামহী, মাতামহী, প্রমাতামহী ও বৃদ্ধপ্রমাতামহী) এবং ত্রিভুবনের উদ্দেশ্যে জল দেওয়া হয়। পিতৃপক্ষের সময় তিলতর্পণ অনুষ্ঠিত হয়, অর্থাৎ তিল-মেশানো জলে তর্পণ হয়। তর্পণ শাস্ত্রমতে নিত্যকর্তব্য, তবে আজকের এই জেট যুগে রোজ বাপ-ঠাকুরদাদের স্মরণ করা সম্ভব হয় না বলে, লোকে পিতৃপক্ষে এবং বিশেষ করে - সর্বপিতৃ অমাবস্যায় (যে দিনটিকে আমরা ‘মহালয়া’ বলে থাকি) তিলতর্পণ করেই পিতৃকৃত্য সেরে থাকে।

  তর্পণ মানে খুশি করা। ভগবান শ্রীরাম লঙ্কাবিজয়ের আগে এই দিনে এমনই করেছিলেন। সেই অনুসারে এই মহালয়া তিথিতে প্রয়াত পূর্বপুরুষকে স্মরণ করে, তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করা হয়।

  এই সম্পর্কে একটি সুন্দর গল্প আছে –

     মহাভারতের যুদ্ধের সময়ে মহাবীর কর্ণের আত্মা স্বর্গে গেলে খাবারের পরিবর্তে তাঁকে শুধু খেতে দেওয়া হল সোনা, আর অনেকরকমের ধনরত্ন। কর্ণ অবাক হয়ে এর কারন জিজ্ঞেস করেন ইন্দ্রকে (মতান্তরে যমরাজকে)। তখন ইন্দ্র তাঁকে বললেন – দেখ বাপু তুমি তো সারাজীবন শুধু সোনাদানা মানে ধনরত্ন বিলিয়েছ, পিতৃ পুরুষকে জল দাওনি, তাই তোমার জন্যে এই ব্যবস্থা। তখন মহাবীর কর্ণ বললেন – “এতে আমার কি দোষ? আমি তো আমার প্রকৃত পিতৃ পুরুষের কথা জানতে পারলাম এই সেদিন। 

এর আগে তো অধিরথকেই নিজের পিতা বলে জানতাম। যুদ্ধ শুরুর আগেরদিন রাতে মাতা কুন্তী এসে বললেন আমি নাকি তাঁর ছেলে, শ্রীকৃষ্ণও তাঁহাই বললেন। পরবর্তী কালে যুদ্ধে নিজের ভাইয়ের হাতেই মরতে হল, পিতৃ তর্পণের আর সুযোগ বা সময় পেলাম কই? ইন্দ্র বুঝতে পারলেন এতে কর্ণের কোন দোষ নেই। তাই তিনি কর্ণকে পনেরো দিনের জন্যে মর্ত্যলোকে ফিরে জাবার অনুমতি দিলেন আর বললেন এই এক পক্ষকাল তিনি যেন মর্ত্যলোকে অবস্থান করে পিতৃ পুরুষকে জল দেন, এতেই তাঁর পাপস্খালন হবে।

   যে পক্ষকাল কর্ণ মর্ত্যে এসে পিতৃপুরুষকে জল দিলেন সেই পক্ষটি পরিচিত হল পিতৃপক্ষ নামে। সূর্য কন্যারাশিতে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষের সূচনা হয়। হিন্দু মতে, এই সময় আমাদের স্বর্গত পিতৃপুরুষগণ স্বর্গলোক ছেড়ে নেমে আসেন মর্ত্যলোকে, এই সময় প্রথম পক্ষেই হিন্দুদের পিতৃতর্পণ করতে হয়। মহালয়া পক্ষের পনেরোটি তিথির নাম হল প্রতিপদ, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, একাদশী, দ্বাদশী, ত্রয়োদশী, চতুর্দশী ও অমাবস্যা। 

3)  নবরাত্র_ব্রত_ব্যাখ্যা

মহালয়া মানে পিতৃপক্ষের অবসান দেবী পক্ষের শুরু

 দেবী মহামায়ার আগমন আসন্ন বোঝায়।

   নবরাত্র ব্রত আশ্বিনের শুক্লা প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত। মা দুর্গা এই সময় অর্থাৎ আশ্বিনের শুক্লা প্রতিপদ তিথি থেকে নবমী অবধি মোট ন'দিন নয়টি রূপ ধারণ করেন। পিতামহ ব্রহ্মা দেবীর এই নয়টি রূপের নামকরণ করেছিলেন। নয়টি নামের নয়টি বৈচিত্রময় রূপভেদ। এঁরা প্রত্যেকেই দেবীর নয়টি কায়াব্যূহ মূর্তি। নবদুর্গা নামে এঁরা বিশেষ পরিচিত। শ্রীশ্রী চন্ডীতে এই নয়টি নামের উল্লেখ আছে।

 নবদুর্গার_এই_নয়টি_নাম। দেবী_শৈলপুত্রী   ( পর্বতের কন্যা)

দেবী_ব্রহ্মচারিণী, (যিনি ব্রহ্মাকে স্বয়ং

 জ্ঞান দান করেন, ভক্তকেও ইনি ব্রহ্মপ্রাপ্তি করান )

 দেবী_চন্দ্রঘন্টা :- ( দেবীদুর্গার মহিষাসুর 

বধের জন্য দেবরাজ ইন্দ্রের প্রদত্ত ঘন্টা যার মধ্যে গজরাজ ঐরাবতের মহাশক্তি নিহিত ছিল, চন্দ্রের চেয়েও লাবণ্যবতী ইনি )

দেবী_কুষ্মান্ডা   :-( উষ্মার অর্থ তাপ । দুর্বিষহ ত্রিতাপ হল কুষ্মা। আর যিনি এই ত্রিতাপ নিজের উদরে বা অন্ডে ধারণ করেন অর্থাৎ সমগ্র সংসার ভক্ষণ করেন ইনি )

 দেবী_স্কন্দমাতা,  ( দেব সেনাপতি কার্তিকেয় বা স্কন্দের মা )

দেবী_কাত্যায়নী, ( কাত্যায়ন ঋষির আশ্রমে দেবকার্যের জন্য আবির্ভূতা ইনি বৃন্দাবনে দেবী গোপবালা রূপে পূজিতা। ব্রজের গোপবালারা এই কাত্যায়নীর কাছে প্রার্থণা করেছিলেন নন্দের নন্দন শ্রীকৃষ্ণকে পতিরূপে পাওয়ার জন্য তাই ব্রজের দুর্গার নাম কাত্যায়নী )

 দেবী_কালরাত্রি, ( ঋগ্বেদের রাত্রিসুক্তে পরমাত্মাই রাত্রিদেবী। মহাপ্রলয়কালে এই রাত্রিরূপিণী মাতার কোলেই বিলয় হয় বিশ্বের।অনন্ত মহাকাশে নৃত্যরত কালভৈরবের দেহ থেকেই আবির্ভূতা ইনি দেবী যোগনিদ্রা মহাকালিকা বা কালরাত্রি নামে আখ্যাত )

মহাগৌরী (তিনি সন্তানবত্সলা, শিবসোহাগিনী, বিদ্যুদ্বর্ণা মা দুর্গার প্রসন্ন মূর্তি) এবং

 দেবী_মহাগৌরী, : নবরাত্রির অষ্টম রাতে দেবীর রূপ মহাগৌরি।দুর্গা নাকি আসলে কৃষ্ণবর্ণা | মহাদেব যখন গঙ্গাজল দিয়ে তাঁকে স্নান করান, তখন তিনি হয়ে ওঠেন গৌরবর্ণা | তাঁর নাম হয় মহাগৌরী | প্রচলিত বিশ্বাস, নবরাত্রির অষ্টম রাতে তাঁর পুজো করলে সব পাপ ধুয়ে যায় | সাদা পোশাক পরিহিতা, চার হাত বিশিষ্টা দেবীর বাহন ষাঁড় ।

দেবী_ সিদ্ধিদাত্রী*   :-( অপরূপ লাবণ্যময়ী চতুর্ভুজা, ত্রিনয়নী, প্রাতঃসূর্যের মত রঞ্জিতা যোগমায়া মাহেশ্বরী ইনি সকল কাজে সিদ্ধি প্রদান করেন )

শ্রীশ্রীচন্ডীর দেবীকবচ অধ্যায়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্লোকে নবদুর্গার উল্লেখ আছে।  

প্রথমং শৈলপুত্রীতি দ্বিতীয়ং ব্রহ্মচারিণী।

তৃতীয়ং চন্দ্রঘন্টেতি কুষ্মান্ডেতি চতুর্থকম্‌।।

পঞ্চমং স্কন্দমাতেতি ষষ্ঠং কাত্যায়নী তথা।

সপ্তমং কালরাত্রীতি মহাগৌরীতি চাষ্টমম্‌।।

নবমং সিদ্ধিদাত্রী চ নবদুর্গা প্রকীর্তিতাঃ।

উক্তোন্যেতানি নামানি ব্রহ্মনৈবমহাত্মানা।।

শ্রীশ্রীচন্ডীতেই প্রথম মহিষাসুরমর্দ্দিণী মাদুর্গার নয়টি রূপের বর্ণনা ও মহিমা প্রকাশিত।

4)  দেবি_মহামায়ার_দশমহাবিদ্যা।  

   দশমহাবিদ্যা  কালী, তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলা, মাতঙ্গী, কমলা।

 পণ্ডিতেরা বলেন, মা কালীর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ঋকবেদের দেবীসূক্তে। শাক্তরা ঈশ্বরকে যে প্রকৃতি ও পুরুষ রূপে কল্পনা করেন, সেই প্রকৃতিই কালী। যিনি সৃষ্টি করেন, বিনাশও করেন। নারীসত্ত্বা বা দেবীসত্ত্বাকে কেন্দ্র করে যে একাধিক ধর্ম গ্রন্থ রচিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল দেবীভাগবত পুরাণ, যা শাক্তদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ। মহাবিদ্যা শব্দকে বিশ্লেষণ করলে পাই মহা’ অর্থাৎ মহান, ‘বিদ্যা’ অর্থাৎ রূপ বা প্রকাশ। ‘মহাবিদ্যা’ অর্থাৎ বিশেষ রূপ বা প্রকাশ।

 নারায়ণের দশ অবতার যেমন সৃষ্টির বিভিন্ন পর্যায়ে বিষ্ণুর আত্মপ্রকাশ তেমনই শক্তির দশটি রূপের প্রত্যেকটিই নারায়ণের ওই অবতারগুলির নারীরূপ।

শক্তির এই দশ মহাবিদ্যা রূপ ধারণের পিছনে রয়েছে এক পৌরাণিক কাহিনী। শিব ও সতীর বিবাহে মত ছিল না দক্ষ রাজার। তিনি শিবকে অপমান করার জন্য এক যজ্ঞের আয়োজন করলেন। সেখানে সমস্ত দেবতাদের আমন্ত্রণ করা হলেও ডাক পেলেন না শিব ও সতী। এদিকে নারদের মুখে সেই বৃহৎ যজ্ঞের আয়োজনের কথা শুনে সতী বাপের বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরলেন। কিন্তু শিবও না ছোড় । তিনি বিনা আমন্ত্রণে সতীকে বাপের বাড়ি যেতে দেবেন না, কারণ তিনি জানেন সেখানে গেলে দক্ষরাজা কটুকথা শোনাবেন যাতে সতী অপমানিত হবেন।

সতী যখন দেখলেন শিব কিছুতেই তাঁকে যেতে দিতে রাজি নন তখন তিনি তৃতীয় নয়ন থেকে আগুন বের করে কালী রূপ ধারণ করলেন। এই হল প্রথম মহাবিদ্যা। সতীর ভয়ঙ্কর রূপ দেখে শিব এক একবার এক একদিকে পালাতে লাগলেন আর সতী প্রতিবার নতুনরূপে শিবকে ভয় দেখিয়ে বাপের বাড়ী যাবার অনুমতি আদায়ের চেষ্টা করলেন। এইভাবে সতী একে একে দশটি রূপে নিজের রূপের প্রকাশ মেলে ধরলেন শিবের কাছে।অবশেষে শিবের অনুমতি পাওয়া গেল। সতীর এই দশটি রূপই হল দশমহাবিদ্যা।

মহারাজ যুধিষ্ঠির বললেন---হে মধুসূদন! আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশীর নাম কি তা কৃপা করে আমাকে বলুন। 

শ্রীকৃষ্ণ বললেন--হে রাজন! আশ্বিন মাসের একাদশী 'ইন্দিরা' নামে পরিচিত। এই ব্রত পালনে মহাপাপ বিনষ্ট হয়। এমনকি কর্মবিপাকে যারা নিম্নযোনি লাভ করেছেন, সেই পূর্বপুরুষদেরও উত্তম গতি লাভ হয়। এই একাদশীর মাহাত্ম্য শোনামাত্রেই সামবেদীয় যজ্ঞ ফল লাভ করা যায়। 

হে রাজন! মাহিস্মতি নগরে ইন্দ্রসেন নামে এক প্রসিদ্ধ রাজা ছিলেন। ধর্ম বিধি অনুসারে রাজ্য পালনে তিনি বিশেষ খ্যাতি সম্পন্ন ছিলেন। তার বিপুল ধনসম্পত্তি ছিল। পুত্র পৌত্রাদিসহ তিনি সুখে রাজ্য পরিচালনা করতেন। বিষ্ণু ভক্তি পরায়ন সেই রাজা নিরন্তর শ্রী গোবিন্দ নাম গানে মগ্ন থাকতেন। একদিন রাজা সুখে রাজসভায় বসে আছেন। এমন সময় দেবর্ষি নারদ স্বর্গ থেকে সেখানে এলেন। তাঁকে দর্শন করে রাজা হাত জোড় করে উঠে দাঁড়ালেন। দন্ডবৎ প্রণাম করে মুনিকে আসন, পাদ্য, অর্ঘ্য আদি ষোড়শোপচারে পূজা নিবেদন করলেন। তারপর বললেন---হে মুনিবর! আপনার দর্শন মাত্রই আমার যাবতীয় যজ্ঞ ফল লাভ হয়েছে। এখন আপনার আগমনের কারণ জানিয়ে আমাকে কৃতার্থ করুন।

দেবর্ষি নারদ বললেন---হে মহারাজ! অতি বিস্ময়কর এক কথা শ্রবণ করুন। আমি এক সময় যমলোকে গিয়েছিলাম। সেখানে যমরাজের রাজসভায়  বহু পুণ্যকারী আপনার পিতাকে দেখলাম। ব্রত ভঙ্গ পাপে তাকে সেখানে যেতে হয়েছে। হে রাজন! আপনার পিতা যে সংবাদ প্রেরণ করেছেন, আমি এখন তা আপনাকে বলছি।

তিনি বললেন ---হে ঋষিবর!  মাহিস্মতির ইন্দ্রসেন রাজা আমার পুত্র। তাকে বলবেন যে, আমি বহু পুণ্য অনুষ্ঠান করলেও কোনো কারণ বশত যমালয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি। আপনি কৃপা করে তাকে ভয় সর্বপাপ নাশক ইন্দিরা একাদশী পালন করতে বলবেন। সেই ব্রত প্রভাবে আমি নিষ্পাপ হয়ে স্বর্গ লোকে যেতে পারবো।' এই কথা জানাবার জন্যই আমার আগমন। হে রাজন! আপনার পিতার মঙ্গল বিধানে আপনি যথাবিধি ইন্দিরা একাদশী পালন করুন। 

রাজা জিজ্ঞাসা করলেন--হে দেবর্ষি! সেই ইন্দিরা একাদশীর বিধি কি, কোন তিথি বা কোন পক্ষে এই ব্রত পালন করা কর্তব্য তা কৃপা করে আমাকে বলুন। দেবর্ষি উত্তর দিলেন--- হে মহারাজ! আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের দশমীর দিনে শ্রদ্ধা সহকারে প্রাতঃস্নান করবেন, মধ্যাহ্নে ভক্তি ভাবাপন্ন হয়ে পুনরায় স্নান করবেন এবং রাত্রি কালে ভূমিতে শয়ন করবেন। পরদিন একাদশীতে  প্রাতঃকৃত্যাদি সমাপণ করে নিরাহারে থাকবেন। ব্রতের নিয়মাবলী দৃঢ়ভাবে পালন করবেন। 'হে পুন্ডরীকাক্ষ! হে অচ্যুত! এশরণাগতের প্রতি কৃপা করুন'। এই ভাবে শ্রদ্ধা সহকারে শালগ্রাম পূজা করে পিতার উদ্দেশ্যে ব্রতের ফল অর্পণ করবেন। দ্বাদশীর দিন সকালে ভক্তিভরে শ্রী গোবিন্দের পূজা করে ব্রাহ্মণ ভোজন করিয়ে অবশেষে নিজে মহাপ্রসাদ গ্রহণ করবেন। হে রাজন! বিধি অনুসারে শ্রী হরি এবং ভক্তদের অর্চন করলে আপনার পিতৃবর্গ মুক্তিলাভ করে শীঘ্রই বৈকুণ্ঠে গমন করবেন। রাজাকে এই উপদেশ দিয়ে দেবর্ষি নারদ প্রস্থান করলেন। রাজা ইন্দ্রসেন  মুনির উপদেশ অনুসারে পুত্র পরিজন সহ ভক্তি সহকারে এই ব্রতের অনুষ্ঠান করলেন। তখন দেবলোক থেকে পুষ্প বৃষ্টি হতে লাগল এবং তার পিতাও বিষ্ণুলোকে গমন করলেন। তারপর রাজা ইন্দ্রসেন নিজপুত্রকে রাজ্য ভার অর্পণ করে নিজেও বিষ্ণুলোকে ফিরে গেলেন। এই ইন্দিরা একাদশীর মাহাত্ম্য পাঠ ও শ্রবণে মানুষ সকল পাপ মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোক প্রাপ্ত হয়।

 

Sunday, 23 June 2024

ভারতের না জানা ইতিহাস


 ভারত বর্ষের প্রায় ৪ হাজার বছরের রাজত্ব


মহাভারতে উল্লেখিত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরবর্তী রাজাদের তালিকাঃ ইন্দ্রপ্রস্থের শেষ রাজা যশপাল। যুধিষ্ঠির থেকে যশপাল পর্যন্ত ১২৪ জন রাজা রাজত্ব করেছিলেন মোট ৪,১৭৫ বছর ৯ মাস ১৪ দিন। এরই মধ্যে রাজা যুধিষ্ঠির প্রভৃতি আনুমানিক ৩০ পুরুষ ১৭৭০ বছর ১১ মাস ১০ দিন রাজত্ব করে।

০১। রাজা যুধিষ্ঠির = ৩৬ বছর ৯ মাস ১৪ দিন।

০২। রাজা পরীক্ষিত = ৬০ বছর ৮ মাস ২৫ দিন।

০৩। রাজা জনমেজয় = ৮৪ বছর ৭ মাস ২৩ দিন।

০৪। রাজা অশ্বমেধ = ৮২ বছর ৮ মাস ৩২ দিন।

০৫। দ্বিতীয় রাম = ৮৮ বছর ২ মাস ৮ দিন।

০৬। ছত্রমল = ৮১ বছর ১১ মাস ২৭ দিন।

০৭। চিত্ররথ = ৭৫ বছর ৩ মাস ১৮ দিন।

০৮। দুষ্টশৈল্য = ৭৫ বছর ১০ মাস ২৪ দিন।

০৯। রাজাউগ্র সেন = ৭৮ বছর ৭ মাস ২১ দিন।

১০। শূরসেন = ৭৮ বছর ৭ মাস ২১ দিন।

১১। ভুবনপতি = ৬৯ বছর ৫ মাস ৫ দিন।

১২। রণজিৎ = ৬৫ বছর ১০ মাস ৪ দিন।

১৩। ঋক্ষক = ৬৪ বছর ৭ মাস ৪ দিন।

১৪। সুখদেব = ৬২-০-২৪

১৫। নরহরিদেব = ৫১-১০-০২

১৬। সুচিরথ = ৪২-১১-০২

১৭। শূরসেন (২য়) = ৫৮-১০-০৮

১৮। পর্বতসেন = ৫৫-০৮-১০

১৯। মেধাবী = ৫২-১০-১০

২০। সোনচীর = ৫০-০৮-২১

২১। ভীমদেব = ৪৭-০৯-২০

২২। নৃহরিদেব = ৪৫-১১-২৩

২৩। পূর্ণমল = ৪৪-০৮-০৭

২৪। করদবী = ৮৮-১০-০৮

২৫। অলংমিক = ৫০-১১-০৮

২৬। উদয়পাল = ৩৮-০৯-০

২৭। দুবনমল = ৪০-১০-২৬

২৮। দমাত = ৩২-০-০

২৯। ভীমপাল = ৫৮-০৫-০৮

৩০। ক্ষেমক = ৪৮-১১-২১

পাণ্ডু বংশের রাজত্ব এখানেই শেষ হয়ে যায়। রাজা ক্ষেমকের প্রধান মন্ত্রী বিশ্রবা ক্ষেমক রাজাকে নিহত করে সিংহাসন অধিকার করে ও পরবর্তীতে তাঁর ১৪ পুরুষ ৫০০ বছর ৩ মাস ১৭ দিন রাজত্ব করে।

১। বিশ্রবা = ১৭-০৩-২৯

২। পুরসেনী = ৪২-০৮-২১

৩। বীরসেনী = ৫২-১০-০৭

৪। ফবঙ্গশায়ী = ৪৭-০৮-২৩

৫। হরিজিৎ = ৩৫-০৯-১৭

৬। পরমসেনী = ৪৪-০২-২৩

৭। সুখপাতাল = ৩০-০২-২১

৮। কদ্রুত = ৪২-০৯-২৪

৯। সজ্জ = ৩২-০২-১৪

১০। ফমরচূড় = ২৭-০৩-১৬

১১। অমীপাল = ২২-১১-২৫

১২। দশরথ = ২৫-০৪-১২

১৩। বীরসাল = ৩১-০৮-১১

১৪। বীরসালসেন = ৪১-০০-১৪

রাজা বীরসাল সেনের প্রধান মন্ত্রী বীরমহা প্রধান তাঁহাকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করে। তাঁর বংশ ১৬ পুরুষ ৪৪৫ বৎসর ৫ মাস ৩ দিন রাজত্ব করে।

১। রাজা বীরমহা = ৩৫-১০-০৮

২। অজিত সিংহ = ২৭-০৭-১৯

৩। সর্বদত্ত = ২৮-০৩-১০

৪। ভুবনপতি = ১৫-০৪-১০

৫। বীরসেন (প্রথম) = ২১-০২-১৩

৬। মহীপাল = ৪০-০৮-০৭

৭। শত্রুশাল = ২৬-০৪-০৩

৮। সঙ্গরাজ = ১৭-০২-১০

৯। তেজপাল = ২৮-১১-১০

১০। মানিক চাঁদ = ৩৭-০৭-২১

১১। কামসেনী = ৪২-০৫-১০

১২। শত্রুমর্দন = ০৮-১১-১৩

১৩। জীবনলোক = ২৮-০৯-১৭

১৪। হরিরাও = ২৬-১০-২৯

১৫। বীরসেন (২য়) = ৩৫-০২-২০

১৬। আদিত্যকেতু = ২৩-১১-১৩

প্রয়োগের রাজা ‘ধন্ধব’ মগধদেশের রাজা আদিত্য কেতুকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করে। তাঁহার বংশ ৯ পুরুষ, ৩৭৪ বছর ১১ মাস ২৬ দিন রাজত্ব করে।

১। রাজা ধন্ধর = ৪২-০৭-২৪

২। মহর্ষি = ৪১-০২-২৯

৩। সনরচ্চী = ৫০-১০-১৯

৪। মহাযুদ্ধ = ২০-০৩-০৮

৫। দূরনাথ = ২৮-০৫-২৫

৬। জীবনরাজ = ৪৫-০২-০৫

৭। রুদ্রসেন = ৪৭-০৪-২৮

৮। অরীলক = ৫২-১০-০৮

৯। রাজপাল = ৩৬-০০-০০

সামন্ত মহান পাল রাজা রাজপালকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করে। সামন্ত মহান পালের ১ পুরুষ ১৪ বছর রাজত্ব করেছেন ও তাঁর কোন বৃদ্ধি নেই। এরপর রাজা বিক্রমাদিত্য অবন্তিকা (উজ্জায়নী) হইতে আক্রমণ চালাইয়া রাজা মহানপালকে হত্যা করে রাজ্যাধীকার করেন। তাঁহার বংশ ১ পুরুষ ৩৯ বছর রাজত্ব করেন। তাঁহারও কোন বৃদ্ধি নাই। শালিবাহনের মন্ত্রী সমুদ্রপাল, যোগীপৈঠনের রাজা বিক্রমাদিত্যকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করেন এবং তাঁহার বংশ ১৬ পুরুষ, ৩৭২ বছর, ৪ মাস ২৭ দিন রাজত্ব করেন।

১। সমুদ্রপাল = ৫৪-০২-২০

২। চন্দ্রপাল = ৩৬-০৫-০৪

৩। সাহায়পাল = ১১-০৪-১১

৪। দেবপাল = ২৭-০১-১৭

৫। নরসিংহপাল = ১৮-০০-২০

৬। সামপাল = ২৭-০১-১৭

৭। রঘুপাল = ২২-০৩-২৫

৮। গোবিন্দপাল = ২৭-০১-১৭

৯। অমৃতপাল = ৩৬-১০-১৩

১০। বলীপাল = ১৩-০৮-০৪

১১। মহীপাল = ১৩-০৮-০৪

রাজা মহাবাহু রাজ্য পরিত্যাগ করিয়া তপস্যার্থে বনে গমন করেন। ইহা শুনিয়া বঙ্গ দেশের রাজা আধীসেন ইন্দ্রপ্রস্থে আসিয়া নিজে রাজত্ব করেন। তাঁর বংশ ১২ পুরুষ, ১৫১ বৎসর ১১ মাস ২ দিন রাজত্ব করে।

১। রাজা আধীসেন = ১৮-০৫-২১

২। বিলাবলসেন = ১২-০৪-০২

৩। কেশবসেন = ১৫-০৭-১২

৪। মাধবসেন = ১২-০৪-০২

৫। ময়ূরসেন = ২০-১১-২৭

৬। ভীমসেন = ০৫-১০-০৯

৭। কল্যানসেন = ০৪-০৮-২১

৮। হরিসেন = ১২-০০-২৫

৯। ক্ষেমসেন = ০৮-১১-১৫

১০। নারায়ণসেন = ০২-০২-২৯

১১। লক্ষ্মীসেন = ২৬-১০-০০

১২। দামোদর সেন = ১১-০৫-১৯

রাজা দামোদরসেন তাঁর পাত্রমিত্রদিগকে অনেক কষ্ট দিতেন। এই নিমিত্ত তাঁর জনৈক পাত্রমিত্র দীপ্তসিংহ সৈন্য সংগ্রহ করিয়া তাঁহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ও তাঁকে যুদ্ধে নিহত করে স্বয়ং রাজত্ব করেন এবং তাঁহার বংশ ৬ পুরুষ, ১০৭ বৎসর ৬ মাস ২ দিন রাজত্ব করে।

১। দীপসিংহ = ১৭-০১-১৬

২। রাজসিংহ = ১৪-০৫-০০

৩। রণসিংহ = ০৯-০৮-১১

৪। নরসিংহ = ১৩-০২-২৯

৬। জীবনসিংহ = ০৮-০০-০১

কোন কারণ বশতঃ রাজা জীবনসিংহ তাঁহার সমস্ত সৈন্য উত্তরদিকে প্রেরণ করেন। বৈরাটের রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান সেই সংবাদ পেয়ে জীবনসিংহকে আক্রমণ করেন এবং তাঁহাকে যুদ্ধে নিহত করিয়া ইন্দ্রপ্রস্থে রাজত্ব করেন এবং তাঁর বংশ ৫ পুরুষ, ৮৬ বৎসর ০ মাস ২০ দিন রাজত্ব করেছেন।

১। পৃথ্বী রাজ = ১২-০২-১৯

২। অভয়পাল = ১৪-০৫-১৭

৩। দুর্জ্জব পাল = ১১-০৪-১৪

৪। উদয়পাল = ১১-০৭-০৩

৫। যশপাল = ৩৬-০৪-২৭

১২৪৯ সালে গজনীর দুর্গ হতে সুলতান শাহাবুদ্দিন ঘোরী যশপালকে আক্রমণ করে তাঁকে প্রয়োগের দুর্গে বন্ধী করে- অতঃপর সুলতান শাহাবুদ্দিন ইদ্রপ্রস্থে (দিল্লীতে) রাজত্ব করিতে আরম্ভ করে। তাঁর বংশ ৫৩ বৎসর, ১ মাস ও ১৭ দিন রাজত্ব করেছে।

ইন্দ্রপ্রস্ত তথা আর্যাবর্তের সকল রাজাদের ধারাবাহিক পরিচিতি ও রাজত্ব কালের পরিচয় প্রথম বারের মতো তুলে ধরেছিলেন মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী জী।

মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী এই তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন রাজপুতনার অন্তর্গত উদয়পুর  রাজ্যের রাজধানী, চিতোরগড়ের শ্রিনাথদ্বার হতে প্রকাশিত ও বিদ্যার্থী সম্মিলিত হরিশ্চন্দ্র চন্দ্রিকা এবং মোহঞ্চন্দ্রিকা নামক পাক্ষিক পত্রিকা হতে।

 উক্ত পত্রিকাদ্বয়ের সম্পাদক মহাশয় ১৭৮২ বিক্রমাব্দে লিখিত একখানি গ্রন্থ তাহার কোন বন্ধুর নিকট হতে প্রাপ্ত হয়ে তা থেকে সংগ্রহ করে প্রচলিত ১৯৩৯ সালে মুদ্রন করেন।

Saturday, 18 May 2024

না বলা কথা

 বামপন্থীদের ইতিহাস যতো ঘাঁটবেন, ততোই দুর্গন্ধ বেরোতে থাকবে। যদিও খুব চড়া পারফিউম দিয়ে অর্থাৎ মিথ্যাচার আর লাগাতার সেই মিথ্যার প্রচারণার মাধ্যমে সত্যকে ঢেকে রাখা হয়েছে - ইন্টারনেটের যুগে এখন আর ততটা সহজ হচ্ছে না। মগজ ধোলাইয়ের কারণে যাচাই করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা পার্টির অন্ধ ভক্তদের কাছে চ্যালেঞ্জ রইলো।


এসব তথ্য এর আগেও দেখেছেন, কিন্তু আমার কাছে থাকা বা যোগাড় করা সব তথ্য এই পোস্টে একসঙ্গে সংকলিত করার চেষ্টা করেছি। কারোর কাছে আরো তথ্য থাকলে সংযোজন করার অনুরোধ রইলো। 


আসুন, উপযুক্ত তথ্য দিয়ে আলোচনা করি। বেশ কিছু স্ক্রিনশট এখানে দিলাম যার কিছু ন্যাশনাল আর্কাইভস থেকে নেওয়া। ১ নং আর ২ নং একই সময়ের, ১৯৪২ সালের। প্রথমটা পুলিশ রিপোর্ট। বলা হয়েছে সাভারকার আর তাঁর শিষ্য বি এস মুঞ্জে হিন্দু যুবকদের মধ্যে সামরিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করছেন, যুদ্ধে যোগ দিতে উৎসাহিত করছেন, কেননা এর ফলে তারা যে মিলিটারি ট্রেনিং লাভ করবে তা ভারতের স্বাধীনতার জন্য আবশ্যক।


দ্বিতীয়টি ব্রিটিশ সরকারের একটি নথি। বলা হয়েছে এই সময় আমাদের ( অর্থাৎ ব্রিটিশ সরকারকে) কমিউনিস্ট পার্টিকে সাহায্য করা উচিত, কেননা ওদের যা মনোভাব, ওদের সাহায্য করলে বাকি জাতীয়তাবাদী দলগুলোকে দমিয়ে রাখতে সুবিধা হবে।


কারা দেশপ্রেমী, আর কারা বেইমান, বিচার করার দায়িত্ব যুক্তিবোধ সম্পন্ন পাঠকের।


৩ নং ও ৪ নং স্ক্রিনশটটি হোম সেক্রেটারি রেজিনাল্ড ম্যাক্সওয়েলকে লেখা পি সি জোশীর চিঠি। এটাও ন্যাশনাল আর্কাইভসের থেকে পাওয়া। প্রমাণের জন্য ফাইল নম্বর সহ দিতে গিয়ে দুটি ছবি দিলাম। ১৯৪২ সালে লেখা এই চিঠিতে পি সি জোশী রেজিনাল্ড ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে দেখা করে ব্রিটিশ সরকারকে সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। 


৫ নং ও ৬ নং ছবি - ন্যাশনাল আর্কাইভ থেকে নেওয়া। কমরেড পি সি যোশী কে লেখা গান্ধীর চিঠি।


গান্ধী জানতে চাইছেন - 

১. কমিউনিস্ট পার্টি কাদের পিপল বলে মনে করে? তারা কি ভারতের লোক?

২. কমিউনিস্ট পার্টির ফাইনান্স পাবলিক অডিট হতে পারে?

৩.কমিউনিস্ট পার্টি নেতা এবং ভারত ছাড় আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ধরিয়ে দিয়েছে, এটা কি সত্যি?

৪. কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেসের মধ্যে খোচড় ঢুকিয়েছে,এটা কি সত্যি?

৫.কমিউনিস্ট পার্টির পলিসি কি দেশের বাইরে থেকে ঠিক করা হয়?


ছবি নং ৭ এর দেখছি পি সি জোশী ব্রিটিশ সরকারের আই বি অর্থাৎ ইন্টালিজেন্স ব্যুরোর সঙ্গে মিটিং করেছিল। সাভারকার এইরকম কোনো মিটিং করেছিল কিনা জানা আছে কি? ছবি নং ৭ !


ছবি নং ৮ - এটা কমরেডদের মুজফ্ফর আহমেদের ব্রিটিশ দালালীর প্রমাণ। সাংবাদিক সুখ রঞ্জন সেনগুপ্তর 'শেষ পারানির কড়ি' থেকে।


পাবেন এখানে -

https://www.parabaas.com/PB64/LEKHA/brShrikumar64.shtml


ছবি নং ৯ - এটা ন্যাশনাল আর্কাইভসের থেকে নেওয়া। আম্বেদকর বলছেন ৩০০০ এর মত কমিউনিস্ট পার্টির ক্যাডার বার্মা ফ্রন্টে ব্রিটিশদের হয়ে লড়েছিল। ব্রিটিশদের থেকে টাকা আর অস্ত্র নিয়ে।


ছবি নং ১০ - কমিউনিস্ট পার্টির মোহন কুমারমঙ্গলম নিজেই পার্টির দোগলামির বিরোধিতা করছে। ন্যাশনাল আর্কাইভ থেকে নেওয়া। 


ছবি নং ১১ - তখনকার মিডিয়া। কমিউনিস্টরা ভারত ছাড়ো বা আগস্ট আন্দোলনকারীদের ওপর স্পাইং করত।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশের পক্ষ নিয়ে কাদের জানি গা গরম করা শ্লোগান - ছবি নং ১২(ফেসবুকে প্রাপ্ত)।


ছবি নং ১৩ ও ১৪ - অনুশীলন সমিতির সদস্য অগ্নিযুগের বিপ্লবী ত্রৈলক্যনাথ চক্রবর্তীর আত্মজীবনী 'জেলে ত্রিশ বছর' গ্রন্থের অংশবিশেষ । এ থেকে আমরা জানতে পারি তখন কম্যুনিস্টদের ব্রিটিশের চর হিসেবেই দেখতো দেশবাসী । তিনি কিন্তু হিন্দুত্ববাদী ছিলেন না! 


ছবি নং ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ হল সাংবাদিক মিহির বোসের 'The Indian Spy' বই থেকে নেওয়া। এখানেও বামপন্থীদের সেই একই ব্রিটিশের চর বৃত্তির আখ্যান দেখা যাচ্ছে। এই বইটা আপনি অনলাইন স্টোর থেকে কিনে পড়তে পারেন। লিঙ্ক - 

https://www.amazon.in/dp/9386021587/ref=cm_sw_r_apa_i_dtcNEbQ1QNGDE


অরুণ শৌরীর 'Only Fatherland' বইয়ের 'The great betrayal' প্রবন্ধে পাবেন রেফারেন্স সহ বামপন্থীদের বিশ্বাসঘাতকতার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ (ছবি নং ১৯)। বইটা পড়তে পারেন এখানে - https://www.goodreads.com/book/show/1632536.Only_Fatherland


কিনবেন এখানে - https://www.amazon.in/dp/935136593X/ref=cm_sw_r_apa_i_..eNEbE42C0NX


১৯৭১ এ স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে একটি রাজনৈতিক ভাষ্য প্রচার করা হত। নাম ছিল চরমপত্র। যিনি এর দায়িত্বে ছিলেন তাঁর নাম এম আখতার মুকুল।  তাঁর বাবা সাদত আলী আখন্দ ছিলেন ব্রিটিশ ইন্টালিজেন্সের অফিসার। ওনার একটা বই আছে, "তেরো নম্বরে পাঁচ বছর" ওখানেই লিখেছেন যে - বিপ্লবীদের মধ্যে অনেক ব্রিটিশ এজেন্ট ঢুকে গিয়েছিল। পরে এদের অনেকেই এক বিশেষ দলে যোগ দেয়। ছবি নং ২০। 


এখানে যান - http://library.bpatc.org.bd:8000/cgi-bin/koha/opac-detail.pl?biblionumber=41050


ছবি নং ২১ - এটা হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিজের দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে ব্রিটিশের সহযোগী ভূমিকার জন্য স্বয়ং স্ট্যালিন কমরেড ডাঙ্গেকে কান মুলে দেওয়ার কথা। 


এটি পাবেন বিখ্যাত ফ্রন্টলাইন পত্রিকার লিঙ্ক - 

https://frontline.thehindu.com/arts-and-culture/article30163909.ece


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দেশের মানুষের বিরুদ্ধে গিয়ে ব্রিটিশের সহযোগী ছিল বাম। শুধু এই কারণেই যে এদের তখনকার বিদেশী প্রভু রাশিয়া আর ব্রিটেন এক শিবিরে ছিল । অর্থাৎ এখনকার মতোই দেশের স্বার্থ নয়, এদের কাছে বরাবর বিদেশী প্রভুর স্বার্থই প্রাধান্য পেয়ে এসেছে । এ নিয়ে বামেদের ন্যক্কারজনক ভূমিকার আরো লিঙ্ক -


দ্য টেলিগ্রাফ এর লিঙ্ক -

https://m.telegraphindia.com/opinion/the-red-blunders-the-communists-have-consistently-betrayed-national-interests/cid/1027877


বিজনেস ওয়ার্ল্ড এর লিঙ্ক -

http://businessworld.in/article/The-Hate-Story-Of-India-And-Marxists/30-11-2015-88800


Indian Express এর লিঙ্ক - 

http://archive.indianexpress.com/news/the-great-communist-split/684183/


News 18 এর লিঙ্ক - 

https://www.news18.com/news/opinion/pride-of-being-bharatiya-has-been-ridiculed-by-the-communists-1799575.html


যাচাই করুন এখানে। এখানে পাবেন ন্যাশনাল আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত সিক্রেট ব্রিটিশ ইন্ডিয়া ফাইলের অনেক চিঠি পত্র। কেরালিয়াম পেজের। 


https://indictales.com/2019/09/02/communist-betrayal-of-indian-independence-movement-1942-secret-british-india-files/


সবশেষে এক্কেবারে সহী বামপন্থী লিঙ্ক দিলাম। এখানে কমরেট ডাঙ্গেকে মুচলেকা দিতে দেখা যাচ্ছে। লিঙ্ক দিলাম, সেই লিঙ্ক থেকে মুচলেকার স্ক্রিনশটও দিলাম। ছবি নং ২২। 

http://cpiml.org/library/communist-movement-in-india/documents/text-x-miscellaneous-materials/


২৩, ২৪, ২৫ ও ২৬ নং ছবি হল নেতাজীকে দেওয়া দেশভক্ত বামপন্থীদের উপাধি, তোজোর কুকুর আর কুইসলিং । বামপন্থী মুখপত্র 'দ্য পিপলস ওয়ার' এ ছাপা। 


ধর্মীয় ভেদাভেদের ঘোরতর বিরোধী হয়েও ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভেঙে শুধু মুসলমানদের জন্য আলাদা ইসলামিক রাষ্ট্র পাকিস্তানের জন্য জান লড়িয়ে দিয়েছিল বামপন্থীরা। ঠিক যেমন এখন কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদকে জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নাম দিয়ে সমর্থন করা হচ্ছে। জন্মলগ্ন থেকেই এদেশে বামপন্থীদের সব চাওয়াই একটি সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ।


২৭ ও ২৮ নং স্ক্রিনশটটি পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া। সেখানে উল্লেখ করা আছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি সম্পূর্ণরূপে পাকিস্তান আন্দোলন সমর্থন করেছিল। এমনকি সাজ্জাদ জহির আর ড্যানিয়েল লতিফি, এই দুইজন কর্মীকে মুসলিম লীগের হয়ে কাজ করতে বলা হয়েছিল পার্টির তরফে।

( যাচাই কাম্য, অবিশ্বাসীদের জন্য খোদ পাকিস্তানের কম্যুনিস্ট পার্টির লিংক দিলাম) 

https://www.cpp.net.pk/2014/11/05/why-communist-party-of-india-supported-creation-of-pakistan/) 


আরো লিঙ্ক - 

https://www.academia.edu/14288233/Role_of_the_Communist_Party_of_India_in_Pakistan_Movement_with_reference_to_the_right_of_self_-determination


২৯ নং স্ক্রিনশট ন্যাশনাল আর্কাইভসের থেকে প্রাপ্ত, এতেও সেই একই বক্তব্যের সমর্থন মেলে।


এমনকি আবুল মনসুর আহমদ এর লেখা 'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' বইতে সেই একই ঘটনার উল্লেখ করেছেন। ছবি নং ৩০ ও ৩১। যাচাই কাম্য, বইটার পিডিএফ লিঙ্ক কমেন্ট বক্সে দিলাম। 


পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অশোক মিত্র পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবে থাকবেন মনস্থির করেছিলেন, কিন্তু কোন রহস্যময় কারণে এই পারে চলে আসেন। সূত্র - উনার আত্মজীবনী 'আপিলা চাপিলা' ছবি নং ৩২ ও ৩৩ ও ৩৪। যাচাই কাম্য, এই বইটার লিঙ্কও দিলাম।


http://www.amarboi.com/2018/05/apila-chapila-ashok-mitra.html?m=1


সম্প্রতি জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে সাভারকরের নামে একটি রাস্তার নাম রাখা হলে বামপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন বোর্ডে কালি লাগিয়ে জিন্নাহর পোস্টার আটকে দেয়। 


ব্রিটিশ বা পাকিস্তানের দালাল কারা ছিল সেটা বিচার করার দায়িত্ব পাঠকদের উপর ছেড়ে দিলাম ।


আগের তো দেখলাম, এবার স্বাধীনতার পরেরও কিছু দেখি - 


এবার দেশপ্পেমের ক্যুইজ- কারা চীন ভারত যুদ্ধের সময় "ভুল করেছে ভারত। চীন ভারত আক্রমণ করে কোন ভুল করে নি" যে শুধু বলেছিল - তা নয়, যুদ্ধে আহত ভারতীয় সৈনিকদের রক্ত দিতে পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল?


বলুন, সেই দেশপ্পেমী ভারতীয়রা কারা?


বিশ্বাস হচ্ছে না..? লিঙ্ক -


১)https://www.oneindia.com/india/1962-when-cpi-said-donating-blood-to-jawans-was-anti-party-activity-2464785.html


২)http://archive.indianexpress.com/news/during-china-war-comrades-cracked-down-on-vs-for-saying-let-s-give-blood-to-jawans/488983/


সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে নিয়মিত টাকা আসতো কাদের জন্য, দেখুন - 


https://m.economictimes.com/news/politics-and-nation/soviets-paid-congress-cpi-cpi-m-members-even-in-rajiv-gandhi-era-cia/amp_articleshow/56874849.cms?__twitter_impression=true


সাতের দশকে কেজিবির শিকড় কংগ্রেস আর সিপিআই এর অনেক ভিতরে প্রবেশ করেছিল । কেজিবি বা সি আই এ কে গোপন তথ্য দেওয়া নিয়ে প্রতিরক্ষা আর বিদেশ মন্ত্রকের মধ্যে নাকি রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যেত। এই দেখে তৎকালীন #কেজিবির চেয়ারম্যান আর ভবিষ্যতে সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির জেনেরাল সেক্রেটারি ইউরি অ্যান্ড্রোপভ মন্তব্য করেছিলেন "it seems the entire country was for sale".(ছবি নং ৩৫) 


রেফারেন্স হিসেবে আমি এখন যে বইয়ের উল্লেখ করতে যাচ্ছি - তার নাম শুনে বামপন্থীদের বুকে কাঁপন ধরে। অবশ্য যারা জানেন। বামপন্থীদের বেশিরভাগই তো 'শুইন্যা বামপন্থী' বা বিরোধিতার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বামপন্থী। 

সোভিয়েত রাশিয়ার গুপ্তচর সংস্থার সদস্য ভ্যাসিলি মিত্রোখিন এর declassified secrets 'মিত্রোখিন আর্কাইভ টু' র অংশবিশেষ দেওয়া হল(ছবি নং ৩৬,৩৭,৩৮,৩৯,৪০,৪১, ৪২ ও ৪৩)


বইটি পাবেন এখানে - 


https://www.amazon.in/Mitrokhin-Archive-II-KGB-World/dp/0713993596


এই প্রসঙ্গে নির্বাচিত অংশ এখানে দেখুন - 

https://www.quora.com/What-does-Mitrokhin-Archive-tells-about-India-which-the-then-government-didnt-want-the-public-to-know


(সংকলিত)



Saturday, 9 March 2024

প্রকৃত শিক্ষিত

 আবর্জনায় কুড়িয়ে পাওয়া বই👑 দিয়ে ময়লার ট্রাক ড্রাইভারের বিশাল লাইব্রেরি.. শিক্ষিত হলেই যে কেউ শিক্ষার মর্ম বুঝবে তার কোনও মানে নেই। না হলে কেন রাস্তায় পড়ে থাকবে বই। আবার বিশাল ডিগ্রি না থেকেও কেউ হতে পারেন প্রকৃত শিক্ষিত। তেমনই একজন হোসে আলবার্তো গুটিরেজ (Jose Alberto Gutierrez)। ফেলে দেওয়া বই দিয়েই বানিয়ে ফেলেছেন আস্ত একটা লাইব্রেরি।


আলবার্তো গুটিরেজ পেশায় ময়লা বহনকারী ট্রাকের ড্রাইভার। রাতের বেলা কাজে বেরোতেন। কাজ করার সময় তিনি খেয়াল করলেন, আবর্জনার সঙ্গে বইও পড়ে রয়েছে। তা সংগ্রহ করেই বানিয়ে ফেলেছেন লাইব্রেরি। কলম্বিয়ার এই মানুষটির জীবনে ফোটেনি শিক্ষার আলো, আর সেই তিনিই সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বানিয়ে ফেলেছেন ফেলে দেওয়া বইয়ের লাইব্রেরী।


লিও টলস্টয়ের আন্না কারেনিনা বইটি যখন গুটিরেজ আবর্জনার মধ্যে খুঁজে পেলেন তিনি অবাক হয়েছিলেন। এত গুরুত্বপূর্ণ বই কিনা স্থান পেয়েছে ডাস্টবিনে! ভেবেছিলেন এই বইয়ের স্থান তো এখানে নয়। গুটিরেজ নিজে ময়লাকর্মী হতে পারেন। কিন্তু, তিনি ঠিকই টলস্টয়কে জানেন। তাই তিনি বইটি সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন আবর্জনার স্তুপ থেকে খুঁজে পেয়েছেন বিশ্বের নানা ক্ল্যাসিক বই।


গুটিরেজ বইগুলো সংগ্রহ করতে থাকলেন। সেই ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু। এখনো তিনি এই কাজ করে যাচ্ছেন। অদ্ভুত হলেও সত্যি এবং আশ্চর্যের এই যে তার সংগ্রহশালায় বইয়ের সংখ্যা ছাড়িয়ে এখন দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজারে! তিনি মনে করেন উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান যা রেখে যেতে পারি তাই হল আসল শিক্ষা।


কলম্বিয়ার বোগাটায় একটি দরিদ্র অঞ্চলে থাকেন গুটিরেজ। এই এলাকার কিশোররা পড়ার সুযোগ পায় কম। অল্প বয়সে তাদের কাজের সন্ধানে নেমে পড়তে হয়। এমনই এক এলাকায় গুটিরেজ এখন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। তার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যান্য ময়লাবাহী ট্রাক ড্রাইভাররা এখন বই পেলে তাকে এসে দিয়ে যান। তিনি শিক্ষা উপকরণ দিয়েছেন ২৩৫ টি স্কুল, কমিউনিটিকে। তার সংগৃহীত বইগুলো দিয়ে তিনি একটি কমিউনিটি লাইব্রেরি গড়ে তুলেছেন।


৫৫ বছর বয়সী গুটিরেজ গত কুড়ি বছর এই কাজ করে চলেছেন। সংগৃহিত বই তিনি দান করেন বিভিন্ন লাইব্রেরিতে। তার সংগ্রহের বইয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে ৪৫০টির বেশি লাইব্রেরি, রিডিং সেন্টার, স্কুলের পাঠকক্ষ। তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন তিনি গোটা কলম্বিয়াকে বই দিয়ে পরিপূর্ণ করবেন। 

(সংগৃহীত)


T.S. কনকা আর্মি নিউরো সার্জেন

 সাল ১৯৬২। ভারত-চীন যুদ্ধ চলছে। সীমান্তে আহত জওয়ানদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আছে। সেই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরে যোগ দিলেন ...