পাথর আসলে কী?
*১.নীলা:-*
নীলা কী? নীলা হল কপার সালফেটের কেলাস। CuSO4, 5H 2O হল এটার রাসায়নিক নাম। তামা আর সালফার ছাড়া এর মধ্যে অন্য কোনো ধাতু বা মেটাল নেই। বাকি যা আছে তা হল পাঁচ অণু জল।এবারে এটা কীভাবে গ্রহের গতিপথ বদলে দেবে সেটা নাসার গবেষকেরা কেউ-ই বলতে পারবেন না।
*২।প্রবাল কী?*
প্রবাল হল অ্যান্থজোয়া শ্রেনীভূক্ত সামুদ্রিক প্রাণী। এদের নিকটাত্মীয় হল সাগর কুসুম। এরা সাগর কুসুমের মতই পলিপ তৈরি করে, তবে সাধারণত এরা কলোনি তৈরি করে বসবাস করে। এরা প্রাণী হলেও, জীবনের পূর্ণবয়ষ্ক অবস্থায় সাগরতলে কোন দৃঢ় তলের উপর গেড়ে বসে বাকি জীবন পার করে দেয় নিশ্চল হয়ে। প্রতিটি প্রবাল পলিপ যেখানে গেড়ে বসে সেখানে নিজের দেহের চারপাশে ক্যালসিয়াম কার্বনেট ( Ca CO3) নিঃসরণের মাধ্যমে শক্ত পাথুরে খোলস বা বহিঃকঙ্কাল তৈরি করে। একটা প্রবাল পলিপের মৃত্যুর পরেও খোলসটি রয়ে যায় এবং তা অস্মীভূত হয়ে যেতে পারে। এরকম অস্মীভূত প্রবালের দেহাবশেষের উপর নতুন করে আবার প্রবাল বসতে পারে। এভাবে একটা কলোনি বহু প্রজন্ম ধরে চলার ফলে বড়সড় পাথুরে আকৃতি ধারণ করে। এভাবেই তৈরি হয় বড় প্রবাল দ্বীপ এবং প্রবাল প্রাচীর। অস্ট্রেলিয়ার সন্নিকটে গ্রেট ব্যারিয়ার দ্বীপপুঞ্জ পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবালপ্রাচীর। রাসায়নিক ভাবে ক্যালসিয়াম কার্বনেটই হল প্রবাল।এবারে এই প্রবালের প্রস্তরীভূত দেহাবশেষ কীভাবে গ্রহের গতিপথ বদলে দিতে পারে সেটা নাসার গবেষকেরা কেউ-ই বলতে পারবেন না।
*৩.মুক্ত কী?*
ঝিনুকের মধ্যে তৈরি মুক্ত আসলে 86 % calcium carbonate (CaCO3) 2 - 4 % জল. ~ 10 % conchiolin (an organic binding agent)। তাহলে দেখা যাচ্ছে মুক্তও প্রবালের মতোই রাসায়নিক ভাবে ক্যালসিয়াম কার্বনেটই। শামুক,ঝিনুকের খোলের প্রধান উপাদান এই ক্যালসিয়াম কার্বনেট।ক্যালসিয়াম কার্বনেট কীভাবে আকাশের গ্রহের গতিপথ বদলাবে? সবচেয়ে বড় কথা প্রবাল বা মুক্ত যে আসলে ক্যালসিয়াম কার্বনেট এতটা জানেই না জ্যোতিষীরা।
*৪.চুনি (Ruby) কি?*
খনিজ বা বৈজ্ঞানিক নাম কোরান্ডাম। Al2O3. লাল বা নীল রঙের। কীভাবে ভাগ্য পাল্টাবে এই এলুমিনিয়ামের যৌগ? আর যদি পারেই বদলাতে তাহলে আপনার আমার বাড়ির এলুমিনিয়ামের হাঁড়ি, কড়াই,প্রেশারকুকার দিয়েই তো ভাগ্য বদলে ফেলা সম্ভব।
*৫.পান্না কি?*
বেরিল(বেরিলিয়াম এলুমিনিয়াম সিলিকেট)
3Be.Al2O3 6SiO3. সবুজ রঙের স্বচ্ছ পদার্থ। এটাও সেই এলুমিনিয়ামের যৌগ।সঙ্গে আছে সিলিকন। যেটা বালিতে থাকে। তাহলে পান্না না নিয়ে এলুমিনিয়ামের হাঁড়িতে কিছু বালি নিলেই তো পান্নার কাজ হওয়া উচিত।
*৬.গোমেদ কি?*
গোমেদ হল গারনেট।রাসায়নিক ভাবে এটা হল
3Mgo/CaO/MnO.Fe2O3/Cr2O3/Al2O3 3SiO3 অর্থাৎ এলুমিনিয়াম ছাড়া ক্রোমিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ক্যালশিয়াম ও লোহা আছে এতে। এটার রঙ লাল,বাদামি,কমলা হয়।এইসব মেটালগুলোর গ্রহের গতিপথ বদলানোর ক্ষমতা কীভাবে হল সেটা কোনো রসায়নবিদ বলতে বা ব্যাখ্যা করতে পারবেন না।জ্যোতিষীরা জন্মেও শোনেনি বা শেখেনি গোমেদের রাসায়নিক পরিচয়।
*৭.পোখরাজ কি?*
পোখরাজ হল টোপাজ।
Al2SiO4. স্বচ্ছ । এটাও সেই এলুমিনিয়ামের যৌগ। সঙ্গে আছে সিলিকন। যেটা বালিতে থাকে।
*৮.ক্যাটস আই কি?*
কোয়ার্টজ। SiO 2 সিলিকন ডাই অক্সাইড। এককথায় এটা বালিই। বালির রাসায়নিক রূপভেদ মাত্র। এর বদলে পকেটে কিছু বালি নিয়ে চলুন। একই রেজাল্ট পাওয়া উচিত।
*৯.হিরে কি?*
কার্বন বা C
হিরে কার্বনের রূপভেদ মাত্র।তাই দামি হিরের বদলে এক টুকরো কয়লা সঙ্গে রাখলেও একই ফল পাওয়া উচিত।
আমজনতা এত জেনে বুঝে গেলে রত্ন বা পাথর কীভাবে বিক্রি হবে? জ্যোতিষীদের ব্যবসা বা কুসংস্কার কীভাবে টিকে থাকবে?সাথে দেশের নামজাদা গ্রহরত্নের দোকানগুলোই বা রমরম করে চলবে কিভাবে ? কয়েক বছর আগে, নিশ্চয় আপনাদের মনে আছে টিভিতে, কাগজে বহুল বিজ্ঞাপন দেওয়া এক জ্যোতিষী ঘুমোতে ঘুমোতে নিজের খাটেই সিগারেটের আগুন থেকে পুড়ে মারা গেলেন। কোন পাথরই কাজ করেনি। আসলে জ্যোতিষী ব্যাপারটা মোটের ওপর বেঁচেই আছে আমার আপনার মনের দুর্বলতাকে পাথেয় করে ।
🙏🏼
No comments:
Post a Comment