ভগবান , ঈশ্বর ও দেবতা
ঐশ্বর্যস্য সমগ্রস্য বীর্যস্য যশসঃ শ্রীয়ঃ ।
জ্ঞানবৈরাগ্যয়োশ্চৈব ষণ্ণং ভগ ইতীঙ্গনা ।
অনুবাদঃ- ঐশ্বর্য্য, বীর্য্য, যশ,শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য এই ছয়টি গুণকে(ষড়ৈশ্বর্য) একত্রে বলা হয় "ভগ" ।
ষড়ৈশ্বর্য কে আরো ব্যাখ্যা করলে মূলত যা বুঝায় তা হলো
১। ঐশ্বর্য = সত্যভাষণাদি শ্রেষ্ঠ গুণাবলী।
২। বীর্য্য = ব্রহ্মতেজ অর্থাৎ ব্রহ্মচর্যের যথাযথ পালন দ্বারা লব্ধ তেজ বা বল।
৩। যশ = ধার্মিক ও বিদ্বানদের নিকট প্রশংসিত হওয়া।
৪। শ্রী = অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য অর্থাৎ চারিত্রিক শুদ্ধতা বা পবিত্রতা।
৫। জ্ঞান = বেদাদি সত্য শাস্ত্রের অধ্যয়ন ও গুরুকৃপায় লব্ধ বিদ্যা, যা দ্বারা সত্য-অসত্য, ধর্ম-অধর্ম, নিত্য-অনিত্য ইত্যাদির ভেদ নির্ণয় করা যায়।
৬। বৈরাগ্য = স্ত্রী, পুত্র, ধন, মান ইত্যাদি বিষয়ের অর্থাৎ জাগতিক সুখের প্রতি মোহ বা আকর্ষণ না থাকা।
জ্ঞানশক্তিবলৈশ্বর্যবীর্যতেজাংস্যশোষতঃ।
ভগবচ্ছব্দবাচ্যানি বিনা হেয়ৈর্গুণাদিভিঃ।।
“যিনি পরম ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য--এই ষড়ৈশ্বর্য গুনযুক্ত তিনিই "ভগবান" পদবাচ্য।”
ভাবার্থঃ- যেভাবে কোন ব্যক্তি জ্ঞান ধারণ করলে তাঁকে বলা হয় জ্ঞানবান, কোন ব্যক্তি বল ধারণ করলে, তাকে বলা হয় বলবান। অনুরূপভাবে, যে কোনো ব্যক্তি যদি উক্ত ষড়ৈশ্বর্য বা "ভগ" -কে সম্পূর্ণরুপে ধারণ করেন, তিনিই "ভগবান" পদবাচ্য।
অর্থাৎ ষড়ৈশ্বর্যকে পূর্ণভাবে ধারণ করে যে কোন মানুষই ভগবান হতে পারবেন। কিন্তু, তাই বলে কখনওই ঈশ্বর হতে পারবেন না। ঈশ্বর এই ছয়গুণে সীমাবদ্ধ নন। তাঁর গুণ অনন্ত।
দেখবেন রাম কৃষ্ণ এনাদের ভগবান বলা হয় কোনদিন শুনেছেন ঈশ্বর কৃষ্ণ ঈশ্বর রাম এমনকি ভগবান রামকে পুরুষোত্তম বলা হয়েছে। মানে পুরুষদের মধ্যে উত্তম।
ঈশ্বর
যজুর্ব্বেদ - ৩৩|৩১
"ইন্দ্রং মিত্রং বরুণ মগ্নি মাহু, রথো দিব্যঃ স সুপর্ণো গরুত্মান
একং সদ্বিপ্রা বহুধা বদন্ত্যগ্নিং যমং মাতরিশ্বানমাহুঃ"
👉ঋগ্বেদ - ১|১৬৪|৪৬
অনুবাদ : এক সত্তা পরব্রহ্মকে জ্ঞানীরা ইন্দ্র, মিত্র, বরুণ, অগ্নি, দিব্য, সুপর্ণ, গরুৎমান, যম, মাতরিশ্বা আদি বহু নামে অভিহিত করেন ।
ইশাবাস্যমিদ্ঁ সর্বম্ য়ত্কিঞ্চ জগত্যাম্ জগত্"
(য়জু০ ৪০|১)
অর্থাৎ - সেই ঈশ্বর এই সম্পূর্ণ জগতে ব্যাপ্ত হয়ে তাকে আচ্ছাদিত করে আছে।
ঈশ্বর তত্বের পরিভাষা করে মহর্ষি পতঞ্জলি জী বলেছেন -
"ক্লেশকর্মবিপাকাশয়ৈপরামৃষ্টঃ পুরুষবিশেষ ঈশ্বরঃ"
(য়োগ দর্শন ১|২৪)
অর্থাৎ - অবিদ্যাদি ক্লেশ, পাপ-পুণ্য আদি কর্ম এবং তার ফল, বাসনা হতে পৃথক্ পুরুষ অর্থাৎ সম্পূর্ণ ব্রহ্মাণ্ডে ব্যাপ্ত বিরাজমান চেতন তত্বটিকে ঈশ্বর বলে।
পরমাত্মা অর্থাৎ ঈশ্বর জন্ম নেন না, এবং মৃত্যু প্রাপ্তও হোন না🙏
♦️স পৰ্য্যগাচ্ছুক্রমকায়মব্রণমস্নাবিরং শুদ্ধমপাপবিদ্ধম্ কবিৰ্মনীষ।
পরিভূঃ স্বয়ম্ভূর্যাথাতথ্যতোহর্থান্ব্যদধাচ্ছাশ্বতীভ্যঃ সমাভ্যঃ।।---যজুর্বেদ ৪০/৮
পদার্থঃ- (সঃ) পরমাত্মা (পরি) সব দিক হইতে (অগাৎ) ব্যাপ্ত আছেন (শুক্রম) সর্ব্বশক্তিমান (অকায়ম্) শরীর রহিত (অব্রণম্) ছিদ্র রহিত (অস্নাবিরম) স্নায়ু আদির বন্ধন রহিত (শুদ্ধম) দোষ রহিত (অপাপবিদ্ধম) পাপরহিত (কবিঃ) সৰ্ব্বজ্ঞ (মনীষি) অন্তর্যামী (পরিভূঃ) দুষ্টের দমন কর্তা (স্বয়ম্ভূ) জন্ম রহিত (যথাতথ্যতঃ) যথাযথভাবে (অর্থান্) সর্ব পদার্থের (বি) বিশেষ রূপে (অদধাৎ) বিধান করিয়াছেন (শাশ্বতীভ্যঃ) বিনাশ রহিত (প্রজাভ্যঃ) প্রজাদের জন্য।--যজুর্বেদ ৪০/৮
বঙ্গানুবাদঃ- পরমাত্মা সর্বব্যাপক, সর্বশক্তিমান, শরীর রহিত, রোগ রহিত, জন্ম রহিত, শুদ্ধ, নিষ্পাপ, সর্বজ্ঞ, অন্তর্যামী, দুষ্টের দমন কর্তা ও অনাদি। তিনি তাহার শাশ্বত জীবের জন্য যথাযথ ফলের বিধান করেন।
#সনাতন_ধর্মে_দেব_দেবী_কত_প্রকার❓
"অষ্টৌ বসব একাদশ রুদ্রা দ্বাদশদিত্যাস্ত একত্রিংশদিন্দ্র
শ্চৈব প্রজাপতিশ্চ ত্রয়ত্রিংশা চিতি"
=[] বৃহদারন্যকোপনিষদ ৩/৯/২ []=
#অর্থাৎ - অষ্ট বসু, একাদশ রুদ্র, দ্বাদশ আদিত্য এই কয় জন মিলিয়া একত্রিশ এবং ইন্দ্র ও প্রজাপতি মিলিয়া তেত্রিশ দেব ।
"ত্রয়স্ত্রিং শতাস্তুবত ভূতান্য শাম্যন্ প্রজাপতিঃ-
পরমেষ্ঠ্যধিপতিরাসীৎ"
=[] যজুর্বেদ ১৪/৩১ []=
#অর্থ : প্রকৃতির শাসক, প্রজার পালক সর্ব্বব্যাপক, সর্ব্বাধিপতি পরমাত্মার তেত্রিশ ভৌতিক দেব শক্তির অনুশীল কর ।
৮ বসু ,১১ রুদ্র ,১২ আদিত্য ,ইন্দ্র ও প্রজাপতি এই হলো আমাদের তেত্রিশ টি দেবতা।
#এই ৩৩ টি দেবতার ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলোঃ-
৮ বসু কাকে বলে ও কি কি ?
উত্তর:- নিখিল পদার্থ এই সবের মধ্যেই আছে
তাই এদের বসু বলা হয়।
অগ্নিশ্চ পৃথিবীশ্চ বায়শ্চান্তিরিক্ষং চাদিত্যশ্চ দ্যৌশ্চ চন্দ্রমাশ্চ নক্ষত্রাণি চৈত্রে বসব
=[] বৃহদারন্যকোপনিষদ ৩/৯/৩ []=
#অর্থ : অগ্নি, পৃথিবী, বায়ু, অন্তরিক্ষ, আদিত্য, দ্যুলোক ,চন্দ্র, নক্ষত্র সকল ইহারা অষ্ট বসু ।
৮ টি বসু হলো:-
১ ) পৃথিবী
২ ) জল
৩ ) অগ্নি
৪ ) বায়ু
৫ ) আকাশ
৬ ) চন্দ্রমা
৭ ) সূর্য
৮ ) নক্ষত্র সমূহ
১১ রুদ্র কাকে বলে ও কি কি ?
#উত্তর : "দশমে পুরুষো প্রাণা আত্মৈকাদশন্তে"
=[] বৃহদারন্যকোপনিষদঃ ৩/৯/৪ []=
#অর্থ : পঞ্চ প্রাণ এবং পঞ্চ উপ প্রাণ এই দশ এবং এক জীবাত্মা মিলে একাদশ রুদ্র ।
#একাদশ রুদ্র গুলো হল :-
১: প্রাণ
২: অপান
৩: ব্যান
৪: উদান
৫: সমান
৬: নাগ
৭: কূর্ম
৮: কৃকল
৯: দেবদত্ত
১০: ধনঞ্জয়
১১: জীবাত্মা
#এই ১১টি দেহান্তকালে রোদন করে অর্থ্যাৎ এই ১১ টি সত্ত্বা যখন একটি মনুষ্যের দেহ থেকে বেরিয়ে যায় তখন সেই ব্যক্তির মৃত্যু হয় ফলে সবাই কান্না অর্থ্যাৎ রোদন করে ওঠে বলে ইহা দিগকে রুদ্র বলে ।
#দ্বাদশ আদিত্য কাকে বলে ও কি কি ?
#দ্বাদশ উত্তর : "দ্বাদশ বৈ মাস"
=[] বৃহদারন্যকোপনিষদ ৩/৯/৫ []=
অর্থ : বৎসরে বার মাস ১২ আদিত্য ।
#দ্বাদশ আদিত্য গুলো হলো-
১ ) চৈত্র
২ ) বৈশাখ
৩ ) জৈষ্ঠ
৪ ) আষাঢ়
৫ ) শ্রাবন
৬ ) ভাদ্রপদ
৭ ) আশ্বিন
৮ ) কার্ত্তিক
৯ ) মার্গশীর্ষ
১০ ) পৌষ
১১ ) মাঘ
১২ ) ফাল্গুন!!
১২ টি আদিত্য:- ১২ মাস সকলের আয়ু হরণ করে বলে এই সকলকে আদিত্য বলে পরম ব্রহ্ম ওম্!!
পরম পিতা পরমেশ্বর সৃষ্টি উৎপত্তি সঙ্গে বেদ জ্ঞান প্রদান করলেন এবং সমস্ত সৃষ্টির কল্যাণ হেতু যজ্ঞের সৃষ্টি করলেন ।পৃথিবীর সর্বপ্রকার উন্নতির মূলে যজ্ঞ। যাজ্ঞবল্ক্য ঋষি যজ্ঞকে শ্রেষ্ঠতম কর্ম বলে অভিহিত করেছেন। পৃথিবীর যা কিছু কল্যাণমূলক কর্ম সে সবকে যজ্ঞ বলে। মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী পঞ্চ মহাযজ্ঞের কথা বলেছেন ব্রম্ভযজ্ঞ, দেবযজ্ঞ (অগ্নিহোত্র )বলিবৈশ্বদেব যজ্ঞ, পিতৃ যজ্ঞ, অতিথি যজ্ঞ, যদি পৃথিবীর সমস্ত নর নারী এই পাঁচটি যজ্ঞ নিয়মিত করে তাহলে পৃথিবীতে কোন রোগ শোক ,দুঃখ থাকেনা। এই পঞ্চ মহাযজ্ঞের মধ্যেে দেব যজ্ঞ বা অগ্নিহোত্র শ্রেষ্ঠ কেননা এই যজ্ঞে মনুষ্য ঘৃত, ঔষধি,সমীদা, সময়, বুদ্ধি ইত্যাদি দ্বারা নিজের ও সকলের উন্নতি আহুতি প্রদান করেন। এই অগ্নিহোত্র দ্বারা আমাদের সকলের শারীরিক আত্মিক ও সামাজিক দুঃখের নিরস এবং সবাই সুখ প্রাপ্ত হয়।
জগৎপিতা সৃষ্টিকর্তা পরমব্রহ্ম চিন্তা করলেন যে শ্বাস প্রশ্বাস দ্বারা এই বায়ুমণ্ডল অন্যান্য দুর্গন্ধযুক্ত ক্রিয়া দ্বারা এবং জলকে বিভিন্ন দূষিত করছে । তিনি সৃষ্টির আদিতে অগ্নি ,বায়ু, অঙ্গীরা,আদিত্য ঋষিদের মাধ্যমে মানব কল্যাণ হেতু বেদের অবতারণা করলেন এবং যজ্ঞ নামক কর্মের উপদেশ দিলেন । যজ্ঞ দ্বারা সমস্ত দেবতাদের সন্তুষ্ট করার উপায় ।যজ্ঞ থেকে উদ্ধিত সুগন্ধি ধোঁয়া অন্তরীক্ষে উপরে দ্যুলোক পৌছে যায়।বর্তমানে যজ্ঞ নিয়ে সারা বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছেন এবং তারা দেখতে পেয়েছেন যে যজ্ঞ করলে পরিবেশ শুদ্ধ হয় ক্ষতিকারক রোগ জীবাণু ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়। তার সাথে মানুষের মানসিক শান্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতি। মদ্যপানের নেশাও ত্যাগ করাতে পারে । বিভিন্ন রোগের উপকার করে যেমন সুগার ,থাইরয়েড, প্রেসার,ক্যান্সার। কৃষিকাজের উপকার হয়।
🕉সনাতন বৈদিক ধর্ম প্রচারে আমাদের বৈদিক চেতনা সংগঠনে আপনারা যুক্ত হতে পারেন। আমাদের এই সংগঠনের কার্য পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতে চাই ।
১ সনাতন বৈদিক ধর্মের আমাদের যে জ্ঞান সেই জ্ঞান আমরা বিভিন্ন গ্রামের মানুষকে দেব
২ সনাতন ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করে আপনারাও আপনার এলাকার শিশুদেরও শিক্ষা দিতে পারেন যেমন ঈশ্বরের মূখ্য নাম 🕉 জপ , ঈশ্বর উপাসনা স্তুতি প্রার্থনা মন্ত্র ,গায়ত্রী মন্ত্র, মহা মৃত্যুঞ্জয় ,ধ্যান বা মেডিটেশন ,যোগ,আয়ুর্বেদ ।
৩ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে গায়ত্রী মন্ত্র শেখানো।
৪ বৈদিক পরম্পরা যজ্ঞ শেখানো এবং প্রতিটি বাড়িতে যজ্ঞ করানোর জন্য মানুষকে উৎসাহিত করা
৫ গুরুকুল , গোশালা । সঠিকভাবে গুরুকুল শিক্ষায় শিক্ষিত যুবসমাজ ভারতবর্ষকে বিশ্বগুরু সনাতন ধর্মকে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
৬ দুস্থ ,অসহায় মানুষদের সেবা কাজ
৭সনাতন ধর্মের মূল গ্রন্থ বেদের উপর আলোচনা ও প্রচার।
৮ শুদ্ধ ধর্মীয় গ্রন্থ ক্রয় করতে পারেন আমরা ব্যবস্থা করে দেব
৯ ক্রিশ্চান মিশনারীদের যীশুবাবার নাম দিয়ে বিভিন্নভাবে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছে সনাতন ধর্মের মানুষকে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
১০ প্রকৃতিক পরিবেশ বাঁচাতে উদ্যোগ নেব।
যদি আমাদের সংগঠনে যুক্ত হতে চান যোগাযোগ করবেন।
অনলাইনে যুক্ত থাকতে
আমাদের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল
বৈদিক চেতনা /vaidic chetana
95641 56505,8145524726
এগুলি লিফলেট আকারে আমরা
সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা পেলে কোন সনাতন ধর্মের মানুষ নিজের ধর্ম ছেড়ে ধর্মান্তরিত হবেনা। তাই সবাইকে চেষ্টা করতে হবে সনাতন ধর্মকে জেনে আরো কিছু মানুষকে নিজের সনাতন ধর্ম সম্পর্কে সচেতন করা এটা সবার কর্তব্য।🙏🙏🙏
পুজো কমিটিকে আমাদের অনুরোধ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ধর্মীয় গান , বিভিন্ন মন্ত্র যেমন মহামৃত্যুঞ্জয় ,গায়ত্রী, হনুমান চালিশা, গীতার বাণী মাইক এ চালান।
মন্ত্র শুনলেও আপনাদের জীবনে মানসিক শান্তি ও আনন্দ পাবেন।
ওম্ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ
যারা ভাবেন সে ধর্মে ধর্মে লড়াই হচ্ছে এটা সম্পূর্ণ ভুল কারণ ধর্ম বলে যেগুলোকে ভাবছেন সেগুলো হচ্ছে মাজহাব বা রিলিজিয়ান এগুলি মানুষের তৈরি মত ।একমাত্র সনাতন বৈদিক হলো ধর্ম।🕉
*মনুর্ভব জনয়া দৈবং জনম্।
(ঋগ্বেদ ১০/৫৩/৬)
অর্থঃ প্রকৃত মানুষ হও এবং অন্যকেও মানুষ হিসেবে গড়ে তোল।*
🔸পবিত্র বেদ; আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমাদের আচরণ ও কার্যবিধি কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে সকল মানবজাতির সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করছি বৈদিক জীবনাচরণ পদ্ধতির সারমর্ম পবিত্র বেদের কিছু মন্ত্র ও মন্ত্রাংশের ভাবানুবাদ। 🍂
🔸. একজন বৈদিকের প্রথম লক্ষ্য থাকা উচিত তার চারিত্রিক উন্নয়ন।
ওঁ বিশ্বানি দেব সবিতর দুরিতানি পরাসুব।
যদ্ভদ্রং তন্ন আ সুব।।
(যজুর্বেদ ৩০.৩)
ভাবানুবাদ- হে পরমেশ্বর,আমি যাতে আমার খারাপ গুণসমূহ বর্জন করতে পারি এবং সদগুণ সমূহকে আয়ত্ত্ব করে নিজ চরিত্রের উন্নতি ঘটাতে পারি।
🔸. মাহিরভূর্মা পৃদাকুর নমস্ত
আতানানর্বা প্রেহি
(যজুর্বেদ ৬.১২)
অর্থাৎ হে মনুষ্য,হিংস্র বা উগ্র হয়ো না। নমনীয় ও সত্যনিষ্ঠ জ্ঞানী হও।
🔸. ম ভ্রাতা ভ্রাতরম্ অরত্যহ অথ
(অথর্ববেদ ৩.৩০.৩)
অর্থাৎ ভাই-ভাই,ভাই-বোন এবং একজন আরেকজনের সাথে কখনো বিবাদ করোনা, কখনো অন্য কারো ক্ষতি করার চেষ্টা করোনা।
🔸.মিত্রস্যাহং চক্ষুষা সর্বাণি ভূতানি সমীক্ষে
(যজুর্বেদ ৩৬.১৮)
অর্থাৎ সকল জীবকে মিত্রের চোখে দেখবে।
🔸.গরীব-দুঃখী ও বিপদগ্রস্তদের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা বৈদিক ধর্মালম্বীর কর্তব্য।
শত হস্ত সমাহার,সহস্র হস্ত সং কীর
(অথর্ববেদ ৩.২৪.৫)
অনুবাদ-আয় করতে হাতটিকে শতটিতে বৃদ্ধি করো আর দান করতে তাকে সহস্রে রূপান্তরিত করো।
"সামর্থ্যবানদের উচিত গরীবদের দান করা।তাদের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া উচিত,মনে রাখা উচিত অর্থসম্পত্তি চিরস্থায়ী নয়।রথের চক্র যেমন উৰ্দ্ধাধোভাবে ঘূর্ণিত হয়, তদ্রূপ ধন কখন এক ব্যক্তির নিকট, কখন অপর ব্যক্তির নিকট গমণ করে, অর্থাৎ এক স্থানে চির কাল থাকে না!"
(ঋগ্বেদ ১০.১১৭.৫)
কেবলাঘো ভবতী কেবলাদী,যে দরিদ্রকে অভুক্ত রেখে নিজে ভোজন করে সে প্রকারান্তরে পাপ ই ভোজন করে।
(ঋগ্বেদ ১০.১১৭.৬)
🔸.জলদূষণ,বায়ুদূষণ,মাটি দূষণ করবেন না-
মাপোমৌস্রাদ্ধিহিন্স্রী
(যজুর্বেদ ৬.২২)
অর্থাৎ পুকুর,নদী,খাল,বনাঞ্চল এসব দূষিত বা ধ্বংস করোনা।
"বায়ুতে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে বেঁচে থাকি,একে দূষিত
করোনা।"
(যজুর্বেদ ৬.২৩)
পৃথ্বীম মা হিন্সিম অর্থাত্ মাটির দূষন
করোনা।
(যজুর্বেদ ১৩.১৮)
🔸.তেন ত্যাক্তেন ভূঞ্জীথা মা গৃধ কস্য স্বিদ্ধনম
(যজুর্বেদ ৪০.১)
অর্থাৎ পরের ধনে কখনো লোভ করোনা,ত্যাগের আদর্শ বজায় রেখে ভোগ করো।
🔸.যেকোন ধরনের অশ্লীলতা বৈদিক ধরমালম্বীদের জন্য বর্জনীয়-
অধঃ পশ্যস্ব মোপরি সন্তরাং পাদকৌ হর।
মা তে কশপ্লকৌ দৃশন্ স্ত্রী হি ব্রহ্মা বভূবিথ।।
(ঋগ্বেদ, ৮/৩৩/১৯)
অর্থাৎ, হে পুরুষ ও নারী,তোমরা ভদ্র ও সংযত হও,দৃষ্টি অবনত রাখো,পোশাক-পরিচ্ছেদ ও আচরণে অশ্লীলতা ও অসভ্যতা বর্জন করো।
(ঋগ্বেদ ৮.৩৩.১৯)
🔸.অশ্লীল কথা না বলা,শোনা বা দেখা নিয়ে পবিত্র বেদ এর উপদেশ
ওঁ ভদ্রং কর্ণেভি শৃনুয়াম
দেবা ভদ্রংপশ্যেমাক্ষ ভির্যজত্রা।
স্থিরৈরঙ্গৈস্তস্টুবাঁ সস্তনুভির্ব্যশে ম
দেবহিতং যদায়ুঃ।।
(যজুর্বেদ ২৫/১১)
অর্থাৎ, হে ঈশ্বর,আমরা যেন তোমার যজন করি,কান দিয়ে শ্লীল ও মঙ্গলময় কথাবার্তা শুনি,চোখ দিয়ে শ্লীল ও মঙ্গলময় দৃশ্য দেখি।তোমার আরাধনাতে যে আয়ুস্কাল ও সুদৃড় দেহ প্রয়োজন তা যেন আমরা প্রাপ্ত হই।
🔸. দেবানাম ভদ্রা সুমতির্ঋজুযতাং.... দেবানাং সখ্যামুপ...
(ঋগ্বেদ ১.৮৯.২)
অর্থাৎ বিদ্বান ও সচ্চরিত্র লোকেদের সাথে বন্ধুত্ব করো,দুশ্চরিত্রদের অসৎদের বর্জন করো।
🔸.কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভাগ্যকে গড়ে তোল-
অয়ং মে হস্তো ভগবানয়ং...
আমার এক হাতে কর্ম,অপর হাতে বিজয়
(ঋগ্বেদ ১০.৬০.১২)
🔸.তন্মে মনঃ শিবসংকল্পমস্তু
(যজুর্বেদ ৩৪.১)
অর্থাৎ সর্বভূতের কল্যাণের মহৎ চিন্তায় নিজের মনস্থির করো।
🔸.সত্যবাদ্যতি ত্বং সৃজন্তু
(অথর্ববেদ ৪.১৬.৬)
অর্থাৎ নিজেকে সত্যবাদী হিসেবে সৃজন করো।
🔸.একজন বৈদিক ধর্মালম্বী সর্বভূতে সমদর্শী হবে।তার জন্যে কেউ ছোট নয়,কেউ বড় নয়।সকলেই এক অমৃতের সন্তান,সকলেই ভাই ভাই।
অজ্যেষ্ঠাসো অকনিষ্ঠাস
এতে সং ভ্রাতারো তাবৃধুঃ সৌভগায়
যুবা পিতা স্বপা রুদ্র
এযাং সুদুঘা পুশ্নিঃ সুদিনা মরুদ্ভঃ ॥
(ঋগবেদ ৫.৬০.৫)
বঙ্গানুবাদ : মানুষের মধ্যে কেহ বড় নয়, কেহ ছোট নয়।
ইহারা ভাই ভাই । সৌভাগ্য লাভের জন্য ইহারা প্রযত্ন করে । ইহাদের পিতা তরুণ শুভকর্ম ঈশ্বর এবং মাতা জননীরূপ প্রকৃতি। পুরুষার্থী সন্তানমাত্রই সৌভাগ্য প্রাপ্ত হন।
🔸.একজন বৈদিকের সপ্ত মর্যাদা-
সপ্ত মর্যাদা কবয়স্তস্তক্ষুস্তাসামেকামিদভ্যয়হুরো গাত্।।
(ঋগ্বেদ ১০.৫.৬)
"সপ্ত হল নিষেধসমূহ যা নির্দেশিত হয়েছে,জ্ঞানীগণ যাকে সবসময় এড়িয়ে চলেন,যেগুলো মানুষকে সর্বদাই বিপথগামী করে।"
কী সেই সপ্ত মহাপরাধসমূহ? মহর্ষি যাস্ক তাঁর নিরুক্ত সংহিতায় বর্ননা করেছেন,
"চুরি,অশ্লীলতা ও ব্যভিচার,হত্যা,ভ্রুণনিধন,অগ্নিসংযোগ,নেশা/ মদ্যপান,অসততা।"
🔸.বৈদিক ধর্ম মানবতার ধর্ম। এখানে কোন ধরনের অস্পৃশ্যতা প্রথার কোন সুযোগ নেই-
সমানী প্রপা সহ বোরন্নভাগঃ সমানে যোক্ত্রে সহ বো যুনজ্মি।
সমঞ্চোহগ্নিং সযপর্যতারা নাভিমিবাভিতঃ।।
(অথর্ববেদ ৩.৩০.৬)
অর্থাৎ,হে মনুষ্যগণ তোমাদের ভোজন ও আহার হোক একসাথে,একপাত্রে, তোমাদের সকলকে এক পবিত্র বন্ধনে যুক্ত করেছি,তোমরা সকলে এক হয়ে পরমাত্মার উপাসনা(যজ্ঞাদি,ধ্যান) করো ঠিক যেমন করে রথচক্রের চারদিকে অর থাকে!
🔸. সকল মানব একতাবদ্ধ হও,সকলে একসাথে পরস্পর মিত্র হও,সকলের মন,চিত্ত এক হোক,সকলে সুখী হোক।
(ঋগ্বেদ, মন্ডলঃ ১০, সুক্তঃ ১৯১,মন্ত্র ২,৩,৪)
সংগচ্ছধ্বং সংবদধ্বং সং বো মনাংসি জানতাম্।
দেবাভাগং য়থাপূর্বে সং জানানা উপাসতে।।২।।
অর্থঃ- প্রেমপূর্বক চল সবাই, যেন মোরা জ্ঞানী হই।
পূর্ব্বজ বিদ্বানদের অনুসরণে, কর্তব্য পালনে ব্রতী হই।।
সমানো মন্ত্রঃ সমিতিঃ সমানী সমানং মনঃ সহ চিত্তমেষাম্।
সমানং মন্ত্রমভি মন্ত্রয়ে বঃ সমানেন বো হবিষা জুহোমি।।৩।।
অর্থঃ- হোক মতামত সমান সবার, চিত্ত-মন সব এক হোক। একই মন্ত্রে যুক্ত সকলে, ভোগ্য পেয়ে সবে তৃপ্ত হোক।।
সমানী ব আকুতিঃ সমানা হৃদয়ানি বঃ।
সমানমস্তু বো মনো য়থা বঃ সু সহাসতি।।৪।।
অর্থঃ- হোক সবার হৃদয় তথা সংকল্প অবিরোধী সদা। মন ভরে উঠুক পূর্ণপ্রেমে, বৃদ্ধি হোক সুখ সম্পদা।।
▪️বৈদিক জীবনবিধি মেনে চলুন, মানব জীবনকে মহৎ, সুন্দর, শান্তিময় একটি ধরণী গড়ে তুলুন।🌸