Monday, 7 August 2023

তাজমহল।

 ইতিহাসে পড়ানো হয়েছে যে 1632 সালে তাজমহলের নির্মাণ কার্য শুরু হয়েছিল, আর প্রায় 1653 সালে এই নির্মাণ কার্য সম্পূর্ণ হয়েছিল, এবার ভাবুন মমতাজের মৃত্যু 1631 সালে হয়েছিল, তাহলে কি করে 1631 সালেই মুমতাজকে তাজমহলে কবর দেওয়া হল..? যখন তাজমহল তো 1632 সালে  সালে তৈরি হওয়া শুরু হয়েছিল..!! এইসব মিথ্যা ও মনগড়া কথা কাহিনী ইংরেজ ও মুসলিম ইতিহাসবিদরা, 18 শতাব্দীতে লিখে গেছে, আসলে 1632 সালে হিন্দু মন্দিরকে ইসলামী লুক দেওয়ার কাজ শুরু হয়, 1649 সালে এই শৈব মন্দিরের মুখ্য দরজায় কোরানের আয়াত খোদাই করে লেখা হয়, এই মুখ্য দারের ওপরে হিন্দু স্থাপত্যের নিদর্শন স্বরূপ ছোট গম্বুজের আকারে একটি মণ্ডপ আছে, এটি সৌন্দর্য বাড়ায়, চারিপাশে মিনার স্থাপন করা হয়েছে আর সামনে ফোয়ারা পুনরায় তৈরি করা হয়েছে, "J, A, MANDELSLO" মমতাজের মৃত্যুর 7 বছর পর তার ব্যক্তিগত পর্যটন বৃত্তান্তের পুস্তক "Voyages and Travels into East India" তে আগ্রার কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তাজমহলের নির্মাণ কার্য নিয়ে কোন কথা উল্লেখ করেন নি, "টমহার্নিয়ের" বক্তব্য অনুযায়ী যদি 20 হাজার মজদুর 22 বছর পর্যন্ত তাজমহলের নির্মাণ কার্য করেছিল তাহলে "MANDELSLO" নিশ্চয়ই তার পুস্তকে তাজমহলের এই নির্মাণ কার্যের কথা উল্লেখ করতেন, তাজমহলের নদীর দিকের কাঠের দরজার একটি কাঠের টুকরো আমেরিকার ল্যাবরেটরীতে কার্বন টেস্ট করা হয়েছিল, এই কার্বন টেস্ট এর ফলে জানা যায় যে ওই কাঠের টুকরোটি সম্রাট শাহজাহানের সময়কালের থেকে 300 বছর পূর্বের, কারণ তাজমহলের দরজাকে 11তম শতাব্দী থেকে মুসলিম আক্রমণকারীদের দ্বারা অনেকবার ভেঙে খোলা হয়েছে এবং আবার বন্ধ করার জন্য অন্য দরজা লাগানো হয়েছে, তাজমহল আরো পুরনো হতে পারে, কারণ এই তাজমহল যাকে আমরা তেজোমহালয় বলি এই তেজোমহালয় সাল 1115 তে বানানো হয়েছিল, অর্থাৎ শাহজাহানের সময়কালে থেকে প্রায় 500 বছর পূর্বে বানানো হয়েছিল, তাজমহলের উপরে যে অষ্টধাতুর কলসটি রয়েছে সেটি সম্পূর্ণ ত্রিশূলের আকারে একটি ঘট, তার মধ্য দন্ডের শিখরভাগের আকৃতি একটি নারকোলের মতন, নারকোলের তলায় দুটি ঝুঁকে থাকা আমের পাতা আর তার নিচে কলসটিকে দেখানো হয়েছে, চন্দ্রাকারের দুটি বিন্দু এবং তার মধ্যভাগে নারকোলের উপরিভাগ মিলে ত্রিশূল আকারের মতো দেখতে লাগে, হিন্দু আর বৌদ্ধ মন্দিরের ও এইরকম কলস দেখতে পাওয়া যায়, কবরের উপরে যে গম্বুজ আছে তার মধ্যভাগে একটি অষ্টধাতুর শিকল ঝুলে রয়েছে, শিবলিঙ্গর ওপর জল ঢালার জন্য স্বর্ণ কলস এই অষ্টধাতুর শিকল দিয়ে ঝোলানো থাকতো, এইখানেই লর্ড কার্জন একটি বাতি লাগিয়ে দিয়েছিল যেটা আজও আছে, "কবরস্থান"কে "মহল" কেন বলা হয়েছিল, "মকবরা" বা "সমাধি"কে কেন মহল বলা হয়েছিল, এটা নিয়ে কেউ কি ভেবেছিল, কারণ আগের থেকে নির্মিত একটি মহলকে কবরস্থানে বদলে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কবরস্থানে বদলে দেওয়ার সময় তার নাম আর পরিবর্তন করা হয়নি, এই জায়গাতেই শাহজাহান ভুল করে গেছে, ওই সময়ের কোন সরকারি অথবা শাহী দস্তাবেজ অথবা খবরের কাগজে "তাজমহল" শব্দটির কোন উল্লেখ ছিল না, "মহল" শব্দটি কোন মুসলিম শব্দ নয়, আরব, ইরান, আফগানিস্তান প্রভৃতি জায়গায় এমন কোন মসজিদ অথবা কবরস্থান নেই যাদের নামের পরে এই "মহল" শব্দটি বসানো হয়েছে, যদি কেউ মনে করে এটার নাম ছিল "মমতাজ মহল" তাহলেও এটা ভুল বলা হবে কারণ শাহজাহানের বেগমের নাম ছিল "মমতাজ উল জামানি", যদি মমতাজের নামে এই নাম রাখা হয়েছিল তাহলে "মমতাজমহলের" আগে থেকে "মম"কে সরিয়ে "তাজ" বসিয়ে দেবার কোন প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায় না, "ভিসেন্ট স্মিথ" তার লেখা "AKBAR THE GREAT MUGHAL" পুস্তকে লিখেছেন যে 1530 সালে আকবর আগ্রার উদ্যান সংলগ্ন মহলে তার বর্বর জীবন থেকে মুক্তি লাভ করেন, উদ্যান সংলগ্ন ওই মহলই তাজমহল ছিল, এটা এত বিশাল আর চমৎকার ছিল যে এর মতন মহল ভারতবর্ষে আর দ্বিতীয়টি ছিল না, বাবরের কন্যা "গুলবদন" তার ঐতিহাসিক বিবরণীতে লিখেছেন যে"তাজ" সব সময় একটি "রহস্যময় মহল", তাজমহলের নির্মাণ রাজা "পরমারদিদেবের" শাসনকালে 1155 সালে অশ্বিনী শুক্লা পঞ্চমীতে রবিবার হয়েছিল, পরে মহম্মদ ঘোরী ও আরো অনেক মুসলিম লুটেরা, আক্রমণকারীরা তাজমহলের মুখ্য দরজা ভেঙে অনেকবার লুটেছিল, সেই মহল আজকের তাজমহল থেকে কয়েকগুণ বড় ছিল, এর তিনটি গম্বুজ ছিল, হিন্দুরা আবার পুনরায় তাজমহলকে সংস্কার করে কিন্তু বেশি দিন তারা এই মহলকে রক্ষা করতে পারে নি, "বাস্তুশাস্ত্র" নামক বিখ্যাত গ্রন্থে এই মহলের শিবলিঙ্গকে "তেজ লিঙ্গ" নামে বর্ণনা করা হয়েছে, তাজমহলে "তেজ লিঙ্গ" প্রতিষ্ঠিত ছিল সেই জন্য আমরা তাজমহলকে "তেজোমহালয়" নামে পড়েছি এবং জানি, সম্রাট শাহজাহানের সময় ইউরোপ দেশ থেকে আগত অনেক লোকেরাই এই মহলকে তাজ-এ-মহল নামে বর্ণনা করেছেন, যেটা শিব মন্দিরের পরম্পরাগত সংস্কৃত নাম "তেজোমহালয়" নামের সাথে মিল খায়, এর বিরুদ্ধে শাহজাহান ও ঔরঙ্গজেব খুব সাবধানে পরম্পরাগত সংস্কৃত শব্দ না বসিয়ে সেই জায়গায় "মকবরা" অর্থাৎ সমাধি শব্দটির প্রয়োগ করেছিল, লেখক "পুরুষোত্তম নাগেশ ওকের" বক্তব্য অনুসারে হুমায়ুন, আকবর, মমতাজ, ইতমাতুদুল্লাহ, আর সফদরজঙ্গের মত শাহী ও দরবারেের আমলা লোকেদের সব সময়ই হিন্দু মহল বা মন্দিরে কবর দেওয়া হতো, তাজমহল হল তেজোমহালয় শিব মন্দির, এটা নিশ্চিত রূপে স্বীকার করতে হবে যে তাজমহল তৈরি হওয়ার আগে তেজোমহালয়ের মন্দিরে মমতাজের মৃতদেহ কবর দেয়া হয়েছিল তার ওপর নিশ্চিত রূপে এই তাজমহল তৈরি করা হয়, তাজমহল শব্দটি হল তেজোমহালয়ের শব্দের অপভ্রংশ শব্দ যেটা শিব মন্দিরের ইঙ্গিত দেয়, তেজো মহালয় মন্দিরে "অগ্রেশরম মহাদেব" প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, লক্ষ্য করার মতন বিষয় হলো যে ভূগর্ভস্থ ঘরে যেখানে মমতাজকে সমাধিস্থ করা হয়েছে সেখানে শুধু শ্বেত পাথর লাগানো রয়েছে, কিন্তু ভূগর্ভস্থ ঘরটির ছাদে ও দেয়ালে লতাপাতার কারুকার্য অংকন করা রয়েছে, এতে প্রমাণিত হয় যে মমতাজের সমাধিস্থ কামরাটিই হল মহাদেবের গর্ভগৃহ, শ্বেত পাথরের মধ্যে 108 টি কলস চিত্রিত আছে, হিন্দু ধর্মের পরম্পরা 108 সংখ্যাটিকে পবিত্র মানা হয়, তেজোমহালয় ওরফে তাজমহলকে "নাগনাগেশ্বর নাথ" নামেও বলা হত, কারণ মন্দিরের শিবলিঙ্গের জল প্রবাহের জায়গাটিকে নাগ বেষ্টনী দ্বারা বানানো হয়েছিল, এই মন্দির বিশাল আকারের মহল নিয়ে তৈরি ছিল, আগ্রাকে প্রাচীন কালে "অঙ্গীরা" বলা হতো, কারণ এটি "ঋষি অঙ্গীরার" তপভূমি ছিল, ঋষি অঙ্গীরা শিবের উপাসক ছিলেন, অনেক প্রাচীনকাল হইতেই আগ্রাতে পাঁচটি শিব মন্দির ছিল, এখানকার অধিবাসীরা প্রাচীনকাল থেকেই এই মন্দিরগুলিতে গিয়ে ভগবানের দর্শন ও পূজা করতেন, কিন্তু বর্তমানে কয়েক শতাব্দী ধরে শুধুমাত্র যথাক্রমে "বালকেশ্বর", "পৃথ্বীরাজ", "মনকামেশ্বর", ও "রাজরাজেশ্বর" নামক চারটি মন্দিরই অবশিষ্ট আছে, পঞ্চম শিব মন্দিরটি অনেক শতাব্দী আগে কবরস্থানে বদলে ফেলা হয়েছে, এটা নিশ্চিত রুপে যে ওই পঞ্চম শিব মন্দিরটি আগ্রার ইস্টদেব নাগরাজ  অগ্রেশ্বর মহাদেব নাগনাগেশ্বর ছিল যেটা ছিল তেজোমহালয় মন্দির, বর্তমানে তাজমহল,,,,

c.



No comments:

Post a Comment

T.S. কনকা আর্মি নিউরো সার্জেন

 সাল ১৯৬২। ভারত-চীন যুদ্ধ চলছে। সীমান্তে আহত জওয়ানদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আছে। সেই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরে যোগ দিলেন ...